বিশ্বনাথে দুই সহোদরকে কুপিয়ে, উল্টো মামলা



সিএনবাংলাদেশ :

সিলেটের বিশ্বনাথে জমির দখল নিতে দুই সহোদরকে পিঠিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। উপরন্তু আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রতিপক্ষের লাঠিয়াল বাহিনীর প্রধান বিশ্বনাথের বেতসান্দি মুন্সিবাজার ফরহাদপুর দক্ষিণ পাড়ার সোনা মিয়া হামলার নেতৃত্ব দিয়েও বাদি হয়ে মামলা করেছেন। ওই মামলায় আহতদের আরেকভাই রাজু মিয়া ঘটনার সময় সিলেটে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করলেও মামলায় তাকেও আসামি দেখানো হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার অলঙ্কারী ইউনিয়নের ফরহাদপুর গ্রামের উত্তরপাড়ার মরহুম হীরা মিয়ার মেয়ে জাহানারা বেগম।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ফরহাদপুর মৌজার জেএল-৩৩ এবং ৩৮৪ খতিয়ানের ৮২৫ দাগের ২১ শতক মূলবান কৃষি জমির উপর সোনা মিয়া গংদের লোভ। এই লোভে অভিযুক্ত সোনা মিয়া ও তার লাঠিয়াল বাহিনী গত ৩০ মে বেলা ২টায় তার দুই ভাইকে জমিতে ধানের চারা রূপন করা অবস্থায় দেশিয় অস্ত্রসহকারে হামলা চালিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। ঘটনাটি পরখ করেছেন এলাকার লোকজন। ভাইদের বাঁচাতে তারা বোনরা এগিয়ে গেলে তাদের হেনন্তা করেন প্রতিপক্ষের লোকজন। এমনকি অভিযুক্তরা তার হাতের বালাসহ স্বর্ণালঙ্কার লুটে নেয়।

এখানেই শেষ নয়, ঘটনার পর আহত দুই সহোদর ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করালে মামলা না করতে চাপ দেন এক চিকিৎসক। ওই চিকিৎসক হুমকি দিয়ে বলেন, মামলা করতে গেলে মেডিকেল সার্টিফিকেটে (এমসি) মাথার আঘাত, হাত-পা ভেঙেছে, কিছুই উল্লেখ করবো না। যে কারণে নিরাপত্তার বিষয়টি চিন্তায় এনে পরদিনই রোগিদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান।

লিখিত বক্তব্যে জাহানারা বেগম বলেন, হামলাকারী সোনা মিয়া গংরা এলাকায় উশৃঙ্খল প্রকৃতির লোক। তাদের ভয়ে এলাকার লোকজন তটস্থ থাকেন। গোষ্ঠি বড় হওয়াতে ক্ষমতা ও লাঠির জোরে এলাকার লোকজনকে শাসন করছে তারা। তাদের কথার বাইরে যেমন কেউ যেতে পারেনা, তেমনী যে ভূমির উপর তাদের লালস, সেটা প্রভাব খাটিয়ে কিংবা হামলা করে দখল নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। একইভাবে আমার ভাইদের হত্যার চেষ্টা করেছে। ঘটনার পরদিন ৩১ মে থানায় মামলা দিলেও পুলিশ রেকর্ড করেনি, ঘটনাস্থলেও যায়নি। এরপর ৪ জুন ফের থানায় গেলে এজাহার কপি হারিয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানান কর্তব্যরত এক নারী পুলিশ কর্মকর্তা। পরে অবশ্য পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পায়। এরপরও অভিযুক্ত সোনা মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা নিতে চলে গড়িমসি। অবশেষে ১০ জুন রাতে মামলাটি দায়ের করা হলেও এর এক ঘন্টা আগে অভিযুক্তদের মামলা রেকর্ড করে থানা পুলিশ। এতে করে বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন জাহানারা বেগম।

তার মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- বিশ্বনাথ উপজেলার অলঙ্কারী ইউনিয়নের বেতসান্দি মুন্সিবাজার এলাকা ফরহাদপুর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার মৃত কনাই মিয়ার ছেলে সোনা মিয়া (৫০), তার ছেলে শাকির মিয়া (২৮) ও আরিফ মিয়া (২৭), সমুজ মিয়ার ছেলে সায়েম মিয়া ( (২৬), ফুল মিয়ার ছেলে জামিল মিয়া (২৫), সানুর মিয়ার ছেলে আসিফ মিয়া (২৩)। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাত ছিলেন দু’জন। পরে তাদের নাম জানতে পারেন। তারা হলেন অভিযুক্তদের একই মহল্লার মৃত মনাই মিয়ার ছেলে সমুজ মিয়া (৪৯) ও আব্দুর রহমানের ছেলে খসরুল (৩৪)।

তিনি বলেন, তার দুই ভাই এখনো আশঙ্কামুক্ত নয়। তারা একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ হামলা করেও মামলা দিয়েছে তাদের লোকজন আহত দেখিয়ে। কিন্তু তাদের কেউ আহত নেই। এ অবস্থায় তারা চরম বিপদের মধ্যে আছেন। ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি থেকে আসা যাওয়া করছেন। প্রতিপক্ষের লোকজন কর্তৃক হামলা বা অপহরণের শঙ্কায় রয়েছেন তারা। এ জন্য সরকার ও প্রশাসনের সর্ব মহলের সহযোগীতা চেয়েছেন ভোক্তভোগীরা।

শেয়ার করুন!