বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে শুরু হলো পৌষমেলা



সিএনবাংলাদেশ অনলাইন :

ফাইল ছবি। মধ্য পৌষের রোদমাখা সকালে শুরু হলো পৌষমেলা। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কৃষ্টি, বিলুপ্তপ্রায় শীতকালীন পিঠাপুলি ও সংস্কৃতির সাথে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যেই এই আয়োজন বলে জানালেন আয়োজকরা।

মাটির ‘আইলা’ জ্বালিয়ে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ। এসময় সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘প্রার্থী’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন রফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ বলেন, জীবনকে সহজ করতে গিয়ে সংস্কৃতিগুলোকে যেন হারিয়ে না ফেলি। আমরা বাসা-বাড়িতে পিঠা-পুলি বানানো অনেকটা ছেড়েই দিয়েছি। কিন্তু এগুলো আমাদের ঐতিহ্য। সেখান থেকে ফিরে আসলে আমাদের সন্তানরা ঐহিত্য-সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারবে না। ওই দিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, জীবন সহজ করতে গিয়ে আমরা যেন নিজস্ব সংস্কৃতির অনুসঙ্গগুলো হারিয়ে না ফেলি।

মেলা উদযাপন পরিষদের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, দীর্ঘ একুশ বছর ধরে আমরা এই মেলার আয়োজন করে চলেছি আমাদের সংস্কৃতিকে ধারণ করার উদ্দেশ্যে।কারণ সংস্কৃতি বাঙালির মেরুদণ্ডের মতো। হাজার বছরের এ ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে আমাদের এর পরিচর্যা করতে হবে। ঋতুভিত্তিক বিভিন্ন আয়োজন ও উৎসব সারাদেশে ছড়িয়ে দিলে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সঙ্গে আরও বেশি করে পরিচিত হবে আমাদের ছেলে-মেয়েরা। তাই আমাদের উচিত বাঙালির প্রকৃত মূল্যবোধ, চেতনা, জীবনবোধ নগরজীবনে বিভিন্ন সাংস্কৃতিতে আয়োজনের মাধ্যমে তুলে ধরা।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী বলেন, আমাদের গ্রাম এবং শহরের মধ্যে আলাদা কিছু নেই। আমরা যেন সেখানে প্রভেদ না করি। আমাদের সন্তানরা আজ যে স্ন্যাকস, স্যান্ডউইচ, বার্গারের ভিড়ে দেশীয় পিঠা-পুলিগুলো ভুলতে বসেছে, এটা আমাদেরই দোষ। আমাদের উচিত তাদের সেসবের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পৌষমেলা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি ঝুনা চৌধুরী, বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের সভপতি ফকির আলমগীর এবং বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহকাম উল্লাহ।

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘ঢেকি নাচে দাপুর-ধুপুর’ গানের সঙ্গে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে কথুক নৃত্য সম্প্রদায়। এরপরই ফেরদৌসি কাকলী গেয়ে শোনান ‘পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে, আয় আয় আয়’ গানটি।

এসময় আরও নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যম, স্পন্দন ও নৃত্যজন। দলীয় সংগীত পরিবেশনে ছিল উদীচী, নিবেদন, বহ্নিশিখা এবং সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী।
এছাড়া একক সংগীত পরিবেশন করেন বিশ্বজিৎ রায়, আবু বকর সিদ্দিক, শারমিন শখী ময়না, আবিদা রহমান সেতু এবং নবনীতা জাইদ চৌধুরী। আবৃত্তি করেন লায়লা আফরোজ এবং মুক্তধারা আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র।

মেলা উপলক্ষে একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে চলছে দেশীয় পিঠা-পুলির প্রদর্শনীও। বিভিন্ন স্টলে রয়েছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী পাটিসাপটা, তালবড়া, বিবিখানা, মেন্ডা, মোরা, ঝিনুক, দুধ চিতই, জামাই পিঠা, বউ পিঠা, ভাপা পিঠা, পুলি, পাকান, খেঁজুর পিঠা, মালপোয়াসহ নানা স্বাদের পিঠা। আছে পায়েস আর ফিরনিও। মেলায় মোট ৫০টি স্টল রয়েছে। যেখানে সারা দেশ থেকে আসা ক্ষুদ্র কুটির শিল্প উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করে।

মেলা চলবে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। সঙ্গে থাকবে থাকবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও। মেলার শেষ হবে সোমবার।

শেয়ার করুন!