সখীপুরে বোরো ধান পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক



ছবি-সিএনবাংলাদেশ।
আমিনুল ইসলাম, সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি :

টাঙ্গাইলের সখীপুরের বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা ।কাক ডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করতে হচ্ছে তাদের। সার, বীজসহ সব ধরনের কৃষি উপকরণ হাতের নাগালে থাকায় দুশ্চিন্তাও নেই। সবার চোখেমুখে একটিই স্বপ্ন মাঠভরা সোনালি ফসল। কৃষকদের কর্মযজ্ঞের এই অপরূপ দৃশ্যটি উপজেলার প্রতিটি গ্রামের ফসলের মাঠের। ধানের চারা রোপণের পর পরিচর্যায় সময় দিতে হচ্ছে। আর এটি সফল হলেই কিছুদিন পরে সোনারাঙা পাকা ধান দোল খাবে বাতাসে।আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না তাদের।

জমি চাষ, চারা উত্তোলন, চারা রোপণ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার কৃষকরা। তবে শ্রমিকদের মজুরি বেশি হওয়ায় ধান রোপণের সাথে অধিক খরচ যোগ করতে হচ্ছে। গত বছর উপজেলায় বোরো ধান চাষ হয়েছিলো সাড় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে। চলতি বছরে বোরো ধান চাষ হয়েছে সাড়ে ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ২৫ টি ব্লকে কম-বেশি বোরো ধান চাষ হয়েছে। উপজেলার কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কম জমিতে উন্নত জাতের বোরো ধান চাষ করে বেশি ফলন পেতে ব্যাপক সহায়তা করছে কৃষি বিভাগ। উন্নত জাতের বীজ ও সার প্রদান করে কৃষি বিভাগ উপজেলার কৃষকদেরকে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে আসছেন। যেন রোপণ করা চারা সঠিক যত্ন সহকারে বড় হতে পারে।

সরেজমিন উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে দেখা যায়, দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ শ্যামলিয়ায় ভরপুর উপজেলার প্রতিটি গ্রামের ক্ষেতের মাঠ।
মাঠে মাঠে কোমর বেধেই বোরো আবাদে নেমে পড়েছেন তারা। ফলে দুপুরে বাড়ি গিয়ে খাবার সময়ও পাচ্ছেন না কৃষকরা। বাড়ি থেকেই খাবার আসছে মাঠে। কাঁদামাখা শরীরে জমির আইলে বসেই আহারে মেতে ওঠছেন মাঠের এই কৃষকরা।

বোরো শ্রমিকরা জানান, বোরোতে শুধু কৃষকই নয়, শ্রমিকরাও লাভবান হয়। এ সময় কাজের কোনো অভাব থাকে না। প্রতিদিন কৃষকের ক্ষেতে শ্রম দিলে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা মজুরি মেলে।

উপজেলার কালিয়ান পাড়াগ্রামের কৃষক শাহাদাত হোসেন বলেন,আমি ১ একর জমিতে স্বল্প মেয়াদী হাইব্রিড বোরো ধান রোপন করেছি। এ জাতের ধানে ফলন বেশি ও রোগ বালাই কম হয় ।

কীর্তনখোলা গ্রামের মোসলেম উদ্দিন বলেন, আমি কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে হাইব্রিড বীজ পেয়েছি ।এতে আমার মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আমাকে ধান চাষে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ওবায়দুল হক খান বলেন, উচ্চ ফলনশীল বোরো ধানের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে তন্মধ্যে রোগবালাই পোকামাকড়ের আশংকা না থাকায় কৃষকের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টির জন্য প্রনোদনার মাধ্যমে হাইব্রিড বোরো ধানের বীজ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। পরিচর্যা ও আবহাওয়া ভালো থাকায়, কীটপতঙ্গের আক্রমণ না হওয়ায় এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.নূরুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, রোগ-বালাইয়ে কি পরিচর্যা করতে হবে তা কৃষি অফিস সব সময় পরামর্শ দিয়ে আসছে। আমন মৌসুমে ধানের ভালো ফলনের পাশাপাশি আশাতীত দাম পেয়েছে কৃষক। ফলে এবার বোরো মৌসুমের শুরুতেই এই স্বপ্নের ফসল আবাদে আদাজল খেয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন তারা।

শেয়ার করুন!