সীমান্ত থেকে পুলিশ সদস্যকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ



প্রতীকী ছবি।
পঞ্চগড় প্রতিনিধি :

পঞ্চগড় উপজেলার সদরের হাড়িভাসা ইউনিয়নের মমিনপাড়া ভারতীয় সীমান্ত এলাকা থেকে বাংলাদেশি এক পুলিশ সদস্যকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ধরে নিয়ে গেছে। রোববার রাতে নীলফামারি ৫৬ বিজিবির আওতাধীন ওই সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫৩ এর ৭ ও ৮ নং সাব পিলার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

স্থানীয়রা জানায়, রোববার রাত ৯ টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে তিনজন মমিনপাড়া সীমান্তের কাছে যান। এ সময় মমিনপাড়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের সিপাইপাড়া মহল্লার ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে তাদের তর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে ভারতের চানাকিয়া বিওপির বিএসএফ সদস্যদের খবর দেয় ভারতীয় নাগরিকরা। এ সময় তাদের দুইজন পালিয়ে আসলেও ওমর ফারুক নামে এক পুলিশ সদস্যকে আটক করে বিএসএফ সদস্যদের হাতে তুলে দেয় ভারতীয়রা।

বিএসএফের কাছে আটক পুলিশ সদস্য ওমর ফারুক পঞ্চগড় জেলা জজ আদালতে নিরাপত্বার দায়িত্বে কর্মরত বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, মোশারফ হোসেন নামে এক পুলিশ সদস্যকে প্রায় ওই সীমান্তে দেখা যায়। তিনি অন্য দুইজনকে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যান। মোশারফ ভারতীয় মাদক চোরাচালানকারীদের সঙ্গে মাদক ব্যবসায় জড়িত বলেও দাবি স্থানীয়দের।

সীমান্তবর্তী গ্রাম মমিনপাড়ার বাসিন্দা কুলছুম বেগম বলেন, ‘রাত ৮টার পর তিনজন মাদকের জন্য ভারতে ঢুকে পরে। তাদের সঙ্গে ভারতীয় লোকদের ঝগড়া হয়। তারা বিএসএফকে খবর দেয়। বিএসএফ এসে একজনকে ধরে নিয়ে যায় এবং দুই জন পালিয়ে আসেন। রাতেই আমরা শুনেছি বিএসএফের হাতে আটক ব্যক্তি পুলিশ এবং পালিয়ে আসাদের মধ্যে আরেকজন পুলিশ ছিল।’

বিজিবি ঘাগড়া কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মো রুহুল আমিন বলেন, আমরা এ ব্যাপারে স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনেছি। তবে কে কখন এবং কেন ভারতীয় সীমান্তে গেছেন আমরা জানতে পারিনি। আমরা বিএসএফের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা একজনকে আটকের কথা নিশ্চিত করেছেন। বিজিবির পক্ষ থেকে উভয় দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক বা চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আবু আক্কাছ আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ওই পুলিশ সদস্য আদালতে বিচারকদের নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তার ব্যবহৃত মোটরসাইলেকটি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। তার সঙ্গে আরও দু’জন ছিলেন বলে আমরা শুনেছি। তবে কারা ছিলেন এবং কেন সীমান্ত এলাকায় গিয়েছিলেন এ বিষয়ে আমরা এখনও নিশ্চিত না। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

তবে পঞ্চগড়ের অতিরিক্তি পুলিশ সুপার সুদর্শন কুমার রায় জানান, কোন পুলিশ সদস্যকে বিএসএফ ধরে নিয়ে গেছে কিনা, তা বিজিবির পক্ষ থেকে এখনো জানানো হয়নি। এ বিষয়ে আমরাও খোঁজ খবর নিচ্ছি। আমরা সঠিকভাবে জেনে পরে বিস্তারিত জানাতে পারবো।

শেয়ার করুন!