সিলেটে এক প্রধান সম্পাদকের বিরুদ্ধে ৩ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ,তোলপাড়!



নিজস্ব প্রতিবেদক :

মো.আলী হোসেন সরকার,ফাইল ছবি। দৈনিক ‘বাংলাদেশ মিডিয়া’ নামক একটি পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মো.আলী হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে ৩ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে । সেই চাঁদা দাবির বিষয়টি গত ১০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার রাতে সিলেটের জনমনে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। একপর্যায় মো.আলী হোসেন সরকারের চাঁদা দাবির কেয়ামতের আলামতকৃত একটি ‘ভয়েস রের্কড’ গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে পৌছালে ব্যাপারটি আরো বেশি আলড়ন সৃষ্টি হয়। তিন লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির একটি ডকুমেন্ট গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে ইতিমধ্যে হস্তান্তর করেছেন জৈন্তাপুর থানার ৫ নং-ফতেহপুর ইউনিয়নের ছাত্রলীগ সভাপতি রুবেল ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দৈনিক ‘বাংলাদেশ মিডিয়া’ নামক পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মো.আলী হোসেন সরকার দীর্ঘদিন পুর্বে সুনামগঞ্জ থেকে সিলেটে এসে ভাড়াটিয়া বাসাবাড়ি নিয়ে অবস্থান করেন । একপর্যায় সিলেট নগরীতে পলিথিন ব্যাগ বিক্রয় করে গোঠা সিলেট নগরীতে সয়লাব করেন। বাংলাদেশ সরকারের নিষিদ্ধকৃত এই অবৈধ পলিথিন বিক্রয়ের মূল হোতা হলেন এই আলী হোসেন। এখন তাকে সিলেট নগরীতে সকলেই এক নামে চিনে ও জানে ‘আলী হোসেন ওরফে পলিথিন আলী।’ এছাড়া তার বিরুদ্ধে রয়েছে আরো নানান অপকর্মের বিস্তর অভিযোগ। এনিয়ে সিলেটের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় একাধিক সংবাদ এমনকি ধারাবাহিক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে । এতে দেখা যায় সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো তার নেতৃত্বে চলছে । সর্ম্পক রয়েছে বেশ ক’জন চোরাকারবারি সিন্ডিকেট সহ সীমান্ত এলাকার ব্যবসায়ীর সঙ্গে। তার সফর সঙ্গি হিসেবে কাজ করেন শীর্ষ চাঁদাবাজ দালাল সালেহ আহমদ । এই দু’ব্যাক্তিকে সিলেট নগরীতে এমন কোন লোক নেই যে তাদেরকে চিনেন না । সাম্প্রতিক জেল থেকে জামিন লাভ করেছেন সালেহ কিন্তু আইনের ফাঁকফোরে ধরাশায়ি থেকে গেছেন পলিথিন আলী । ওই কথিত প্রধান সম্পাদকের আরো দুইজন একনিষ্ট চোরাকারবারি রয়েছেন তারা হলেন, জৈন্তাপুরের শ্যামপুর গ্রামের জয়নাল ও স্বপন । এ দু’জনের মধ্যে জয়নাল আহমদ বর্তমানে ভারতীয় নিষিদ্ধকৃত পণ্য চোরাচালানে আটক হয়ে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে কারাভোগ করছেন। আর বুক ধাপিয়ে বেড়াচ্ছেন আরেক চোরাকারবারি মৃত-হীরা মিয়ার ছেলে স্বপন । যদি সিলেটের গোয়ান্দা সংস্থা পলিথিন আলীর কল লিষ্ট সংগ্রহ করার পাশাপাশি ‘‘সিডি আর’’ তলব করে তাহলে অচিরেই বেরিয়ে আসবে থলেড় বিড়াল।

