‘বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের প্রশংসায় সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা’



ফাইল ছবি।
বিশেষ প্রতিবেদক :

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করেছেন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা। তারা বলেছেন, বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের সাফল্য ঈর্ষণীয়।

১০ দিনের বর্ণাঢ্য আয়োজনের ষষ্ঠ দিনের অনুষ্ঠানে গতকাল সোমবার প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ অতিদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সরকার এবং রাজনৈতিক দল সততা ও আন্তরিকতা দিয়ে জনস্বার্থে কাজ করলে জাতির উন্নতি ও কল্যাণ নিশ্চিত হয়। অতিদরিদ্র মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে দল-মত নির্বিশেষে পাশে দাঁড়াতে পারলে দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। মুজিববর্ষে এটাই হবে সবচেয়ে বড় অর্জন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্মানিত অতিথির বক্তব্য দেন নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারী। অনুষ্ঠানে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই মাহেন্দ্রক্ষণ উদযাপনের শুভ মুহূর্তে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববাসীকে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ুর পরিবর্তন এই উপমহাদেশের দেশগুলোকে সবচেয়ে বেশি নাজুক করে তুলেছে। জলবায়ু পরিবর্তনে আমাদের অবদান না থাকলেও আমরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। আমরা অভিযোজনের মাধ্যমে সাময়িকভাবে নিজেদের রক্ষা করতে পারি। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান ধারা বন্ধ করা না গেলে অভিযোজন প্রক্রিয়া দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হবে।

জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ‘মুজিব চিরন্তন’ প্রতিপাদ্যে এ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি। গতকালের আয়োজনের থিম ছিল ‘বাংলার মাটি আমার মাটি’। বিকেল সাড়ে ৪টায় অনুষ্ঠানের সূচনা ঘটে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। এর পর পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের পর ‘মুজিব চিরন্তন’ প্রতিপাদ্যের ওপর টাইটেল অ্যানিমেশন ভিডিও এবং মুজিব শতবর্ষের আবহ সংগীত পরিবেশিত হয়। পরে ‘বাংলার মাটি আমার মাটি’ থিমের ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন শেষে শুরু হয় আলোচনা পর্ব।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঞ্চালনায় আলোচনা পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। থিমভিত্তিক আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। এর পর রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং নেপালের রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের পর সম্মানিত অতিথির হাতে ‘মুজিব চিরন্তন’ শ্রদ্ধা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আলোচনা পর্বের সমাপ্তি ঘটে।

এর পর আধা ঘণ্টার বিরতি দিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্ব শুরু হয়, যা চলে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা ছাড়াও রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সহধর্মিণী রাশিদা হামিদ, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং নেপালের রাষ্ট্রপতির মেয়ে ঊষা কিরণ ভান্ডারী দর্শকসারিতে বসে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উজ্জীবিত করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির :অনুষ্ঠানে ভাষণে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের মুক্তির আলোকবর্তিকা হয়ে বিশ্বকে করেছেন আলোকময়। তাই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে বঙ্গবন্ধুর নীতি, আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বেড়ে উঠতে পারে, সে লক্ষ্যে সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে।

তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান শুধু একটি নাম নয়। বঙ্গবন্ধু একটি প্রতিষ্ঠান, একটি সত্তা, একটি ইতিহাস। জীবিত বঙ্গবন্ধুর চেয়ে অন্তরালের বঙ্গবন্ধু আরও বেশি শক্তিশালী। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, বাঙালি থাকবে, এ দেশের জনগণ থাকবে; ততদিন বঙ্গবন্ধু সবার অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছর অতিক্রম করতে যাচ্ছি। এই দীর্ঘ সময়ে দেশের চেহারা অনেক বদলে গেছে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যে দেশ স্বাধীন হয়েছিল; অনেক চড়াই-উতরাই পার হয়ে সেই বাংলাদেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ অর্জন করেছে। বাংলাদেশ এখন উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হওয়ার পথে দ্রুত অগ্রসরমান।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জীবন, ভাবনা ও রাজনৈতিক দর্শনের মর্মার্থ সবার কাছে ছড়িয়ে দিতে মুজিববর্ষ পালন একটি যথাযথ পদক্ষেপ। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর জাতির পিতার আদর্শকে ধারণ করে জাতি এগিয়ে যাক ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে।

আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর :সভাপতির বক্তব্যে এ অঞ্চলের দারিদ্র্যমুক্তি, জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত ক্ষতি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই- দক্ষিণ এশিয়ার এক বিশালসংখ্যক মানুষ এখনও দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনও অর্ধাহারে বা না খেয়ে প্রতি রাতে ঘুমাতে যায়। অনেকে জীবন ধারণের নূ্যনতম সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় যে প্রাকৃতিক সম্পদ আছে। সে সম্পদ যথাযথভাবে ব্যবহার করে এ অঞ্চলের মানুষের দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব। একে অপরের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে এ অঞ্চলকে দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াস আমরা অব্যাহত রাখব।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এমন একটি অঞ্চলে বসবাস করি যা প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দেশগুলো যেমন ভূমিকম্প, ক্লাউড ব্রাস্ট, বরফ ধস, ভূমিধস, ফ্লাস ফ্লাড বা আকস্মিক বন্যা ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ। আবার বাংলাদেশের মতো সাগর-উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলো বারবার বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প, অতিবৃষ্টি বা খরার মতো দুর্যোগের সম্মুখীন হয়।

তিনি বলেন, ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম বা সিভিএফের বর্তমান সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ব নেতৃত্বকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে আসছে। গত বছর ঢাকায় গ্লোবাল ক্লাইমেট অ্যাডাপটেশন, বাংলাদেশ অফিস চালু করা হয়েছে। ঢাকা অফিস দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় কাজ শুরু করেছে।

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগদান করায় নেপালের রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান বাংলাদেশের সরকারপ্রধান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, মুক্তিযুদ্ধে তৎকালীন নেপাল সরকার ও সেখানকার জনগণ নানাভাবে স্বাধীনতাকামী বাঙালিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন। যেসব দেশ স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশকে সর্বাগ্রে স্বীকৃতি দিয়েছিল, নেপাল তার অন্যতম। ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নেপাল বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। আমরা নেপালের জনগণের সে অবদানের কথা কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করি। স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আমরা ২০১২ এবং ২০১৩ সালে নেপালের ১১ জন নাগরিককে ‘ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ’ সম্মাননায় ভূষিত করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, সড়ক, রেল এবং বিমান যোগাযোগ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি, বিশেষ করে পানি-বিদ্যুৎ খাত, পর্যটন এবং পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সহযোগিতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে বিবিআইএন চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। এর ফলে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে। নেপালকে আমরা আমাদের সৈয়দপুর আঞ্চলিক বিমানবন্দর এবং মোংলা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সব সময়ই শোষিত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তির জন্য লড়াই করেছেন। মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে তিনি ছিলেন সোচ্চার। তিনি চেয়েছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে। সবার অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান-চিকিৎসা-শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকরা সপরিবারে হত্যার পর বাংলাদেশের অগ্রগতি থেমে যায়। বিগত ১২ বছরে আমরা জাতির পিতার দেখানো পথ ধরেই হাঁটছি।

অন্যদের বক্তব্য :স্বাগত বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের নিরন্তন প্রেরণার উৎস। তাই মুজিব চিরন্তন।

তিনি বলেন, বাঙালি জাতিসত্তার সঙ্গে মিশে থাকা শেখ মুজিব আমাদের জীবনের ধ্রুবতারা। তিতুমীর, হাজী শরীয়তউল্লাহ, প্রীতিলতাসহ ৩০ লাখ শহীদের রক্ত যে মাটিতে মিশে আছে, সে মাটিকে বঙ্গবন্ধু ভালোবেসেছিলেন। সে জন্য খোকা থেকে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু থেকে জাতির পিতায় পরিণত হয়েছেন। তিনি হাজার বছরের শৃঙ্খল ভেঙে বাঙালিকে স্বাধীন করেছিলেন। বাংলার মানুষকে ভালোবেসে জীবন উৎসর্গ করেছেন তিনি।

