খাদিমপাড়ায় শুভাসের নেতৃত্বে চলছে ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি উত্তোলনের হিরিক!



শুভাস, সংগৃহীত ছবি।
জুনেদ আহমদ চৌধুরী, সিলেট :

সিলেটের খাদিমপাড়া ইউনিয়ন এলাকায় শুভাসের নেতৃত্বে চলছে পরিবেশ বিধ্বংসি ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি উত্তোলনের হিরিক। শাহপরাণ (রহ.) থানা পুলিশের কতিপয় সদস্যকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে দিবালোকে চলছে এসকল কার্যকলাপ। এর গডফাদার হলেন, ইসলামপুর মেজরটিলার নাথপাড়া এলাকার শুভাস নামক ব্যক্তি। তার মূল বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলায় হলেও তিনি দীর্ঘদিন থেকে নাথপাড়া অমিত’র দোকানের পার্শ্ববর্তী একটি ভাড়াটিয়া বাসা বিল্ডিংয়ের দু’তলায় বসবাস করে আসছেন। অত্র এলাকার মানুষ তাকে টিলা ও মাটি কাটার ডেলিভারির হলনায়ক হিসেবে জানে। আর পুলিশের নিকঠ সে সোনার ডিমপাড়া হাঁস।

খুজ নিয়ে জানা যায়, খাদিমপাড়া ইউনিয়ন এলাকায় রয়েছে বেশ কয়েকটি পাহাড় (টিলা) বনাঞ্চলসহ আবাদ-অনাবাদ ফসলি ও কৃষি জমি। সর্বত্র তার বিচরন। শাহপরাণ থানা পুলিশের অফিস কেরানি থেকে শুরু করে কনস্টেবল, এএসআই, এসআইসহ অনেকেই তার কাছ থেকে প্রতিদিন রাতে বড় অংকের হাদিয়া নিয়ে থাকেন। পুলিশের সাথেই তার গভীর সখ্যতা। রাতের আধারে অনেক পুলিশকে নিয়ে আবার হোটেল রেস্তোরায় খাওয়া-দাওয়াসহ আড্ডায় ব্যস্থ্য থাকেন। এযেন তাদের গলায় গলায় ভাব। কাগজবিহীন মোটরসাইকেল নিয়ে রাতভর এদিক-ওদিক ছুটে বেড়ান তিনি। বর্তমানে রয়েলসিটি ও সুরমাগেইট বাইপাশ এলাকায় গড়ে তুলেছেন মাটি কাটার আধিপাত্য। প্রতি দিন-রাত ১৫-২০টি ড্রাম ট্রাক দিয়ে পাহাড় (টিলা’র) মাটিসহ কৃষি ভূমি ধ্বংস করে চালাচ্ছেন রমরমা বাণিজ্য। প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে তার নিত্যদিনের কার্যকলাপ। পরিবেশ বিধ্বংসি ক্যাটার পিলার (ড্রেজার) মেশিন চালানোর জন্য আশপাশ এলাকার অবস্থা এখন অত্যন্ত লাজুক। এসব মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে রাস্তা-ঘাট নির্মাণ, দালান-বাড়ি তৈরী, বিভিন্ন কোম্পানী ও আবাদি-অনাবাদি জমি ভরাট কাজে। এতে করে গোটা এলাকার পরিবেশ এখন হুমকির সম্মূখিন। রহস্যজনক হলেও সত্য যে, পরিবেশ অধিদপ্তর নাকে তৈল দিয়ে গুমের ঘরে বাস করছে। ফলে দিনের পর দিন তার দৌড়াত্ব বেড়েই চলেছে।

এদিকে খুজ নিয়ে জানা গেছে, শুভাসের আরেক ভাই প্রতারণার মামলায় জড়িত রয়েছেন। সে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে চেক ডিজঅনার মামলার গ্লানি টানছে। পুলিশের সাথে গভীর সখ্যতা থাকায় তার প্রতারক ভাইকেও আগলে রাখছেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে এ পর্যন্ত তিনি অন্তত প্রায় কুড়ি খানেকের উর্ধ্বে পাহাড় (টিলা) কেটে সমতল ভূমিতে পরিণত করেছেন। ড্রাম ট্রাক দিয়ে মাটি বহন করতে গিয়ে অনেক রাস্তা-ঘাট বিনষ্ট করেছেন। ফসলি ক্ষেত কৃষির ভূমিও তার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। তবে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, পরিবেশ রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তরের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থা এগিয়ে আসলে অচিরেই এসকল কর্মকান্ড বন্ধ করা সম্ভব। অন্যথায় এলাকার পরিবেশ হুমকির মূখে পড়বে। তাদের মতে সিলেট এলাকা এমনিতেই ভূমিকম্পের ঝুকিতে রয়েছে। এসব বনাঞ্চল রক্ষা করতে প্রশাসনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা। এছাড়া শুভাসকে আইনের আওতায় এনে মোবাইল ফোনসহ তার সিডিআর সংগ্রহ পূর্বক তথ্য উদঘাটনের দাবি জানান।

এবিষয়ে জানতে শাহপরাণ (রহ.) থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ আনিসুর রহমানের মুটোফোনে যোগাযোগ করলে তার মুটোফোন রিসিভ না হওয়ায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে শুভাসের মুটোফোনও রিসিভ না হওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

শেয়ার করুন!