প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা: বেসরকারি শিক্ষকরা এমপিও ভূক্তিতে হয়রানির শিকার!



প্রতীকী ছবি।
জুনেদ আহমদ চৌধুরী :

বেসরকারি শিক্ষকদের এমপিও ভূক্তিতে চরম হয়রানির ঘটনা ঘটছে। এনিয়ে সৃষ্টি হয়েছে গুঞ্জন। এছাড়া সিলেট বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের এমপিও’র অনলাইন আবেদন ফেরত (Back to Applicant’s) দেয়া নিয়েও বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। নামেমাত্র সামান্য বা মনগড়া অজুহাত দেখিয়ে শিক্ষক কর্মচারীদের এমপিও আবেদন ফেরত পাঠাচ্ছে সংশ্লিষ্ট অফিস কতৃপক্ষ। এ ক্ষেত্রে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, জেলা শিক্ষা অফিস এবং উপ-পরিচালক এর কার্যালয় কেউ থেকে কেউ কম নয়। সব থেকে বড় ধস নেমে এসেছে উপ-পরিচালকের কার্যালয় থেকে।

উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিস যাচাই বাচাই শেষে উপরিচালকের কার্যালয় থেকে ফেরত আসা আবেদন নিয়ে নাম না প্রকাশ করার শর্তে জনৈক শিক্ষক তার মনের আকুতি তুলে ধরেন।

পাঠকদের জন্য সার অংশ তুলে ধরা হল:-

“সদ্য এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের বেতনের সরকারি অংশের জন্য নির্ধারিত ওয়েবসাইট এ অনলাইনে আবেদন করতে হয়। একজন শিক্ষক টানা এক বা দুইযুগের উপর হাড় ভাঙ্গা হার না মানা পরিশ্রম করার পর সম্পূর্ণ ফলাফল ও পারফর্মেন্সের উপর ভিত্তি করে দীর্ঘ ১০ বছর পর যখন জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা ও শিক্ষকের উন্নয়নকল্পে নতুন এমপিওভূক্তি ঘোষণা করলেন, তখনও কিছু আমলাদের হতাশ হতে হল। এর মধ্যে যাচাই বাছাই করার জন্য তারা অজুহাতের উপর অজুহাত দাঁড় করে সময় ক্ষেপন করতে লাগলেন। তার পরেও জননেত্রী চোখ রাখছিলেন। এই বৈশ্বিক করোনার মহামারীর মধ্যে শিক্ষকদের কথা চিন্তা করে তড়িৎ গতিতে ঈদের আগে নতুন এমপিও ভুক্ত প্রতিষ্ঠানের গেজেট প্রকাশ করলেন। এবং বলে দিলেন ঈদের আগে যেন শিক্ষক কর্মচারীদের বিগত জুলাই থেকে বেতন প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়। আমাদের কর্তা ব্যক্তি আমলারা তাইরে-নাইরে করে ১৯ এপ্রিলের স্বাক্ষর করা গেজেট ২৮ এপ্রিল প্রকাশ করলেন। সময় দিলেন এই চরম লক ডাউনের মধ্যে ২ মে থেকে ৪ মে ‘২০ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে। অনেক অনুনয় বিনয় করে তা একদিন একদিন করে ৬ মে ‘২০ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এই সময়ে একটি ওয়েবসাইট EMIS এ Login করে ১৬৩০ প্রতিষ্ঠানের (প্রায় ৫ জন করে প্রতি প্রতিষ্ঠান) শিক্ষক কর্মচারীদের রেজিষ্ট্রেশন সহ আবেদন করা কত কঠিন ছিল, তা ভুক্তভোগী ছাড়া কেহ অনুমান করা কঠিন। EMIS সেল এত ব্যস্ত ছিল যে, খোদ কর্তা ব্যক্তিরাই ঢুকতে পারেন নাই।

”সকল শিক্ষক কর্মচারী প্রায় সকল তথ্য সংযুক্ত করলেও Others Documents সংযুক্ত করেন নি। কারণ এখানে কি সংযুক্ত হবে, তা সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তা ব্যক্তিও বলে দিতে পারেন নি। ফলে শিক্ষক কর্মচারীরা যে যাহা বুঝেছেন তাই সংযুক্ত করেছেন। এখন সকল আবেদন DD Office ফেরত পাঠাচ্ছে, এই বলে যে, এখানে সকল অভিজ্ঞতা সনদ ও স্কেল পরিবর্তনের এমপিও কপি সংযুক্ত হবে।”

এটা কেমনে হয়? Others Documents কীভাবে উল্লেখিত সনদ ও এমপিও কপি হয় কি করে? এটা হয়রানির নতুন মাত্রা নয় কি?

”আর যদি হয়েও যায়, তাতেও তো বাঁধা নেই। আপনার হাতে আরো অস্ত্র আছে। ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল ষ্টাম্পে সভাপতি ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের অঙ্গীকার নামা নিছেন। আর কি চাই আপনার?

এটা একটি খোড়া অজুহাত মাত্র। শিক্ষক কর্মচারীদের হয়রানি করার করার অপকৌশল। আরে সাহেব বলে দিতেই পারতেন যে, আমরা আপনাদের সচ্ছলতা সহ্য করতে পারি না। আপনারা বেসরকারি, বেসরকারি’ই থাকেন। আপনাদের আবার ঈদ আছে নাকি?
পরিশেষে, এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এই ভুক্তভোগী শিক্ষক।”

শেয়ার করুন!