চাঁদাবাজ পলিথিন আলীর বিরুদ্ধে নজর নেই এলিট ফোর্স সহ প্রশাসনের ?



নিজস্ব প্রতিবেদক :

ফাইল ছবি। বহিরাগত জেলা থেকে সিলেটে এসে অনেকে সন্ত্রাসীমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে লাপাত্তা হয়। আর কারন দর্শাতে হয় সিলেটের স্থানীয়দেরকে। বুক দাঁপিয়ে বেড়ায় প্রকাশ্যে দিবালোকে লেবাসধারী এসকল মানুষ নামের জানোয়াররা। ভাইরাস ছড়ায় গোঠা সিলেটে। কথায় আছে খারাপ লোকের ঘাটি শক্ত । সেই তালিকায় রয়েছেন শীর্ষ চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী আলী হোসেন ওরফে পলিথিন আলী। দিনের পর দিন তার দৌড়াত্ব বেড়ে চলেছে। প্রশাসনের চোঁখকে ফাকি দিয়ে অল্পদিনে বনে গেছে প্রচুর সহায় সম্পত্তির মালিক। প্রশাসনের নাকের ঢগায় নাকে তৈল দিয়ে সিলেটে সয়লাভ করছে নিষিদ্ধকৃত পলিথিন ব্যাগ। গড়ে তোলেছে চোরাকারবারীদের সাথে গভীর সখ্যতা। তার বিরুদ্ধে অসহায় সৎ নিষ্টাবান লোকেরা। বিভিন্ন সময়ে-অসময়ে লেবাস পাল্টিয়ে সিলেট নগরীতে তার বিচরণ। স্যুট কোট-টাই পড়ে ‘প্রবক্স কার’ ব্যবহার দেখে মনে হয় যেন উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত কোন লাটের বেটা। কথায় কথায় হুমকি-দমকি আর হামসে বড় কোন ব্যটা হ্যা। তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ বা মানববন্ধন একটি নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেল-জুলুমও তার জন্য ঈদের শুভেচ্ছা বার্তা। হারামের টাকা বাতাসে উড়ায়। মানির মান আছে কি, আর যাবেইবা কি?

রোববার, ১৩ জুলাই ২০১৪সালে চার সহযোগীসহ গ্রেপ্তার পলিথিন আলী লাল বৃত্তে ছবি-সংগৃহীত।

এদিকে বেশ ক’টি প্রকাশিত সংবাদ ও খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, পলিথিন আলীর অতিত ইতিহাস বড়ই চমকপ্রদ। পলিথিন ব্যবসার আড়ালে ক্যামিকেল জাতিয় জর্দ্দা ও কয়েল বিক্রয় বাণিজ্য। এর আড়ালে রয়েছে চোরাকারবারীদের পেছনে মদদ দেওয়া ও রমরমা ব্যবসা। গড়ে তোলেছেন একটি লোক দেখানো কোম্পানিও । সেই কোম্পানির অনূমোদনের কাগজপত্র সঠিক আছে কিনা তা নিয়ে রয়েছে শত জল্পনা। বিএসটিআই কতৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক সেই কোম্পানি পরিচালনা হচ্ছে কিনা সেটাও প্রশ্নবিন্দু? তার তৈরী জর্দ্দায় কোন ক্যান্সার বা কর্কট জাতিয় রোগের ক্যামিকেল আছে কিনা সেই বিষয়টিও এখন নজর কাড়ছে প্রশাসন দপ্তরে। চক্ষু আড়ালে থেকে যাচ্ছে ‘মশা মাড়তে কামান ব্যবহ্নত কয়েল।’ অভিযোগ রয়েছে তার কোম্পানির তৈরীকৃত কয়েলের ধোঁয়ায় শিশু থেকে বয়স্কবৃদ্ধরাও শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি সহ বিভিন্ন শারীরিক রোগে অসূস্থ হন। একটি কয়েল ৪-৫ মিনিট জ্বলতে না জ্বলতেই আশপাশে থাকা সকল ‘মশা’ মড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে নজর নেই সিলেটের এলিট ফোর্স, গোয়েন্দা সংস্থা বা বিএসটিআই’র কর্মকর্তাদের।

