‘স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির সাথে জড়িতদের আইনের মুখোমুখি করা হবে’



প্রতীকী ছবি।
স্টাফ রিপোর্টার :

স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি দমনে কঠোর অবস্থান নেয়া হয়েছে। তাই অনুসন্ধান ও তদন্ত করে এ খাতের দুর্নীতিতে জড়িত যেই হোক না কেন অবশ্যই আইনের আওতায় এনে তাদের মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। রবিবার দুদক কর্তৃক গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। একইসঙ্গে করোনায় সরকারীভাবে মাস্ক-পিপিই ক্রয় দুর্নীতির অনুসন্ধানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ তিন সংস্থায় তথ্য চেয়ে দুদকের অনুসন্ধান টিম চিঠি পাঠিয়েছে। রবিবার করোনায় স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতির অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য দুদক কর্তৃক গঠিত ৪ সদস্যের টিমের প্রধান পরিচালক মীর মোঃ জয়নুল আবেদীন এ চিঠি পাঠান। চিঠিতে আগামী ৩০ জুনের মধ্যেই সকল তথ্য প্রদান করতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি দমনে দুদক কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। আজই মাস্ক-পিপিইসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সামগ্রী ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ তিনটি প্রতিষ্ঠানে বিশেষ বাহক মারফত তথ্য-উপাত্ত চেয়ে অতীব জরুরী পত্র দেয়া হয়েছে। দুদক আইন, ২০০৪ ও দুদক বিধিমালা-২০০৭ অনুসারে এসব চিঠি দেয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি সবাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব তথ্য ও রেকর্ডপত্র দিয়ে দুদককে সহায়তা করবেন। দুদক একটি পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের মাধ্যমে অপরাধ এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করতে চায়। অপরাধী যেই হোন না কেন তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। আমি আগেও বলেছি আজও বলছি এসব ক্ষেত্রে অপরাধীদের সামাজিক, পেশাগত বা অন্য কোন পরিচয় কমিশন ন্যূনতম গুরুত্ব দিবে না। অপরাধীদের আইনের মুখোমুখি করা হবেই।

দুদক সূত্র জানায়, করোনায় স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি অব্যাহত থাকায় এবার বেশ জোরেশোরেই মাঠে নেমেছে দুদক। অভিযোগ আসার পর এ পর্যন্ত কি ব্যবস্থা নিয়েছে মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো তার বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছে দুদক। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তদন্ত টিমের প্রধান মীর মোঃ জয়নুল আবেদীন শিবলী প্রথমেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতর ও কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের যথাক্রমে সচিব, মহাপরিচালক ও পরিচালক বরাবরে তথ্য ও রেকর্ডপত্র চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে এ সংশ্লিষ্ট সকল প্রকার তথ্য ও রেকর্ডপত্র সরবরাহের অনুরোধ করা হয়। জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় স্বাস্থ্য সরঞ্জামাদি/যন্ত্রপাতি (মাস্ক, পিপিই, স্যানিটাইজার, আইসিইউ যন্ত্রপাতি, ভেন্টিলেটর, পিসিআর মেশিন, কোভিড টেস্ট কিট ও অন্যান্য) ক্রয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় শুরু হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত গৃহীত প্রকল্পসমূহের নাম, বরাদ্দকৃত ও ব্যয়িত অর্থের পরিমাণ এবং বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য অধিদফতর বা সিএমএসডি) তথ্য। এছাড়া মেসার্স জেএমআই হসপিটাল রিক্যুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিঃ, ঢাকাসহ অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি। ২৬ মার্চ ২০২০ থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন কারণে যেসব ডাক্তারকে বদলি করা হয়েছে তাদের নাম, পদবী, বর্তমান কর্মস্থল, পূর্ববর্তী কর্মস্থল, মোবাইল নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্যাদি চাওয়া হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ও কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালকের কাছেও বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

শেয়ার করুন!