সিলেটে আসামিরা জামিনে এসে বাদিনির উপর ফের হামলা, দু’ঘন্টা জিম্মি !



সরেজমিন ঘটনার ছবি-সিএনবাংলাদেশ।
নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা দায়ের করার পর জামিনে এসে ফের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে বাদি সালেহা বেগমের উপর। ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১৮ মে) সকাল ১০টার দিকে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ৩নং-তেতঁলি ইউনিয়নের লামাপাড়া গ্রামে। এসময় দৌড়ে পালিয়ে গিয়ে বাদি সালেহা বেগম রক্ষা পেলেও সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচতে পারেন নি এক দিনমজুর শ্রমিক । তার অপরাধ ছিলো প্রবাসী শামছুল ইসলামের বসতবাড়িতে এসে টয়লেট’র ড্রেইন ও পাইপ পরিস্কার করতে আসা। সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে দিবালোকে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে থাকে ধাওয়া করে ধরে নিয়ে এসে ঘরবন্দি করে রাখে প্রায় দু’ঘন্টা। পরে ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ওই দিনমজুর শ্রমিক’কে উদ্ধার করে। সে হলও একই গ্রামের মৃত-মছলম মিয়ার ছেলে হুশিয়ার।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী শামছুল ইসলামের বসতবাড়ি সহ ধনসম্পদ ছিনিয়ে নেওয়ার পায়তারা করছে লুটতরাজ সন্ত্রাসীরা। এর পূর্বে বিগত (১৮ মার্চ) গভীর রাতে প্রবাসীর বাড়িঘর ভাঙচুর লুটপাট সহ প্রবাসীর চাচী সালেহা বেগমকে মারধর-শ্লীলতাহানী ঘটায়। এ ঘটনায় সালেহা বেগম নিজে বাদি হয়ে দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে দু’দিনের মাথায় এজাহারভুক্ত গডফাদার হেলাল সহ আরও দু’জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে কারাগারে প্রেরণ করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার ছবি- সিএনবাংলাদেশ।

একপর্য্যায় আসামীরা জামিনে এসে বাদিনীকে খুন, গুমের ফের চক্রান্ত করতে থাকে। অবশেষে লকডাউন ও সিয়াম সাধনার মাস রমজান’র মধ্যে ক্ষোভের জের মেটাতে লাঠিসোটা নিয়ে হামলে পরে বাদিনীসহ দিনমজুর শ্রমিকের উপর।

বিগত ১৮ মার্চ গভীর রাতে প্রবাসীর বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট, ছবি-সিএনবাংলাদেশ।

‘পূর্বের ঘটনার হলনায়ক (১) আলতা মিয়ার ছেলে হেলাল আহমদ, (২) ছৈল মিয়ার ছেলে সেলিম মিয়া (৩) পিতা মৃত সিদ্দেক আলীর ছেলে গিয়াস উদ্দিন আদালত হতে জামিন লাভ করেন। সোমবার সকালে তাদের সাথে যোগ দেন (৪) পিতা মৃত তোতাঁ মিয়ার ছেলে আলতা মিয়া ও অপর ভাই (৫) ছৈল মিয়া, (৬) পিতা ছৈল মিয়ার ছেলে শামীম আহমদ ও একই এলাকার পিতা মৃত আব্দুল খালিকের ছেলে লায়েক আহমদ। এদের সকলের হাতে লাঠিসোটা দেখতে পাওয়া গেছে।’

ইটপাটকেল ও হামলার আলামত ছবি-সিএনবাংলাদেশ।

এদিকে ঘটনার সংবাদ পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ফিরিয়ে আনতে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা তাদেরও ধাওয়া করেছে বলে গ্রামের একটি সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে সালেহা বেগমের সাথে আলাপ হলে তিনি প্রতিবেদক’কে জানিয়েছেন, তাদের বাড়ির সীমানার ভেতরে একটি টয়লেট রয়েছে। কিন্তু ইদানিং টয়লেটের পাইপ লিক হয়ে যাওয়ায় ওই দিনমজুরকে ডেকে আনেন। অথচ কাজে ধরতে না ধরতে সন্ত্রাসীরা তার উপরে হামলে পড়ে এবং তাকে ধরে নিয়ে ঘরের মধ্যে আটকিয়ে জিম্মি করে রাখে প্রায় দু’ঘন্টা। এর প্রতিবাদ করতে গেলে তাকেও ধাওয়া করলে তিনি কোন রকমে দৌড়ে পালিয়ে গিয়ে প্রাণে রক্ষা পান। একপর্য্যায় তিনি কোন উপায়ান্তর না পেয়ে ‘‘ত্রিফল ৯৯৯-এ’’ কল দেন। এর কিছুক্ষন পরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এসময় তিনি বলেন, ঘটনার সর্ম্পকে থানায় আরেকটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এনিয়ে দক্ষিণ সুরমা থানার এসআই রিপন জানিয়েছেন পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধিন রয়েছে।
এঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজও সিএনবাংলাদেশ প্রতিবেদকের হাতে সংরক্ষিত রয়েছে।

শেয়ার করুন!