জৈন্তাপুরে প্রভাবশালীদের হুমকিতে বাড়ি-ঘর ছাড়ল একটি পরিবার!



ট্রাক দিয়ে বসতঘরের আসবাবপত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, ছবি-সিএনবাংলাদেশ ।
জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি :

সিলেটের জৈন্তাপুরে প্রভাবশালীদের হুমকিতে বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়েছে একটি পরিবার। সেন্ট্রাল জৈন্তাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ফেইসবুক পেইজের মাধ্যমে ও কয়েকটি অনলাইন পোর্টলে সংবাদ প্রকাশ করাকে কেন্দ্র করে লন্ডন প্রবাসী পরিবারকে হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছে একটি প্রভাবশালী চক্র।

”জৈন্তাপুর উপজেলার সেনগ্রামের একটি প্রভাবশালী পরিবার লন্ডন প্রবাসী পরিবারকে হুমকী দেয় এবং বাড়ীর গেইট ভেঙ্গে খুন,গুম ও হামলারও হুমকী দেয়। এই অব্যাহত হুমকীর কারনে অবশেষে লন্ডন প্রবাসী পরিবারের ৩ সদস্য বৃদ্ধ মা-বাবা ও ছোটবোন জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে বসতবাড়ী ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়।”

জানা গেছে, সেন্ট্রাল জৈন্তা উচ্চ বিদ্যালয়ের “নবযাত্রা, উত্থানকাল ও একজন হেডস্যার” নামে এক সাংবাদিক ফিচার নিউজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশ করেন। প্রকাশিত সংবাদের একটি পর্যায়ে তৎকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের কঠিন সময়ের বর্ণনা করতে গিয়ে একজন মেধাবী ছাত্র হত্যাকান্ডের প্রসঙ্গে লিখা হয়। ছাত্র হত্যার বর্ণনাকে কেন্দ্র করে উপজেলার সেনগ্রামের পরস্পর আত্মীয় দুটি পরিবারের মধ্যে ভূল বোঝা বোঝি হয়। এসব কেন্দ্র করে কিছুদিন হতে নানাভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুটি পক্ষের মধ্যে কথোপকথন হয়।

”বিষয়টি নিয়ে গত (২৩ জুন) মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে এক জনৈক ব্যক্তি মোস্তাফিজুর রহমান সুমনের ইন্দনে সুহেল আহমদের নেতৃত্বে কিছু সংখ্যাক দুর্বৃত্ত ওই লন্ডন প্রবাসীর বাড়ীতে অনধিকার প্রবেশ করে প্রকাশ্যে দিবালোকে খুন, গুমসহ প্রাণনাশের হুমকী প্রদান করে এবং ছয় ঘন্টার মধ্যে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলে। অন্যতায় বাড়ির গ্রিল ভেঙ্গে প্রবাসীর বৃদ্ধ পিতা-মাতা ও বোনের হাত-পা ভেঙ্গে-কেটে ফেলে দিবে বলে হুমকী ধমকী দেয়। এসময় সোহেল আহমদের সহযোগীরা প্রবাসীর বাড়ীর বাহিরে অবস্থান করে।”

লন্ডন প্রবাসী আবু শাহাদৎ মোঃ সুহেল জানান, আমার চাচা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা যিনি দেশ রক্ষার জন্য মহান মুক্তিযোদ্ধের সময় সম্মুখ যুদ্ধে সক্রিয় অংশ গ্রহন করে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেন। মোস্তাফিজুর রহমান সুমন বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা আখ্যা দিয়ে সম্মানহানির অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে এবং নানান ধরনের বিভ্রান্তীকর মন্তব্য করছে। অপরদিকে আমার জন্মদাতা পিতাকে নিয়ে এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে নানা ধরনের কটাক্ষ করে আসছে। এছাড়া আমার মামা মাষ্টার শফিকুর রহমান সব সময় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে আমার পিতাকে অশ্লিল ভাষায় গালি গালাজ করে আসছেন। তাদের নানা মূখি নির্যাতনে আমার পিতা মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারছেন না। একান্ত বাধ্য হয়ে অন্য মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করতে হচ্ছে। এসময় লন্ডন প্রবাসী আরও জানান, আমার পিতা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবং আমার মুক্তিযোদ্ধা চাচা মাষ্টার বেলাল আহমদকে নিয়ে কুৎসা রটনা করার জন্য আমরা প্রতিবাদ করি। এই প্রতিবাদকে পারিবারিক জায়গা-জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব বলে সামাজের অপপ্রচার করে প্রকৃত ঘটনা তারা আড়াল করতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমাদের সাথে জমি-জমা, টাকা পয়সা নিয়ে কোন দ্বন্ধ নেই কিন্তু তারা জমি জমা নিয়ে দ্বন্ধ রয়েছে বলে অপপ্রচারে লিপ্ত। হুমকী প্রদানকারীরা আত্মীয় হওয়ার কারনে আমরা নিরব এবং লোকলজ্জার ভয়ে মান সম্মানের কারনে নিরব থাকায় তারা আমাদেরকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে আমার পিতা-মাতাকে হুমকী ধমকী দিচ্ছে। বিষয়টি আমরা কর্ণপাত না করে সামাজিকতা বজায় রেখে চলাফেরা করে আসছি। সম্প্রতি সেন্ট্রাল জৈন্তাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়ার কারনে প্রতিপক্ষ আমাদের উপর দোষারোপ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গালি-গলাজ সহ নানা ভাবে হুমকী-ধমকী দিচ্ছে। তাতে আমরা কোন কিছু না বলার কারনে একপর্যায় মোস্তাফিজুর রহমান সুমনের পরোক্ষ প্রতক্ষ্য মদদে সামাজিক ভাবে তাদের সুনাম নষ্ট করতে সোহেল আহমদ সহ ৮/১০ জনের একটি চক্র (২৩ জুন) মঙ্গলবার সকাল অনুমান ৯টায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়ীতে ঢুকে এবং প্রবাসীর বৃদ্ধ বাবা মোঃ আব্দুল্লাহ, বৃদ্ধ মা হাওয়ারুন নেছা এবং ছোট বোনকে প্রকাশ্যে হুমকী প্রদান করে। এছাড়া ৬ ঘন্টার মধ্যে আমরা এসে সোহেলের পায়ে ধরে ক্ষমা চাইতে হবে নতুবা তা না হলে বাড়ী ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকী দেয়।

এবিষয়ে জানতে প্রতিবেদক হুমকী প্রদানকারী সোহেল আহমদের বাড়ীতে গেলে থাকে পাওয়া যায়নি। এবিষয়ে মাষ্টার শফিকুর রহমান এর সাথে আলাপকালে তিনি হুমকীর বিষয় শুনেছেন বলে জানান। তবে তার ছেলে এঘটনার সাথে কোন ভাবেই সম্পৃক্ত নয় বলে জানান। আপনার ছেলে লন্ডন প্রবাসীদের হুমকী ধমকী দিয়ে আসছে এমন অডিও রেকর্ডে শুনা যাচ্ছে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন এই বিষয়ে আমার জানা নেই।

এব্যাপারে জানতে জৈন্তাপুর মডেল থানার (ওসি) শ্যামল বনিক জানান, এরকম ঘটনার বিষয় আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করব।

শেয়ার করুন!