ডিজিটালি রবীন্দ্র জয়ন্তী উদযাপন



সিএনবাংলাদেশ অনলাইন :

বিশ্বকবির গান বাঙালির মননে চিরন্তন অনুরণন জাগায়। তার কবিতা আর দর্শন বাঙালির অর্ন্তনিহিত আশ্রয়। এই বোধ থেকেই প্রতি বছর কবিগুরু রবীন্দ্রনাথকে নানা আয়োজনে স্মরণ করা হয়। করোনা মহামারীর কারণে এবারই প্রথম দৃশ্যমান কোনো অনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই উপযাপন হলো এই অনন্য ব্যক্তিত্বের ১৫৯তম জন্মজয়ন্তী। তবে করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে জনসমাগম পরিহারের লক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুসারে সারাদেশে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৯তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হয়। এ উপলক্ষে সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘আমি ভয় করব না ভয় করব না’ শীর্ষক প্রায় এক ঘন্টার একটি বিশেষ অনুষ্ঠান নির্মাণ করে যা আজ বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেলে একযোগে সম্প্রচারিত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা বাণী পাঠ করে শোনান জনপ্রিয় বাচিক শিল্পী ডালিয়া আহমেদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। এর আগে সমবেত কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জনপ্রিয় গান ‘হে নূতন, দেখা দিক আর-বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ’ পরিবেশিত হয়।

কবিগুরুর বিখ্যাত কবিতা ‘দুঃসময়’ আবৃত্তি করে শোনান আরেক জনপ্রিয় বাচিক শিল্পী মাহিদুল ইসলাম। রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী অদিতি মহসীন এর কণ্ঠে ‘আমি মারের সাগর পাড়ি দেব বিষম ঝড়ের বায়ে’ পরিবেশনের পর নুনা আফরোজ এর রচনা, পোষাক ও মঞ্চ পরিকল্পনা এবং নির্দেশনায় ‘প্রাঙ্গণেমোর’ নাট্যদলের নাটক ‘আমি ও রবীন্দ্রনাথ’ এর অংশবিশেষ দেখানো হয়। ডালিয়া আহমেদ আবৃত্তি করেন রবীন্দ্রনাথের আরেক জনপ্রিয় কবিতা ‘বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, নদেয় এল বান’।

এরপর শিল্পী আজিজুর রহমান তুহিন গেয়ে শোনান রবীন্দ্রনাথের গান ‘যেতে যেতে একলা পথে নিবেছে মোর বাতি’ এবং মাহিদুল ইসলাম আবৃত্তি করে শোনান ‘বিপদে মোরে রক্ষা কর এ নহে মোর প্রার্থনা’। সমবেত কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত ‘প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে মোরে আরো আরো আরো দাও প্রাণ’ পরিবেশনের পর ডালিয়া আহমেদ পুনরায় আবৃত্তি করেন রবীন্দ্রনাথের আরেক বিখ্যাত কবিতা ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ‘।

লিয়াকত আলী লাকী’র নির্দেশনা ও লোক নাট্যদলের পরিবেশেনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাটক ‘রথযাত্রা’র গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ পরিবেশনের পর ‘বাঙালি সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে রবীন্দ্রনাথের অবদান’ শীর্ষক কথিকা পাঠ করেন কৃষ্টি হেফাজ। সমবেত কণ্ঠে জনপ্রিয় রবীন্দ্রসংগীত ‘আকাশ ভরা সূর্য-তারা, বিশ্বভরা প্রাণ, তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ১৫৯তম রবীন্দ্র জয়ন্তীর এ বিশেষ অনুষ্ঠান যৌথভাবে আয়োজন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও বাংলাদেশ টেলিভিশন।

প্রতি বছরই রবীন্দ্র জয়ন্তীতে অনুষ্ঠান আয়োজন করে ছায়ানট। এবার ডিজিটাল মাধ্যমে ছায়ানট নিবেদন করে ‘ওই মহামানব আসে’ শিরোনামের অনুষ্ঠান। ছায়ানটের ইউটিউব চ্যানেলে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রচার হয় অনুষ্ঠানটি। এতে রবিঠাকুরের গান, আবৃত্তি পরিবেশিত হয়। এটি গ্রন্থণা করেছেন সন্জীদা খাতুন।

অন্যদিকে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী ও ক্যালকাটা কয়্যার যৌথভাবে সকাল ১০টা-১২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টার অনুষ্ঠান করে ফেসবুক লাইভে। এতে পরিবেশিত হয় সংগীত, নৃত্য, কবিতা। ফেসবুকে লাইভ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থিয়েটার পত্রিকা ‘ক্ষ্যাপা’। তিনটি পর্বে রবীন্দ্র জয়ন্তীর অনুষ্ঠান করে তারা। এতে বিকেল ৪টায় আলাপনে অংশ নেন নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান। পরে রাত ৯টায় শিশুদের জন্য বিশেষ আয়োজনে পাপেট পরিবেশন করবেন নওশাবা আহমেদ ও তার দল ‘টুগেদার উই ক্যান’। সবশেষে রাত সাড়ে ১০টায় গান ও পাঠ অভিনয়ে অংশ নেন গুণী অভিনয়শিল্পী অপি করিম ও নন্দিত সংগীতশিল্পী ফারহিন খান জয়ীতা। ক্ষ্যাপার ফেসবুক পেইজ থেকে আড্ডাটি সরাসরি সম্প্রচার হয়।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার (আইজিসিসি)। বৈশ্বিক করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এই আয়োজনটিও আইজিসিসি’র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের পেইজে সম্প্রচার করা হয়। রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে ‘ট্রিবিউট টু রবীন্দ্রনাথ ট্যাগোর: এ রে অব হোপ থট ট্যাগোরস ফিলোসফি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে আইজিসিসি। অনুষ্ঠানটি গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় আইজিসিসি’র ফেসবুক পেজে সম্প্রচার করা হয়। এই আয়োজনে অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ, ভারতের শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক এবং অনুবাদক অধ্যাপক ফখরুল আলম এবং ভারতের অনুবাদক ও গবেষক অধ্যাপক রাধা চক্রবর্তী। এছাড়া অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনসের (আইসিসিআর) সভাপতি ড. বিনয় সহস্রবুদ্ধি। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার ড. রীভা গাঙ্গুলি দাশ।

নাট্যসংগঠন বটতলা আয়োজন করে গল্প, কথা ও কবিতায় আমাদের কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ শীর্ষক অনুষ্ঠান। এতে অংশ নেয় শব্দপাপড়ি একাডেমি ও ফাইন আর্টসের শিশু-কিশোরেরা। বটতলার ফেসবুক পেইজে অনুষ্ঠানটি দেখা যায়। আবৃত্তি সংগঠন হরবোলা ৭-৯ মে, তিন দিনের অনুষ্ঠান সাজিয়েছে। এতে বাংলাদেশ ও ভারতের আবৃত্তি শিল্পীরা আবৃত্তি পরিবেশন করছেন।

শেয়ার করুন!