ফের ভিপি নুরের ওপর হামলা-সংঘর্ষ, আহত ১৫



ঢাবি প্রতিনিধি :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুরসহ কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ওপর মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় ভিপি নুরসহ কমপক্ষে ১৫ জন মারাত্মক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা।

আজ রবিবার বেলা পৌনে ১টার দিকে এ হামলা চালানো হয়। এতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাষ্ট্রপতিকে গ্রামীণফোনের উকিল নোটিশ পাঠানোর প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যে মানববন্ধন করে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশ (বুলবুল -মামুন)। মানববন্ধন শেষে বেলা সাড়ে বারোটার দিকে বুলবুল-মামুনের নেতৃত্বে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের কার্যালয়ে যান তারা। সেখানে গিয়ে বহিরাগতদের রাখার অভিযোগ তুলে ডাকসু ভবনের নিচে অবস্থান করে মঞ্চের নেতাকর্মীরা। একই সময়ে ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনসহ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন ডাকসু ভবনের নিচে। পরে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক ডাকসু ভিপির কার্যালয়ে গিয়ে বহিরাগতদের বের করে দিলে নিচে থাকা মঞ্চের নেতাকর্মীরা তাদেরকে রড, লাঠিসোঁটা দিয়ে বেধড়ক পেটায়।

তবে ভিপি নূরের সংগঠন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, লাঠিসোটা নিয়ে ডাকসু ভবনের ভেতরে অবস্থানরত ভিপি নুরসহ তার অনুসারীদের ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে ভিপি কার্যালয়ের ভিতরে তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। হামলায় ভিপি নুরসহ ১৫ জনের মতো হামলায় আহত হন। এ সময় নুরের অফিস কক্ষ ভাঙচুর করা হয়। পরে নূরসহ তার সমর্থকরা কক্ষটি ভিতর থেকে বন্ধ করে দেয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী ঘটনাস্থলে এসে তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হামলার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ধরনের ঘটনা অপ্রত্যাশিত। বহিরাগত শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে এই ঘটনার সূত্রপাত। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমরা কয়দিন ধরেই ক্যাম্পাসে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দেখতে পাচ্ছি। ডাকসু নূরের নেতৃত্বে বহিরাগত ও শিবির ক্যাডার অপরদিকে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের মুখোমুখি সংঘর্ষ দেখতে পেয়েছি। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছি। দুই পক্ষকেই সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। দুই পক্ষই আক্রমণাত্মক ছিলো। আজকের ঘটনায় যারাই জড়িত ছিলো তাদেরকেই শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

শেয়ার করুন!