অভিযোগ রয়েছে পলিথিন আলী নিজেকে রক্ষা করতে ব্যবহার করে থাকে বাংলাদেশ মিডিয়া নামক পত্রিকাটি। এছাড়া নাম বিক্রয় করে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় একাধিক নেতা কর্তার । এ থেকে বাদ পড়েননি পুলিশের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষরাও । সিলেট মেট্রোপলিটন ও সিলেট রেঞ্জ পুলিশের সিনিয়র অফিসারদের নাম ভাঙ্গানোর খতিয়ানের খাতায়ও সে এগিয়ে রয়েছে। তার কথায় নাকি সিলেট প্রশাসন উটেবসে। এরকম সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রুবেল আহমদের অপর সঙ্গি খালিক নামক এক মহালদার ব্যবসায়ী। তিনি জানান, সিলেট-তামাবিল হাইওয়ে রোড দিয়ে পলিথিন আলী ‘প্রবক্স কার’ দৌড়ান। তার গাড়ি চোরাকারবারীদের মালামাল সাপ্লাইয়ে রাস্তা নিরাপদের সবুজ সিগনাল দেয়। প্রতিসপ্তাহে ৩-৪দিন ওই রোডে তার যাতায়াত । আর আস্তানা ঘিরেছেন চোরাকারবারি জয়নাল ও স্বপনের বসতবাড়ি সহ হরিপুর এলাকায়। সেই চোরাকারবারির গডফাদার হলেন বির্তকিত কর্তা পলিথিন আলী। সেই ব্যবসার আড়ালে তিনি মামলা, হামলা,গুম-খুনের হুমকিও দিয়ে থাকেন অনেককে। এবং কোন ধরণের প্রতিবাদ করতে গেলে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন ‘বাংলাদেশ মিডিয়া নামক পত্রিকা আর মামলা মোকাদ্দমা। এককথায় প্রতিবাদকারীদের জিম্মি করে রাখার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকেন তিনি। শুধু তাই নয় অনেক বস্তুনিষ্ট সংবাদকর্মীদেরও নিয়ে মান হানিকর বক্তব্য প্রকাশ করিয়ে থাকেন তিনি।

এদিকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, অল্পদিনে জিরো থেকে হিরো বনে যাওয়া পলিথিন আলীর বিরুদ্ধে যদি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূষ্ট তদন্ত করে তাহলে তার সকল অপকর্মের কীর্তিকলাপ বেরিয়ে আসবে অতি সহজেই । তবে তার কৌশল অবলম্বন করা একটি নেশা ও পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পলিথিন আলী ‘‘সুদখোর’’ ব্যবসার মতো চাঁদাবাজিতে মত্ত রয়েছেন। অল্পকিছু ঘটার আগেই নিজের অপরাধ ঢাকতে চট করে মামলাও বসিয়ে থাকেন বিভিন্ন লোকদের বিরুদ্ধে। পলিথিন আলীর পাহাড়সম টাকার প্রলোভনে পড়ে আইন প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্তা সত্য মিথ্যা যাচাই বাচাই না করেই মামলা রের্কড করে থাকেন। এটা যেন তার একটি নিত্যদিনের রমরমা ব্যবসা। এভাবেই চলছে তার জনহয়রানি আর ক্ষমতার লড়াই ।

এ বিষয়ে জানতে আলী হোসেনের সাথে মুটোয়ফোনে গত ১০ডিসেম্বর রাতে যোগাযোগ করা হলে তিনি চাঁদা দাবির বিষয়টি এড়িয়ে যান। আরো এক প্রশ্নের জবাবে তিনি নাম প্রকাশ না করে বলেন, তিনজন আওয়ামী লীগ নেতা সিলেটে তার শেল্টারে রয়েছেন প্রয়োজনে তাদের ব্যবহার করা হবে বলেও জানান তিনি। কথার অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সদ্বত্তোর না দিয়ে প্রতিবেদককে মামলা, হামলার হুমকি দেন এবং অশ্লীল ভাষায় গালিমন্দ করেন। অন্যথায় প্রতিবেদকের বিরুদ্ধেও সংবাদ প্রকাশ করবেন বলেও হুমকি প্রদান করেন।

আলী হোসেনের ব্যাপারে জানতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সিনিয়র এক কর্মকর্তার সাথে মুটোয়ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি প্রতিবেদককে জানান, তাকে চিনেন না । উল্টো তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার কথা বলেন। তার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে বলেও খবর পেয়েছেন তিনি। এদিকে সিলেট জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি এজাজুল হক এজাজের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এই নামে কাউকে তিনি চিনেন না। তবে চাঁদাবাজি করলে পুলিশে ধরিয়ে দেবার কথা বলেন তিনি। সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান কোন চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীর স্থান এই সিলেটে হবেনা । তিনিও এই নামে কাউকে চিনেন না বলে জানান। সাবেক সিবিএ নেতা জুবের খানও এ নামের কাউকে চিনেন না বলে জানিয়েছেন। নগরীর তালতলা এলাকার সিনিয়র আ’লীগ নেতা খোকন জানান,এক আলী আছে তবে সে পত্রিকা বের করেছে তা আমার জানা নেই । তাছাড়া আমি যতদূর জানি সে তেমন লেখাপড়া করেনি কিভাবে পত্রিকা বের করে এটা অতি লজ্জার। এসময় তিনি বলেন, তাকেতো আমরা পলিথিন আলী হিসেবে চিনি। যদি সে এরকম অন্যায় কাজ করে তাহলে থাকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হোক। এ বিষয়ে জানতে সাবেক সিসিক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের মুটোয়ফোনে কল দিলে তার মুটোয়ফোন বন্ধ পাওয়ায় কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

শেয়ার করুন!