পলিথিন আলী ব্যক্তিগত বাণিজ্য ঠেকাতে গিয়ে আইনশৃংখলা বাহিনীর বিরুদ্ধে হাতেগুণা কয়েক লাইন অপপ্রচার লিখে দিয়ে বিভিন্ন সামাজিক ও যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুষ দুর্ণীতির অভিযোগ এনেও ভাইরাল করে থাকেন। যাতে প্রশাসনের লোকেরা তার নিকঠ জিম্মি থাকেন। এবং এসকল আইন প্রশাসনের লোককে ঘুষ দুর্ণীতির সাথে জড়িত বলে চাউড় করেন। যাহা এরকম অপপ্রচার সরকারের বিরুদ্ধাচরন । এতকিছুরপরও প্রশাসন নীরব ভুমিকা পালন করছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে কোন সংবাদকর্মী সত্য ঘটনা প্রকাশ করতে গেলে তার কপালে জুঠে মানহানিকর মামলা মোকাদ্দোমা সহ প্রাণহানির অপচেষ্টা। তবে রহস্যজনক হলেও সত্য যে, পলিথিন আলীর বিচরণ সবচেয়ে বেশি সিলেট নগরীর ‘সুরমা মার্কেট, কালিঘাট ও কাষ্টগড়’ ক্রাইমজোন এলাকায়। প্রতিদিন সন্ধ্যারপর এসব গুপ্ত এলাকায় তার চলাচল। এর সত্যতা মিলবে তার ব্যবহ্নত ব্যক্তিগত মুটোয়ফোন কললিষ্ট ও তার গাড়ি চালকের কললিষ্টে ।

এছাড়া তিনি তার কালিঘাট এলাকায় গড়ে তোলেছেন একটি (আড্ডাস্থল) অফিস। সেখানে অনেক লোককে কৌশলে নিয়ে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করেন। অনেক চোরাকারবারীকে দিক নির্দেশনামুলক পথ দেখিয়ে থাকেন কিভাবে তারা নিজেকে আইনশৃংখলা বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পাবে। বাজার কমিটির সভাপতি বা সেক্রেটারির কাছ থেকে একটি ব্যবসায়ীক প্রত্যায়ন পত্র তাদের হাতে রাখার শলাপরামর্শও দেন।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০১৫ সালে পলিথিন আলীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন, ছবি-সংগৃহীত।

এমনকি সেখানে তিনি থেমে থাকেন নি । নিজের অপরাধ ঢাকতে গড়ে তোলেছেন কয়েকজন হলুদ সাংবাদিক। তার বিরুদ্ধে কোন কিছু টের পাওয়া মাত্র তাদেরকে দিয়ে সেগুলো দমিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালান। হোক সেটা মানববন্ধন, প্রতিবাদ বা তীব্র নিন্দা। এটাও তার একটি কৌশলী বিদ্যা। তারপরেও যদি সে ব্যর্থ হয় তাহলে বেচে নিবে উল্টো মানববন্ধন বা মামলা মোকদ্দোমার পথ। হাওয়ায় উড়াবে টাকার বান্ডিল। অথচ রহস্যজনক কারনে সেই পাহাড়সম বিপুল সম্পদের হিসেব এখনও নিচ্ছেনা ‌‌”দুর্ণীতি দমন কমিশন (দুদক)।”

অপরদিকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে তার এসকল অপকর্মের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে গোপনে তদন্তকাজ শুরু করেছে উচ্চ পর্য্যায়ের একটি সরকারী আইনি সংস্থা। অন্যদিকে গতকাল বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে জৈন্তাপুরের হরিপুর বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচির মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে প্রশাসনের নিকঠ স্থানীয়রা এর প্রতিকার ও শাস্তি দাবি করেছেন।

বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯ ছবি-সিএনবাংলাদেশ। হরিপুর বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচী।

উল্লেখ্য থাকে যে, এরআগে ১৫ ডিসেম্বর ‘সিলেটে এক প্রধান সম্পাদকের বিরুদ্ধে ৩ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ,তোলপাড়!’ শিরোনামে সিএনবাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর তিনদিনের মাথায় পলিথিন আলীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন জৈন্তাপুরের হরিপুর এলাকার সচেতন নাগরীকবৃন্দ। হরিপুর এলাকায় খুঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানের স্থানীয়রা কখনও অন্যায়কে প্রশয় দেয় না। তারা সবসময় দেশ ও দশের স্বার্থে একযোগে কাজ করে থাকেন। তাই পলিথিন আলীর অপকর্মের বিরুদ্ধেও তারা সোচ্চার রয়েছেন বলে জানা গেছে।ফলোআপ।

শেয়ার করুন!