তাড়াইলে সরকারি খাস জমির উপরে চলছে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন : প্রশাসন নিরব



ফাইল ছবি।
মোঃ ফাইজুল হক গোলাপ, কিশোরগঞ্জ :

তাড়াইলে সরকারি খাস জমির উপরে চলছে পরিবেশ বিধ্বংসি অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন। প্রতিনিয়ত প্রভাবশালী ভূমি খেকো সিন্ডিকেট গ্রুপ ভূগর্ভের বালু উত্তোলন করে পুরো পরিবেশকে টেলে দিচ্ছে বিনষ্টের দিকে।

অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রশাসনের রহস্যজনক নিরবতায় বালু ব্যবসায়ীরা দাপুটেই এ বাণিজ্য চালাচ্ছে। ভূগর্ভের বালু উত্তোলন করায় ডেবে যাচ্ছে বোরো ফসলের জমি। দুশ্চিতায় দিন কাটছে একমাত্র বোরো ফসলের উপর নির্ভরশীল শত শত কৃষক পরিবারের। অমানবিক ঘটনা ঘটছে তাড়াইল উপজেলার দিগদাইর ইউনিয়নের রাহেলা মৌজার সীমান্তবর্তী বরুহা গ্রামের আগার খাল বাঘার বিল উরফে কালিয়া বিল নামক স্থানে। এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর পক্ষে হাজী মাহতাব উদ্দিন ভূঞার পুত্র মোঃ ফরিদ উদ্দিন ভূঞা গত ২৫ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

ঘটনার বিষয়ে সরজমিনে গেলে বরুহা গ্রামের মৃত সুন্দর আলীর পুত্র মোঃ ফারুক, আবুল কাশেম ভূঞার পুত্র মোঃ আঃ কাদির, উমেদ আলী বেপারীর পুত্র আঃ রাজ্জাক, মৃত আঃ রশিদের পুত্র মোঃ মতিউর রহমান, রাজধর ভূঞার পুত্র মোঃ আঃ রাশিদ, হাজী মাহতাব উদ্দিনের পুত্র মোঃ মাসুদ ও সুন্দর আলীর পুত্র মোঃ জাহের উদ্দিন ভূঞা এ প্রতিনিধিকে জানান, এলাকার চিহ্নিত প্রভাবশালী ভূমিদস্যু মৃত ইসরাইল উরফে মনা ভূঞার পুত্র মোঃ ফাইজুল ইসলাম ভূঞা ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন।

উপজেলা ভূমি অফিসের রেকর্ড থেকে জানা গেছে দিগদাইর ইউনিয়নের কালিয়া বিল জলমহাল নামে পরিচিত স্থানটি রাহেলা মৌজায় অবস্থিত এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলটি বরুহা মৌজায় অবস্থিত। রাহেলা মৌজায় সরকারি খাস জমি রয়েছে ৩৯ একরেরও উর্ধ্বে। এই খাস জমিটিই মূলত জলমহাল। ড্রেজার বসানো হয়েছে রাহেলা মৌজায়। বালু ব্যবসায়ী ভূমিদস্যু ফাইজুল কালিয়া বিলের সরকারি খাস জায়গায় ড্রেজার বসানোয় ভূগর্ভ ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। বিলের দু’পাশের আবাদী ফসলী জমি প্রতিদিনই ভূগর্ভেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ ভূমি দস্যু ফাইজুলের সাথে স্থানীয় এমপির স্বজনদের দহরম মহরম রয়েছে। তাই এমপি’র স্বজন ও প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে ফাইজুল দাপটে বালু বাণিজ্য চালাচ্ছে। এলাকাবাসী আরও জানান, প্রভাবশালী এ ভূমিদস্যু এর আগেও জনমত উপেক্ষা করে একই ইউনিয়নের নিহার নামীয় খাল থেকে উক্ত ড্রেজারটি বসিয়ে আনুমানিক ৩০ লাখ টাকা বালু উত্তোলন করে বিক্রি করেছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ফাইজুলের সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোন নম্বর- ০১৭৩৩-৬৪১২২১ যোগাযোগ করলে তিনি বক্তব্য দিতে অস্বীকার করেন। তবে তিনি এমপির ভাতিজা সাবেক দামিহা ইউপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান জেলা পরিষদ সদস্য এস.এ মাইনুজ্জামান নবাবের নির্দেশে বালু উত্তোলন করছেন বলে জানান।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ গোলাপ হোসেন ভূঞা’র সাথে সরজমিনে সাক্ষাৎকালে জানান, কৃষকের ফসলী জমি রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক মাহমুদ এর কার্যালয়ে গিয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, কৃষকদের স্বার্থে সরকারি খাস ভূমি রক্ষায় তদন্ত করে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন!