সকল ভার্সিটির জন্য অনলাইন পাঠদান নীতিমালা হচ্ছে



সিএনবাংলাদেশ ডেস্ক :

অনলাইন শিক্ষাধারায় দেশের সরকারি ও বেসরকারি সব বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে একটি পৃথক নীতিমালা করতে যাচ্ছে সরকার। এ নীতিমালা কার্যকর হলে সব বিশ্ববিদ্যালয়কেই অনলাইন পাঠদানের আওতায় আসতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) এ নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন করতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে মহামারির সময়ে বন্ধ থাকা সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-গুলোতে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে এই নীতিমালা করা হচ্ছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
চলতি মাসে মঞ্জুরি কমিশন দেশের সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়ার অনুমতি দিলেও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দূরশিক্ষণে খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
ইউজিসি সূত্র জানায়, এমন পরিস্থিতিতে এই নীতিমালা জারি করা হলে সরকারি-বেসরকারি সব বিশ্ববিদ্যালয়কেই অনলাইনের শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হবে। মহামারির মধ্যে আরও কতদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়, তা কেউ বলতে পারছে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম সচল করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ রোববার বলেন, এই নীতিমালা হলে তা সরকারি-বেসরকারি সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যই প্রযোজ্য হবে। কমিশনের সদস্য অধ্যাপক দিল আফরোজা বেগমকে এ সংক্রান্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যেহেতু অনলাইনের প্রয়োজনীয়তা সবাই অনুভব করছে, ভবিষ্যতে সব বিশ্ববিদ্যালয়কে যেন একটা নির্দেশনা দিতে পারি, সেজন্য এই নীতিমালা করা হচ্ছে।
নীতিমালা তৈরির কার্যক্রম শুরুর পর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছ থেকে এ বিষয়ে মতামত নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান। তবে মহামারির কারণে বন্ধের মধ্যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ফলে সেশনজটে পড়তে যাচ্ছে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।
এ পরিস্থিতিতে কমিশনের সদস্য অধ্যাপক দিল আফরোজা বেগমকে আহ্বায়ক করে গত শনিবার আট সদস্যের কমিটি করে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় নীতিমালা প্রণয়নের দায়িত্ব দেয় ইউজিসি।
কমিশনের অন্য দুই সদস্য অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন ও অধ্যাপক মুহাম্মদ আলমগীরকে এই কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের প্রতিনিধি এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।
ইউজিসির সচিব ড. ফেরদৌস জামানকে কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইউজিসির এক কর্মকর্তা জানান, অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের ভূমিকা ও কার্যকারিতা নিয়ে জরিপের প্রশ্ন ঠিক করে তা সবগুলো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে পাঠানো হয়েছে।
যেসব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনও ওই প্রশ্নপত্র পূরণ করে পাঠায়নি, সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, বিভাগীয় প্রধান এবং ফ্যাকাল্টি সদস্যদের তা পূরণ করে আগামী ২০ মের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে।
দেশে বর্তমানে ৪৬টি সরকারি এবং ১০৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন রয়েছে। এর মধ্যে নতুন অনুমোদন পাওয়া কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়নি।

শেয়ার করুন!