জামাল খাশোগি হত্যাকান্ডে ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড



সিএনবাংলাদেশ ডেস্ক :

গত বছরের ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করার পর নিখোঁজ হন সাংবাদিক জামাল খাশোগি। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে জানালেও তার মরদেহের হদিস জানাতে পারেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ।

ধারণা করা হয়, তার মরদেহ টুকরো টুকরো করে কনস্যুলেট ভবন থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। কেউ কেউ ধারণা করেন, হত্যার পর মরদেহ এসিড দিয়ে গলিয়ে ফেলা হয়। আর সেই হত্যাকাণ্ডের দায়ে ১১ জন দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তিনজনকে ২৪ বছর কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। দেশটির সরকারি প্রসিকিউটর এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের দায় নেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। এ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে জানান, তিনি এ হত্যাকাণ্ডের দায় নিচ্ছেন, কারণ এটি তার দৃষ্টিসীমার মধ্যেই সংঘটিত হয়েছে। মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পিবিএসের এক প্রামাণ্যচিত্রে মোহাম্মদ বিন সালমান এ কথা বলেন।

তবে খাশোগি নিখোঁজের পর সৌদি কর্মকর্তারা প্রথমে তার হত্যাকাণ্ডের কথা অস্বীকার করেন। পরে প্রাথমিকভাবে সৌদি কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে, তাকে বুঝিয়ে সৌদি আরবে ফিরিয়ে নিতে যে এজেন্টদের পাঠানো হয়েছিল, তাদেরই একদল দুর্বৃত্ত তাকে হত্যা কারেছে।

যদিও তুর্কি কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, সৌদি আরবের শীর্ষপর্যায় থেকে নির্দেশের পরই তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ বিষয়ে সৌদির প্রধান প্রসিকিউটর বলেছেন, সাবেক রাজকীয় উপদেষ্টা সৌদ আল কাহতানি স্কাইপের মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দেন।

সৌদি রাজপরিবারের সামলোচক সাংবাদিক জামাল খাশোগি যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছায় নির্বাসিত ছিলেন। জামাল খাশোগি গত বছরের ২ অক্টোবর দুপুরে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন। সেদিনই ভোরে সৌদি থেকে একটি প্রাইভেট জেট বিমান নামে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে। একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বিমান থেকে নয় জন ব্যক্তি নেমে আসে। পরে আরেকটি বিমানে করে আরো ছয় জন আসে। তারা ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের কাছে দু’টি হোটেলে ওঠে। খাশোগি হত্যায় সন্দেহের তীর তাদের দিকেই ছিল।

সূত্র : বিবিসি।

শেয়ার করুন!