Sex Cams

জৈন্তাপুরে সমাজচ্যুত পরিবারের উপর হামলা




মোঃ রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি:

সিলেটের জৈন্তাপুরে সমাজচ্যুত করে রাখা নিরিহ একটি পরিবারের উপর হামলা ও ভাংচুর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের লক্ষীপ্রসাদের (কান্দি গ্রাম) বশির আহমদ ও গুলজার আহমদ দুই ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক জমি জমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বাদীর স্বামী বশির আহমদ বিষয়টি নিয়ে গ্রাম্য শালিসের স্মরনাপন্ন হন। গ্রাম্য মাতব্বর আহমদ আলী স্থানীয় শালিস বৈঠক বসিয়ে নিরিহ বশির আহমদের পরিবারকে সমাজচ্যুত করে রাখেন।

জানা যায়, গত দেড় বছর যাবত এই নিরিহ পরিবারকে সমাজচ্যুত (একঘরে) করে রাখা হয়েছে। পরিবারটির পুরুষ সদস্যরা মসজিদ রাস্তাঘাট হাট বাজারে স্বাভাবিক ভাবে চলাচল করতে পরছেনা। এ অবস্থায় ৮ নভেম্বর বাদির ছেলে সজিব আহমদ ও হাফিজ তোফায়েল আহমদ লক্ষীপ্রসাদ (দক্ষিণ) জামে মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করতে গেলে গ্রাম্য মাতব্বর লক্ষীপ্রসাদ (কান্দি গ্রাম) গ্রামের আহমদ আলী, তার ছেলে মোঃ ইয়াহিয়া, একই গ্রামের ফরিদ আহমদ, শাহরিয়ার, বিলাল আহমদ গং জুম্মার নামাজ থেকে তাদেরকে বের করে দেন।

পরবর্তীতে নামাজ শেষে বেলা ২টার দিকে প্রভাবশালী সমাজপতি আহমদ আলীর নির্দেশে সমাজচু্যত পরিবারের সদস্য হয়ে মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়াকে কেন্দ্র করে নিরিহ সমাজচ্যুত বশির আহমদের বাড়ীতে হামলা চালায় এবং ভাংচুর করে। এ ঘটনায় শিশু মহিলা সহ ৫জন আহত হন। মারপিটের ঘটনার খরব পেয়ে নিকট আত্মীয়ারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আহতদের উদ্ধার করে জৈন্তাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক ৪জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ী পাঠান এবং গুরুত্বর আহত সুরাইয়া বেগমকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি দেন।

এদিকে সুরাইয়া বেগম ন্যায় বিচার দাবী করে জৈন্তাপুর মডেল থানায় গত ৯ নভেম্বর শনিবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

সরেজমিনে এবিষয়ে জানতে গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসি জানান, দীর্ঘদিন হতে নিরিহ পরিবারটিকে সমাজচ্যুত করে রাখা হয়েছে। শুক্রবার মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করতে গেলে তাদের উপর হামলা করা হয়। আইনগত ভাবে তাদের শাস্তি দাবী করেন তারা।

জৈন্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শ্যামল বনিক জানান, অভিযোগ পেয়ে ঘটনার তদন্তে সরেজমিনে অফিসার প্রেরন করেছি। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। একটি পরিবার দীর্ঘদিন হতে সমাজচ্যুত করে রাখার বিষয়টি আমাদেরকে কেউ জানাননি।

শেয়ার করুন!