করোনা’য় সুইডেনে ৮ বাংলাদেশির মৃত্যু



সিএনবাংলাদেশ ডেস্ক :

ইউরোপের দেশ সুইডেনে ১৫ হাজারের মতো বাংলাদেশি বাস করেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত কতজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তার সঠিক হিসাব জানা যায়নি। কারণ করোনায় আক্রান্ত ও মৃত ব্যক্তিদের জাতীয়তা প্রকাশ করে না দেশটির স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্তৃপক্ষ। তবে স্থানীয় কমিউনিটি ও বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রের দেওয়া তথ্যমতে, সুইডেনে ৮ বাংলাদেশির প্রাণ কেড়ে নিয়েছে প্রাণঘাতী এ ভাইরাস। আর শতাধিক বাংলাদেশি এ মহামারীতে সংক্রমিত হয়েছেন। তবে দেশটিতে শিক্ষার উদ্দেশে পাড়ি জমানো বাংলাদেশি তরুণরা খুবই বিপাকে আছেন। তারা বাংলাদেশের স্থানীয় দূতাবাসে আর্থিক সহায়তার জন্য যোগাযোগ করলেও সরকারের বরাদ্দ না থাকায় সহায়তা করা হয়নি।

গতকাল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সুইডেনে ২৯ হাজার ২০৭ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন; প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার ৬৪৬ জন। ইউরোপের আরও দুটি দেশ নরওয়েতে ২ হাজার এবং ফিনল্যান্ডে ৩ হাজার বাংলাদেশির বাস হলেও দেশ দুটিতে তাদের কারও করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

করোনার বিস্তার ঠেকাতে ইতালি, স্পেন, জার্মানিসহ ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ লকডাউনে গেলেও ব্যতিক্রমী সুইডেনে খোলা আছে অফিস, ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

জানা গেছে, সুইডেনে বাংলাদেশিদের জন্য সার্বক্ষণিক হটলাইন নাম্বার চালু করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। এ ছাড়া ১৫ সদস্যের একটি চিকিৎসক পুল ২৪ ঘণ্টা টেলিমেডিসিন সেবা দিয়ে যাচ্ছে। করোনাকালে সাহায্য চেয়ে কিছু বাংলাদেশি দূতাবাসে যোগাযোগ করলেও বরাদ্দ না থাকায় তাদের আর্থিক সাহায্য করা যায়নি বলে জানিয়েছেন সুইডেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাজমুল ইসলাম। প্রতিবেশী রাষ্ট্র নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডেও বাংলাদেশ সরকারের এ মুখপাত্র জানান, ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে আর্থিক বরাদ্দের জন্য আবেদন করা হয়েছে। ইউরোপের দেশগুলোয় আটকেপড়া বাংলাদেশিদের ফেরাতে বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হলে সুইডেন ও নরওয়ে থেকে আগ্রহী ৪ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়, জানান তিনি।

গনমাধ্যমকে নাজমুল ইসলাম বলেন, সুইডেনে বাংলাদেশি যারা আছেন, তাদের অধিকাংশেরই অরিজিন বাংলাদেশ হলেও সুইডিশ নাগরিক। এ দেশে মৃতদের জাতীয়তা প্রকাশ করা হয় না। তবে কমিউনিটি থেকে পাওয়া তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ৮ বাংলাদেশি করোনায় মারা গেছেন। তিনি আরও জানান, করোনার এ ক্রান্তিকালেও সুইডেনে সব কিছু খোলা আছে, খোলা আছে বাংলাদেশের দূতাবাসও। সব কার্যক্রম বরাবরের মতোই চলমান আছে। তবে অতীব প্রয়োজন ছাড়া সশরীরে বাংলাদেশি দূতাবাসে আসতে তাদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

করোনা প্রাদুর্ভাবের পর থেকেই বাংলাদেশ দূতাবাস সার্বক্ষণিক হটলাইন নম্বরসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জানিয়ে নাজমুল ইসলাম বলেন, আমরা ১৫ সদস্যের একটি চিকিৎসক পুল করেছি। তারা ২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশিদের টেলিমেডিসিন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এ সেবা নিয়ে অনেকেই উপকৃত হয়েছেন; এ পদক্ষেপ প্রশংসিত হয়েছে।

এদিকে করোনার প্রভাবে বিপাকে রয়েছেন দেশটিতে অধ্যয়নরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সুইডেনে লকডাউন দেওয়া না হলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়। যারা পড়াশোনার পাশাপাশি খ-কালীন কাজ করতেন, তাদের বেশির ভাগের কাজ চলে যাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। বাংলাদেশ দূতাবাসের হটলাইন নম্বরে আর্থিক সহায়তার জন্য কয়েকজন যোগাযোগ করলেও সহায়তা পাননি।

লকডাউন নয়, বরং সব কিছু স্বাভাবিকভাবে খোলা রেখেই করোনাবিরোধী যুদ্ধে নেমেছে সুইডেন। তবে অসুস্থ বোধ করলে বা কোভিড-১৯ উপসর্গ দেখা দিলে যে কেউ চাকরি থেকে ১৪ দিন ছুটি নিতে পারছেন। এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে অবশ্য দেশটির মানুষের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সুইডিশ সরকার মনে করে, জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সব রকম স্বাস্থ্যবিধি ও দিকনির্দেশনা মেনে চলবে, নিজেরাই তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। লকডাউনে না যাওয়ার নেপথ্যে সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি হিসেবে আরও বলা হচ্ছে, লকডাউন চলাকালে ভাইরাসের প্রকোপ কিছুটা কমানো সম্ভব হলেও তা হবে সাময়িক। লকডাউন তুলে দেওয়ার পর ব্যাপক আকারে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা থেকে যায়। এ ছাড়া লকডাউন না করলে অর্থনীতির স্বাভাবিক গতি অপেক্ষাকৃত সচল থাকবে; দেশের সার্বিক আর্থিক ক্ষতি হবে কম।

সুইডেনে ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় মৃতের হার অনেক বেশি। এর পাশাপাশি আক্রান্তদের সুস্থতার হারও বেড়েছে। আক্রান্ত অনেকেই হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাসেবা নেওয়ার পরিবর্তে বাসাতেই থাকছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন এবং সুস্থতা লাভ করছেন।

শেয়ার করুন!