লাৎসিওকে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখ



অনলাইন ডেস্ক :

চেনা ছন্দে দেখা গেল না বায়ার্ন মিউনিখকে। তবে প্রত্যাশিত জয় তুলে নিল ঠিকই। লাৎসিওকে ফের হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা ধরে রাখার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল হান্স ফ্লিকের দল।

আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বুধবার রাতে শেষ ষোলোর ফিরতি লেগে ২-১ গোলে জিতে দুই লেগ মিলিয়ে ৬-২ ব্যবধানে এগিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে পা রাখে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। প্রথম দেখায় ইতালিয়ান ক্লাবটির মাঠে ৪-১ গোলে জিতেছিল তারা।

রবের্ত লেভানদোভস্কি বায়ার্নকে এগিয়ে নেওয়ার পর ব্যবধান বাড়ান এরিক মাক্সিম চুপো-মোটিং। লাৎসিওর একমাত্র গোলদাতা মার্কো পারোলো।

এই নিয়ে ১৯তম বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠল জার্মান দলটি, যা প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে কোনো দলের সর্বোচ্চ।

শুরু থেকে বল দখলে এগিয়ে থাকা বায়ার্ন দ্বাদশ মিনিটে প্রথম ভালো সুযোগ পায়। ডি-বক্সে একজনকে কাটিয়ে লেরয় সানের নেওয়া নিচু শট পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে যায়।

দুই মিনিট পর সুযোগ আসে লাৎসিওর সের্গেই মিলিনকোভিচ-সাভিচের সামনে। লুইস আলবার্তোর ক্রসে ডি-বক্সে ঠিকমতো হেড করতে পারেননি তিনি। সঙ্গে লেগে থাকা বায়ার্ন ডিফেন্ডার লুকা এরনঁদেজের পা ছুঁয়ে বল যায় গোলরক্ষকের হাতে।

৩৩তম মিনিটে লেভানদোভস্কির সফল স্পট কিকে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ডি-বক্সে লেয়ন গোরেটস্কা ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।

প্রথম লেগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সাবেক রেকর্ড গোলদাতা রাউল গনসালেসকে পেছনে ফেলা লেভানদোভস্কির গোল হলো ৭৩টি। প্রতিযোগিতাটিতে তার চেয়ে বেশি গোল আছে কেবল ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (১৩৪) ও লিওনেল মেসির (১২০)।

চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পোলিশ স্ট্রাইকার লেভানদোভস্কির গোল হলো ৩৯টি।

প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আর তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেননি বায়ার্ন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ব্যবধান বাড়ানোর ভালো একটি সুযোগ পান লেভানদোভস্কি। কিন্তু কাছ থেকে তার শট ফেরান গোলরক্ষক পেপে রেইনা।

৬৭তম মিনিটে ভাগ্যের ফেরে নিজের দ্বিতীয় গোল পাননি লেভানদোভস্কি। ডি-বক্সের বাইরে থেকে তার জোরালো শট ফেরে পোস্টে লেগে। ৭২তম মিনিটে কাছ থেকে হোয়াকিন কোররেয়ার প্রচেষ্টা ফিরিয়ে বায়ার্নের ত্রাতা গোলরক্ষক আলেক্সান্দার নুবেল।

পরের মিনিটেই স্কোরলাইন ২-০ করেন একটু আগে লেভানদোভস্কির বদলি নামা চুপো-মোটিং। ডাভিড আলাবার পাস ডি-বক্সে পেয়ে প্রথম স্পর্শে এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে ফাঁকি দেন তিনি।

৮২তম মিনিটে ব্যবধান কমান দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামা পারোলো। ফ্রি কিকে কাছ থেকে হেডে বল জালে পাঠান এই ইতালিয়ান মিডফিল্ডার।

নির্ধারিত সময়ের এক মিনিট বাকি থাকতে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন সের্গে জিনাব্রি। সানের পাস ফাঁকায় পেয়ে বাইরে মারেন তিনি। তাতে অবশ্য দুই লেগেই জয়ের হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়তে সমস্যা হয়নি বায়ার্নের।

দিনের অন্য ম্যাচে আতলেতিকো মাদ্রিদকে ২-০ গোলে হারিয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠেছে চেলসি।

শেষ আটের বাকি দলগুলো হলো-পিএসজি, রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার সিটি, লিভারপুল, পোর্তো ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ড।

আগামী শুক্রবার হবে কোয়ার্টার-ফাইনাল ও সেমি-ফাইনালের ড্র।

শেয়ার করুন!