যুক্তরাজ্যে সিগারেটের বিকল্প হিসেবে ভেপিংয়ের পরামর্শ



ফাইল ছবি।
সিএনবাংলাদেশ অনলাইন :

তুলনামূলক কম ঝুঁকির কথা বিবেচনায় যুক্তরাজ্যে প্রচলিত সিগারেটের পরিবর্তে ভেপিং ব্যবহার উৎসাহিত করতে বলেছে দেশটির স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ান (আরসিপি)।

তামাক এবং তামাকজাত পণ্যের ক্ষতি হ্রাস নিয়ে করা এক গবেষণায় রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ান দেখতে পেয়েছে, তামাকজাত সিগারেটে যে ক্ষতি হয়, তার তুলনায় কেবল ৯৫ শতাংশ নিরাপদ ভেপিংয়। গবেষণার এই তথ্য দেখে, রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ান যুক্তরাজ্যের ধূমপায়ীদের আশ্বস্ত করছে, প্রচলিত সিগারেটের তুলনায় ভেপিং অনেক নিরাপদ। ভেপিং ধূমপানে আসক্তির প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

যারা ধূমপান করেন না, ভেপিং তাদের জন্যও নয়। বরং যারা তামাকজাত সিগারেটে আসক্ত, তাদের আসক্তি হ্রাসের উপায় হিসেবেই ই-সিগারেট ব্যবহারে পরামর্শ দিচ্ছে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের এই সংগঠন।

ধূমপান ছাড়ার উপায় নিয়ে নানান গবেষণা হয়েছে। তবে নিত্যদের অভ্যাস এবং এর সাথে শারীরিক ও মানসিক বিষয়ও সম্পৃক্ত থাকায় হুট করে ধূমপান ছাড়া যায় না। যুক্তরাজ্যেও এই সংক্রান্ত নানান গবেষণার পর ভেপিংকে ধূমপানে আসক্তি কমানোর অন্যতম কার্যকর উপায় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ানের তামাক সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির প্রধান অধ্যাপক জন ব্রিটন বলেন, প্রচলিত সিগারেটের হিসেবে ভেপিংয়ের প্রচলন নিয়ে বেশ বিতর্ক ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতেই এই গবেষণা হয়, যাতে ভেপিং সংক্রান্ত আগের গবেষণা, স্বাস্থ্য নীতিমালা, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা, শরীরের নিকোটিনের প্রভাব পর্যালোচনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, তাদের গবেষণায় প্রতিয়মান হয়েছে, ভেপিংয়ের ঝুঁকি প্রচলিত সিগারেটের তুলনায় অনেক কম। তবে এই খাতে কোনো বড় ধরনের ঝুঁকি এবং দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য যথাযথ নীতিমালা এবং নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেন তিনি।

যুক্তরাজ্যে ২০০৭ সাল থেকে ভেপিংয়ের প্রচলন শুরু হয়েছে। এরপর থেকে সেখানে উল্লেখযোগ্য হারে ধূমপায়ীর সংখ্যা কমেছে। আরসিপির ২০০ পাতার ওই গবেষণার হিসাবে, ভেপিংয়ের প্রচলন শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাজ্যে ধূমপায়ীর সংখ্যা ১৮ শতাংশ কমেছে।

২০১৯ সালে এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে ভেপিংয়ের সাহায্য নিয়ে বছরে ৫০ হাজার থেকে ৭০ হাজার মানুষ ধূমপান ছাড়তে সফল হচ্ছেন। বিজ্ঞান-সাময়িকী ’অ্যাডিকশন’-এর এক নিবন্ধে জানা যাচ্ছে, ২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যে ৫০ হাজার ৭০০ থেকে ৬৯ হাজার ৯৩০ ধূমপায়ী ভেপিংয়ের সহায়তায় ধূমপান ছেড়েছেন।

পাবলিক হেলথ অব ইংল্যান্ড তাদের ২০১৫ সালের গবেষণায় দেখেছে, সাধারণ সিগারেটের তুলনায় ভেপিং ৯৫ ভাগ কম ক্ষতিকর। এই পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস ধূমপান ছাড়ার জন্য ভেপিংয়ের পরামর্শ দিচ্ছে।

আরসিপি প্রেসিডেন্ট জেন ডাকরে বলেন, ধূমপান কারণে সৃষ্ট মৃত্যু এবং অন্য ব্যাধি থেকে বেরোনোর অন্যতম উপায় হচ্ছে ঝুঁকি হ্রাস। আর এই প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে ভেপিং।

যুক্তরাজ্যের অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট, বাংলাদেশেও তামাক এবং তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার হ্রাসের ক্ষেত্রে, ধূমপানের হার হ্রাসের ক্ষেত্রে কার্যকর উপায় হতে পারে ভেপিং। বাংলাদেশেরে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ই-সিগারেট নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছার আগে এ সংক্রান্ত বিভিন্ন গবেষণা, তথ্য-উপাত্ত ভালোভাবে পর্যালোচনা করা উচিত।

শেয়ার করুন!