কানাইঘাটে বোমা বিস্ফোরণ: ফরেনসিক রির্পোটে চাঞ্চল্যকর তথ্য!



প্রতীকী ছবি।
সিলেট প্রতিনিধি/

সিলেটের কানাইঘাটে চাঞ্চল্যকর বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় অবশেষে হাসপাতালের ফরেনসিক রির্পোটে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এর আগে বোমা বিস্ফোরণের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে কানাইঘাট থানা পুলিশ। রহস্যজনক কারনে আজও মামলায় জড়িত কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।

এদিকে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রথমদিকে আহত শিশু সুলতানের বড় ভাই মাহমুদ হাসান এর প্রতিকার ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে কানাইঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ বিষয়টি আমলে না নিয়ে উল্টো হুমকি-দমকি দিয়ে থানা থেকে বের করে দেয়। এছাড়াও পুলিশ বাদিকে দিয়ে চেষ্টা চালায় অভিযোগের আমানত কেয়ামত করতে। আলামত বিনষ্টে তাদের কাছ থেকে কৌশলে হাতিয়ে নেয় একাধিক অভিযোগের কপিও। পরবর্তীতে অভিযোগকারী কোন উপায়ান্তর না পেয়ে বিগত (২১ সেপ্টেম্বর) মাননীয়, জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ও আমল গ্রহণকারী আদালত নং-৫, সিলেট এ কানাইঘাট সি.আর মামলা নং-২৩৭/২০২১ইং-তারিখে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে এফ আই আর হিসেবে গণ্যের নির্দেশ প্রদান করেন থানা পুলিশকে। উক্ত মামলায় পিতা-নূর উদ্দিনের তিন ছেলে রাবেল (২৫), পাভেল রবি (১৯), রাসেল আহমদ (৩৫) ও আমিন উদ্দিনের স্ত্রী শাফিয়া বেগম (৪৫) সহ অঞ্জাতনামা আরও ২/৩ জনকে আসামি করা হয়। পরে পাভেল ও শাফিয়া বেগম আদালতে হাজির হয়ে জামিন লাভ করেন। কিন্তু অদৃশ্য কারনে অপর দুই আসামি অদ্যবদি পর্যন্ত পুলিশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্থানীয় এলাকায় দাপুটের সহীত প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে। বাদির অভিযোগ এসআই মোজাম্মিল, এসআই সঞ্জিত ও অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম বোমা বিস্ফোরণের বিষয়টি ভিন্ন খাতে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এছাড়া তারা তাদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে ব্যাপারটি টর্চ লাইট বিস্ফোরণ বলে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করতে থাকে। এনিয়ে ইংরেজি জাতীয় দৈনিক মর্নিং গ্লোরি ও সিএনবাংলাদেশ ডট কম অনলাইন সহ সিলেটের একাধিক স্থানীয় দৈনিকে সংবাদটি প্রকাশিত হলেও নজর কাড়েনি থানা পুলিশের। বরং তারা বিবাদীদের হয়ে তদবির বাণিজ্যে মেতে উটে।

অভিযোগ রয়েছে বিবাদীদের সহীত থানা পুলিশের এসআই মোজাম্মিল ও অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলামের গভীর সখ্যতা রয়েছে। তারা বিবাদীদের কাছ থেকে বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে বোমা বিস্ফোরণের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। অবশেষে সকল জল্পনাকে পেছনে ফেলে মেডিক্যাল রির্পোটে বেরিয়ে আসলো সেই বোমা বিস্ফোরণের ভয়াবহ চাঞ্চল্যকর তথ্য।

এ বিষয়ে জানতে কানাইঘাট থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সঞ্জিতের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, মেডিক্যাল রির্পোট এখনও হাতে এসে পৌছায়নি। আসামি গ্রেপ্তারে তিনি বলেন, অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এনিয়ে কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলামের সরকারী মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তার মুঠোফোন রিসিভ না হওয়ায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য যে, কানাইঘাট উপজেলার ফতেহগঞ্জ গ্রামের প্রবাসী ফরিদ উদ্দিনের বসতবাড়িতে পহেলা সেপ্টেম্বর বোমা সাদৃশ্য বস্তু রেখে চলে যায় সন্ত্রাসী দুর্বৃত্তরা। পরে রাত ৮টার দিকে বোমা বিস্ফোরণে নিজ গৃহে গুরুতর আহত হন শিশু পুত্র সুলতান। তার ডান-বাম হাত, চোখসহ সম্পন্ন শরীর জ্বলসে যায়। বাম চোখ অস্ত্রপাচার করে ফেলে দেওয়া হয়। বর্তমানেও সে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে।

শেয়ার করুন!