ইসিতে ভুল হিসাব জমা দিল জাপা



সিএনবাংলাদেশ অনলাইন :

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী প্রতিটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নির্বাচন কমিশনে পূর্ববর্তী পঞ্জিকা বছরের (জানুয়ারী- ডিসেম্বর) আয়-ব্যয়ের হিসাব দেয়ার কথা থাকলেও সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি হিসেব দিয়েছে অর্থবছরের। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে দলটির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে এ হিসেব দেয়া হয়েছে।

জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারি হিসাবে ক্যালেন্ডার বছর বলতে তারা জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত সময়কেই মনে করেন। সে অনুযায়ী তারা এই সময়কার আয়-ব্যয়ের হিসাব দিয়েছে। আগের বছরও তারা এটাই করেছে। অপরদিকে নির্বাচন কমিশন বলেছে, জাতীয় পার্টি কোন সময়কালের হিসাব জমা দিয়েছে, সেটা আমরা এখনও দেখিনি। তবে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, পূর্ববর্তী পঞ্জিকা বছরের হিসাব কমিশনকে দিতে হবে।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে এ হিসাব বিবরণী জমা দেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, ফখরুল আহসান শাহজাদা ও যুগ্ম দফতর সম্পাদক মাহমুদ আলম।

নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, পার্টির আয় এক কোটি ৯৬ লাখ ২২ হাজার ৫৪৫ টাকা। আর ব্যয় দেখানো হয়েছে এক কোটি ৭৬ লাখ ৯৯ হাজার ৫৭০ টাকা। উদ্বৃত্ত দেখানো হয়েছে ১৯ লাখ ২২ হাজার ৯৭৫ টাকা। দলটির পক্ষ থেকে জানা হয়েছে- সদস্যদের বার্ষিক চাঁদা এবং ডোনেশেন থেকে এ আয় হয়েছে। তাছাড়া নির্বাচন, দল পরিচালনা, অফিস, কর্মচারীদের বেতন- ভাতা , ত্রাণ বিতরন ইত্যাদি ক্ষেত্রে তাদের এ ব্যয় হয়েছে। উদ্ধৃত্ত অর্থ দলটির ব্যাংক হিসেবে জমা আছে।

এর আগের অর্থবছরে জাতীয় পার্টির আয় ছিল এক কোটি ৯৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা এবং খরচ হয়েছিল এক কোটি ২০ লাখ ২৬ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনে ২০১৯-২০ অর্থবছরের হিসাব জমা দিয়েছি। সরকারিভাবে ক্যালেন্ডার বছর বলতে আমরা জুলাই থেকে জুন সময়কালকে বুঝি। আগের বছরও জাপা নির্বাচন কমিশনে একইভাবে হিসাব জমা দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে হিসাবে ভুলভ্রান্তি থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইসি চাইলে সংশোধনী দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের উপ-সচিব আব্দুল হালিম খান জানিয়েছেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-এর রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা অনুযায়ী, পূর্ববর্তী পঞ্জিকা বছরে দলের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ইসির কাছে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা ২০১৯ সালের নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেবার জন্য নিবন্ধিত দলগুলো চিঠি দেই। সে অনুযায়ী দলগুলো আগে পরে হিসেব জমা দেয়।

শেয়ার করুন!