সিলেটে আকস্মিক বন্যায় পানিবন্দি কয়েক লক্ষাধিক মানুষ



সিএনবাংলাদেশ অনলাইন :

গত তিন দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেটে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে নদ-নদীর পানি। প্লাবিত হয়েছে ৮টি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। পানিবন্দি হয়েছেন কয়েক লক্ষাধিক মানুষ।

পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে জেলার জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নিন্মাঞ্চল। এছাড়াও সিলেট সদর, জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, বিশ্বনাথ ও বালাগঞ্জ উপজেলায় নদীর পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

Image may contain: sky, outdoor, nature and water

জাফলং প্লাবিত, ছবি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট উপজেলায় বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি জানান, নদীর পানি বাড়তে থাকায় সিলেটের জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চল ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

Image may contain: one or more people and outdoor

গোয়াইনঘাট উপজেলার তোয়াকুল ইউনিয়নের বীরকুলী গ্রামের পানি বন্দী মানুষ, ছবি।

এদিকে, কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাটে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। গোয়াইনঘাট উপজেলার পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষকে আশ্রয় দিতে একটি সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়াও ৬০টি স্কুলকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব।

তিনি বলেন, ‘পানিবন্দি মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়াসহ সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। তবে, করোনাভাইরাসজনিত সংক্রমণ বৃদ্ধির বিষয়টা বিবেচনায় নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।’

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। আকস্মিক বন্যায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। বন্যাকবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মহাসড়ক ব্যতিত উপজেলার সকল কাঁচা-পাকা রাস্তা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। থানাবাজার, টুকেরবাজারসহ বেশিরভাগ বাজারঘাট তলিয়ে গেছে। উপজেলা পরিষদের মাঠ, থানা রোড ও টিএন্ডটি রোডে কোমর সমান পানি।

এছাড়া ঢালারপাড়-মোস্তফানগর বেড়িবাঁধ, চাঁনপুর গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়ি, বিভিন্ন এলাকার কাঁচা-পাকা রাস্তা ও কালভার্টের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যা পরিস্তিতি মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। উপজেলার ৩৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে। বানভাসি লোকজন বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন আচার্য জানান, বন্যাকবলিত এলাকার খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। বন্যার্তদের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। উপজেলায় ত্রাণের চাহিদা জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেট কার্যালয় জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ০.৩৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
অন্যদিকে, সারি নদীর পানি সারিঘাট পয়েন্টে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিপৎসীমার ০.১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সুরমা নদীর পানি সিলেট পয়েন্টে শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় বিপতসীমার ১০.৫৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া কুশিয়ারা নদীর পানির উচ্চতা জকিগঞ্জ উপজেলার আমলশিদ পয়েন্টে শনিবার সন্ধ্যায় উচ্চতা বেড়ে হয়েছে ১৪.৮৩ সেন্টিমিটার। বিয়ানীবাজারের শেওলা পয়েন্টে কুশিয়ারার পানির উচ্চতা শনিবার সন্ধ্যায় ছিল ১২.১৫ সেন্টিমিটার। আর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারার পানির উচ্চতা আজ সন্ধ্যা ৬টায় হয়েছে ৯.২৪ সেন্টিমিটার। এদিকে, কানাইঘাটের লোভা নদীর পানি আজ সন্ধ্যায় দাঁড়িয়েছে ১৫.০০ সেন্টিমিটার।

সিলেটের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার রাত এবং রবিবার দিনেও বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। ফলে নদীর পানি বাড়তে পারে।

শেয়ার করুন!