সিলেটে নাঈম হত্যার প্রধান আসামি রাব্বি গ্রেফতার



প্রতীকী ছবি।

সিএনবাংলাদেশ অনলাইন :

সিলেটের শাহপরাণ থানাধীন খাদিম বিআইডিসি এলাকায় ছুরিকাঘাতে নাঈম আহমদ (২২) হত্যা মামলার প্রধান আসামি রাব্বিকে (২১) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত রাব্বি মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানার দুরলব দিঘী গ্রামের আশুদুন বাড়ির বাবুল মিয়ার ছেলে। বর্তমানে রাব্বি খাদিম বিআইডিসি এলাকাস্থ শান্তিবাগে বসবাস করে আসছে।

বুধবার (৩ মার্চ) রাতে শাহপরাণ থানা পুলিশের একটি দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর মদিনা মার্কেট এলাকা থেকে রাব্বিকে গ্রেফতার করা হয়।

এদিকে নাঈম আহমদকে উঠে আসে একটি আইফোন বিক্রির টাকা ভাগাভাগির বিষয়। নাঈমের মোবাইল ফোনের কল লিস্ট ও হত্যাকাণ্ড ঘটা এলাকার সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে তদন্ত করে রহস্য উদঘাটন করে পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। নাঈম হত্যা মামলায় পুলিশ রাব্বিসহ এ পর্যন্ত ৪জনকে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, রাব্বিকে প্রাথমিকভাবে থানায় নাঈম হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যদি হত্যাকাণ্ডের সার্বিক বিষয়ে সে পুলিশকে তথ্য দেয় তাহলে তাকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হবে। আর তথ্য দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে তাকে আদালে হাজির করে ৭দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

শাহপরাণ থানার ওসি সৈয়দ আনিসুর রহমান বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে নাঈম হত্যা মামলার প্রধান আসামী রাব্বিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গত ১৯ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে খাদিম বিআইডিসি এলাকার কৃষি গবেষণা খামারের শেষ প্রান্তে লেকের পাশ থেকে নাঈমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে এসএমপির শাহপরাণ থানা পুলিশ। এ সময় নাঈমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। নিহত নাঈম আহমদ শাহপরাণ থানাধীন পাঁচঘড়ি এলাকার নিজাম উদ্দিনের ছেলে। সে স্থানীয় মোহাম্মদপুর এলাকায় নানার বাড়িতে থেকে গ্রিল মিস্ত্রির কাজ করতো।

ঘটনার পরদিন গত ২০ জানুয়ারি রাতে শাহপরাণ থানায় নাঈমের মা জাহানারা বেগম বাদী হয়ে নাঈমের বন্ধু সবুজ, রাব্বি, জুনেদসহ আরো অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তবে মামলা দায়েরের আগেই বুধবার বিকেলে নাঈমের বন্ধু দেলোয়ার হোসেন সবুজকে শাহপরাণ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পরদিন ২১ জানুয়ারি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সুবজকে হাজির করে পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গ্রেফতারকৃত দেলোয়ার হোসেন সবুজ (২২) সিলেটের গোয়াইনাঘাট উপজেলার ফতেহপুরের বড়নগর গুলনি চা বাগানের লাল মিয়ার ছেলে। তিনি বর্তমানে শাহপরাণ এলাকার চামেলীবাগে বসবাস করেন।
এদিকে নাঈম হত্যা মামলায় নগরীর শিবগঞ্জ সেনপাড়া এলাকার ৪৬ নং বাসার বাসিন্দা হেবল ফুলিয়ার ছেলে প্রিন্স হিমেল (১৬) ও একই এলাকার পুষ্পায়ন ১৩/১-এর বাসিন্দা হেলাল উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ অলি আহমদও (১৭) কারাগারে রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, নাঈম হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য ঘটনা খুব দ্রুত উদঘাটন করার জন্য নিহত নাঈমের মোবাইল ফোনের কল লিস্ট ও হত্যাকাণ্ড ঘটা এলাকার সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন সূত্র ধরে খুনের বিষয়ে পুলিশের ক্রাইম শাখা তদন্ত করে। এতে হত্যাকাণ্ডের নানা বিষয় উদঘাটন হয়।

শেয়ার করুন!