থিমভিত্তিক আলোচনাকালে কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, শেখ মুজিব প্রদীপ্ত আলোর শিখা। আগামী প্রজন্ম এই প্রদীপের শিখার আলোয় এগিয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধু বাঙালির কাছে অমর। তিনি বলেন, ‘বাংলার মাটি আমার মাটি’- এটি কোনো রাজনৈতিক স্লোগান ছিল না। এটি ছিল বঙ্গবন্ধুর জীবনের মৌলিক দর্শন। বাঙালিকে নিরন্তর ভালোবেসে তিনি জীবনকে সমৃদ্ধ করেছেন।

বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজন :’বাংলার মাটি, আমার মাটি’ শীর্ষক গতকালের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় ছিলেন লিয়াকত আলী লাকী। এই পর্বে শত শিল্পীর যন্ত্রসংগীত, বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করে নেপালের পরিবেশনা, হাজার বছর ধরে (নৃত্যালেখ্য :কবিতা, গান ও নৃত্য), বাংলার ষড়ঋতু (৬০ জন শিল্পীর নৃত্য পরিবেশনা), ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও দেশাত্মবোধক গানের মেডলি :সেই থেকে শুরু দিনবদলের পালা (কোরিওগ্রাফি), ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবেশনা ‘বাংলার বর্ণিল সংস্কৃতি’, যাত্রাপালা ‘মা মাটি মানুষ’ এবং শত বাউলের গানের মেডলি ও নৃত্যালেখ্য :’সবার উপরে মানুষ সত্য’ পরিবেশিত হয়। বঙ্গবন্ধুর প্রিয় গান ও বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত গান পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

সপ্তম দিনের থিম ‘নারীমুক্তি, সাম্য ও স্বাধীনতা’ :প্যারেড গ্রাউন্ডে সপ্তম দিনে আজ মঙ্গলবারের থিম ‘নারীমুক্তি, সাম্য ও স্বাধীনতা’। অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী প্রথম পর্বে বিকেল সোয়া ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আলোচনা অনুষ্ঠান এবং আধা ঘণ্টার বিরতি শেষে দ্বিতীয় পর্বে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

আলোচনা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান ও সঞ্চালনা করবেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। আলোচনায় অংশ নেবেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এ ছাড়া ইউনেস্কোর মহাপরিচালক অড্রে আজুলের ভিডিও বার্তা প্রচার করা হবে।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্বে বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করে সুইজারল্যান্ডের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ধারণকৃত ভিডিও, ‘মুজিব চিরন্তন’ প্রতিপাদ্যের ওপর টাইটেল অ্যানিমেশন ভিডিও, থিয়েট্রিক্যাল কোরিওগ্রাফি, ‘নারী ও বাংলাদেশ’ নিয়ে কালজয়ী কিছু গান, ‘অনন্যা অপরাজিতা’ শীর্ষক থিমেটিক কোরিওগ্রাফি, ‘গাহি সাম্যের গান’ শীর্ষক কয়েকটি গান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের গান ও কোরিওগ্রাফি এবং বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত গান পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হবে।

নেপালের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৌজন্য সাক্ষাৎ :বিডিনিউজ জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার দুপুরে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারী তাকে বর্ণনা করেছেন ‘অনুপ্রেরণাদায়ী’ একজন নেতা হিসেবে; আর শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি নেপালের প্রথম নারী রাষ্ট্রপ্রধানের একজন অনুরাগী।

পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।

নেপালের রাষ্ট্রপতি নেপালি ভাষায় অনূদিত বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ বই দুটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দু’দেশের মধ্যে অগ্রাধিকার বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পিটিএ চুক্তি উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ ছাড়া বিবিআইএন (বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল) সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতে এ অঞ্চলের বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের যৌথ সহযোগিতায় নেপালের পানিসম্পদ ব্যবহার করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প করা যেতে পারে বলেও মত দেন প্রধানমন্ত্রী।

শেয়ার করুন!