রাতে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে বাবা-মেয়েকে পেটালো পুলিশ!



সিএনবাংলাদেশ অনলাইন :

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ সদর উপজেলায় গভীর রাতে এক ব্যক্তির বাড়ির দরজা ভাঙার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। শুধু তাই-ই নয়, ওই ব্যক্তি ও তার মেয়েকে মারধর করে থানায় নেওয়ার অভিযোগ করেছে তাদের পরিবার।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেছেন, কথিত ‘ধর্ষণের’ ঘটনায় মামলা দায়েরের নামে থানায় নিয়েও তাদের নির্যাতন করেছে পুলিশ। তাদের দিয়ে জোর করে লিখিত অভিযোগও নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি তাদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগী ব্যক্তির ছেলে জানান, গত ১৫ দিন আগে তাদের এক প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়েছিল তার বোন। ওই বাড়ির এক যুবক ওই তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করে। মান-সম্মান এবং ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমঝোতা করা হয়। ভুক্তভোগী ও বিবাদী পক্ষের সমঝোতার বিষয়টি পুলিশ জানতে পারে।

ভুক্তভোগী কিশোরীর ভাইয়ের অভিযোগ, গত শুক্রবার রাতে মেহেন্দিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবিদুর রহমান তার বাবাকে ফোন দিয়ে এ ঘটনার ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে বলেন। কিন্তু ঘটনা নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই ও থানায় কোনো অভিযোগ করবেন না বলে পুলিশকে জানিয়ে দেন তার বাবা। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওসি আবিদুরের নেতৃত্বে মেহেন্দিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদ এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) অনিমেষসহ ৪ পুলিশ সদস্য সাদা পোশাকে তাদের বাড়ি গিয়ে ডাকাডাকি করে। দরজা খুলতে রাজি না হওয়ায় তাদের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে পুলিশ। তার বাবা বাড়ির ভেতরে অন্য একটি ঘরে ছিলেন। পুলিশ সেটিও ভেঙে ফেলে। তারা বাড়ির ভেতর আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং তার বাবাকে বেদম মারধর করে। পরে তার বোনসহ বাবাকে টেনে হিঁচড়ে থানায় নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী কিশোরীর ভাই অভিযোগে জানান, শনিবার সকালে বাবা ও বোনকে থানায় নিয়ে যান তিনি। সেখান তাকেও মারধর করে পুলিশ। থানায় আটকে রেখে তার কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষরও নেয়।

তিনি (ভুক্তভোগীর ছেলে) আরও জানান, বাবা ও বোনের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, তাদের কাছ থেকেও জোর করে অভিযোগ পত্রে স্বাক্ষর আদায় করেছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন মেহেন্দিগঞ্জ থানার ওসি আবিদুর রহমান। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘যা বলার তার ঊর্ধ্বতন অফিসার বলবেন।’

ঘটনার বিষয়ে কথা হলে বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নাঈমুল হক বলেন, ‘ওই ব্যক্তির মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। এতে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তার অবৈধ গর্ভপাত করা হয়। তারা ভয়ে মামলা করতে পারেনি। খবর পেয়ে পুলিশ ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে পুলিশের কাছে অভিযোগ দিলে থানায় মামলা দায়ের হয়। ওই ব্যক্তির ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ কিংবা তাদের মারধর করে জোর করে অভিযোগ আদায়ের অভিযোগ সঠিক নয়।’

শেয়ার করুন!