সকালে উঠে মাথাযন্ত্রণা বড় কোনও রোগের ইঙ্গিত?



প্রতীকী ছবি
অনলাইন ডেস্ক/

সকালের দিকে ঘনঘন মাথাযন্ত্রণা হওয়ার পিছনে ব্রেন টিউমার বা ব্রেন ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। তাই এই অস্বস্তি টানা হতে থাকলে অবশ্যই ব্যাপারটা গুরুত্বের সঙ্গে নিন।

সকালে ঘুম থেকে উঠে মাথার ভিতরে অসহ্য যন্ত্রণা সাধারণত ব্রেন টিউমারের লক্ষণ হতে পারে। প্রতিদিনই যদি এমন হতে থাকে তাহলে একদম দেরি না করে ডাক্তারের কাছে যান। দ্রুত সিটি স্ক্যান, এমআরআই করে তবেই নিশ্চিত হওয়া উচিত মস্তিষ্কের ভিতরে কোনও টিউমার আছে কি না। মনে রাখবেন, ব্রেন টিউমার আকারে বড় হয়ে গেলে বা দীর্ঘদিন থাকলে তা ক্যান্সারের রূপ নিতে দেরি করে না। সেক্ষেত্রে বাঁচার সম্ভাবনা ধীরে ধীরে ক্ষীণ হতে থাকে।

টিউমার ও সকালের মাথার যন্ত্রণা

এর সঙ্গে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির যোগ আছে। দাঁড়িয়ে থাকলে মাথার ভিতরে রক্ত সংবহন নিম্নমুখী হওয়ায় সেখানে ব্রেনের প্রেশার কম থাকে। কিন্তু শুয়ে থাকলে ব্লাড সার্কুলেশন মাথার ভিতরে কিছুটা উপরের দিকেই থাকে। তাই সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময় মাথার ভিতরে ব্রেনের প্রেশার অনেকটা বেশি থাকে। এমনিতেই সেখানে থাকা টিউমারটি আগে থেকেই প্রেশারকে বাড়িয়ে রেখে দেয়। তার সঙ্গে শুয়ে থাকার ভঙ্গিমার কারণে প্রেশার বৃদ্ধি যুক্ত হওয়ায় বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেই মাথার যন্ত্রণা হতে থাকে।

এমনিতে ব্রেনের বাইরের দিকে খুলির হাড় থাকায় ভিতরে কোনও কিছু স্ফীত হতে থাকলে তা সহজে বৃদ্ধি পাওয়ার জায়গা পায় না। তখন খুলির দেওয়ালে টিউমারটি ধাক্কা মারতে থাকে এবং ভিতরের ব্রেনের প্রেশার বাড়িয়ে দেয়।

সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড

রংহীন এই তরল ব্রেনের ভিতরে থাকে। ব্রেনের অংশগুলিকে আঘাত থেকে রক্ষা করে এটি। ব্রেনের ভিতরেই এটি ক্রমাগত তৈরি হতে থাকে আবার ব্রেনেই শুকিয়ে যায়। কিন্তু এই ফ্লুইডের গতিপথে টিউমার বাধা হয়ে দাঁড়ালে তরলটি ব্রেনের ভিতরে প্রেশারকে বাড়াতে থাকে। এই কারণেও টিউমার রোগীদের মাথার সামনের ও পিছনের দিকে যন্ত্রণা হয়। এমন হলেও সকালেই সাধারণত ব্যথা হতে থাকে। সঙ্গে বমি বা বমিভাব দেখা যায়।

কোনটা টিউমার, কোনটা মাইগ্রেন

সকালে ঘুম থেকে উঠেই মাথা ভার হয়ে যায়। ব্যথার সঙ্গে বমি, চোখে কম দেখা, হাত-পায়ে দুর্বলতা, খিঁচুনি হওয়ার মতো লক্ষণও যদি দেখা যায় তাহলে ধরে নিতে হবে ব্রেন টিউমার হয়েছে। মাইগ্রেনের কারণেও সকালে মাথাব্যথা হতে পারে। সাধারণত, রাতে খুব বেশি টেনশন করলে, স্ট্রেস থাকলে সকালের দিকে হালকা একটা মাথায় চাপ অনুভূত হয়। যার থেকে মাথা যন্ত্রণা হয়। তবে এটি খুব তীব্র ব্যথা নয়। মাথার সামনের দিকেই মূলত আস্তে হাতুড়ি ঠোকার স্টাইলে একটা ব্যথা হয়। একটু যোগা, ধ্যান করলে স্ট্রেসের কারণে হওয়া মাইগ্রেনের ব্যথা চলে যায়। অন্ধকার ঘরে শুয়ে থাকলে আরাম মেলে। কেউ কথা বললে, টিভি চললে অস্বস্তি হয়।

কখন হবেন সতর্ক

মাইগ্রেন হলে প্রতিদিন মাথা ব্যথা করবে না। কিন্তু ব্রেন টিউমার হলে প্রতিদিন সকালে যন্ত্রণা হতে পারে। অবশ্য প্রথম থেকেই যে প্রতিদিন সকালে তীব্র মাথা যন্ত্রণা হবে, এমন নয়।
যে কোনও কারণেই মাথা যন্ত্রণা হলে যদি তা দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত করে, তাহলে ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত।

যদি দেখেন, আগে মাসে দু’-তিন বার মাথা ব্যথা করত কিন্তু হঠাৎ করে টানা দশদিন ধরে ঘনঘন মাথা ব্যথা করছে। ওষুধ খেয়ে, শুয়ে থেকেও কষ্ট কমছে না। আগে দ্রুত ব্যথা কমে যেত, কিন্তু এখন উপশম মিলতে দু’-তিনদিন লেগে যাচ্ছে, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। মাথা যন্ত্রণার প্রকৃতি পরিবর্তন ও ঘনঘন হওয়ার পিছনে ব্রেন টিউমার বা ব্রেন ক্যান্সার কারণ হতে পারে।

অপারেশনই রাস্তা

ব্রেন টিউমার অপারেশন করে বাদ দেওয়াই চিকিৎসার প্রধান উপায়। কোনও কারণে অপারেশন করতে দেরি হলে মাথার ভিতরের ব্লাড প্রেশার কমিয়ে রাখার ওষুধ দেওয়া হয়। তা না হলে প্রেশার বেড়ে গিয়ে ব্রেন স্ট্রোক হয়ে বিপদ আরও বাড়তে পারে। খবর সংবাদ প্রতিদিনের।

শেয়ার করুন!