কিশোরের হাতে ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে উপার্জন



রংপুর প্রতিনিধি/

বারো ও তের বছর যুবকদের এবং শিশু-কিশোরের হাত দিয়ে মাদকদ্রব্য বিক্রয় করে কাড়ি কাড়ি টাকা আয়ের পাশাপাশি মহল্লার পরিবেশ বিনষ্ট করার নেপথ্যে সেই যুবক সাজ্জাদ সর্বদা পুলিশের ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে যায়। কিশোরগ্যাং নেতৃত্বদানকারি সাজ্জাদের বেপরোয়া কার্যক্রম ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। মাদকের সম্রাট বলে কথা। উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে স্থানীয়রা। ঘটনাটি ঘটেছে রংপুর নগরীর সাহেবগঞ্জ বীরচরণ এলাকায়।

মামলা ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, রংপুর নগরীর সাহেবগঞ্জ বীরচরণ এলাকায়। সাজ্জাদের বিরুদ্ধে ইয়াবা, রকমারি মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা রয়েছে একাধিক। অসংখ্য মামলা কাঁধে নিয়ে বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। গত বছরের ১২ জুন সাতমাথার জনৈক আতোয়ার রহমান তালুকদার এর মেসার্স তালুকদার ফিলিং স্টেশন এর পরিত্যক্ত পাম্পের কাছ থেকে সাজ্জাদকে ১০ পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করে রংপুর মেট্রো’র মাহিগঞ্জ থানা পুলিশ। দুটি সাদা পলিথিনের ভিতরে ১০পিচ হালকা রংয়ের বৈধ নেশা জাতীয় মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে কর্তব্যরত পুলিশ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬ (১) সারণীর ১০(ক) বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ইয়াবা ট্যাবলেট নিজ দখলে রাখার অপরাধ। এসময় সাজ্জাদের কাছ থেকে রেজিষ্ট্রেশন বিহীন একটি মোটর সাইকেল উদ্ধার করে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় মাহিগঞ্জ থানার এস.আই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

অপরদিকে, ২০২০ সালের ২৬ ডিসেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাহিগঞ্জ থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাহিগঞ্জ কলেজ মাঠে ইয়াবা সেবনের অভিযোগে সাজ্জাদ হোসেনকে আটক করে। ধৃত সাজ্জাদ সাহেগঞ্জ এলাকার আলী আজমের ছেলে। এসময় একটি সাদা পলিথিনের ভিতরে মোড়ানো তিন টুকরা বিশিষ্ট একটি ইয়াবা ট্যাবলেট সাজ্জাদের পরনের প্যান্টের পকেট থেকে জব্দ করে পুলিশ। সাজ্জাদ উল্লেখিত স্থানে ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে সেবনের উদ্দেশ্যে অবস্থান করিয়া রংপুর মহানগরী পুলিশ আইন ২০১৮ এর ৯০ ধারার অপরাধ করে বলে অভিযোগ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন দায়িত্ব প্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মাহিগঞ্জ থানার এসআই কমল মহস্ত। সাজ্জাদের বিরুদ্ধে ২৬ ডিসেম্বর একটি সাধারণ ডায়রী করা রয়েছে জিডি নং-১১৬০।

এছাড়াও, সাজ্জাদ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করে চলছেন। কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পায়না। মুখ খুললেই মারধর, হামলা, নির্যতনসহ হয়রানী করা হচ্ছে এলাকার নিরপরাধ মানুষজনকে। সাজ্জাদ তার বিরুদ্ধে হারাগাছের সৎবাজার এলাকায় মোবাইল ফোন ছিনতাই করার সময় হাতে-নাতে ধরা পড়ার ঘটনাও রয়েছে । সাহেবগঞ্জ এলাকার আশ-পাশের বারো ও তের বছর যুবকদের এবং শিশু-কিশোরের হাত দিয়ে মাদকদ্রব্য বিক্রয় করে প্রতিদিন কাড়ি কাড়ি টাকা উপার্জনের পাশাপাশি মহল্লার পরিবেশ বিনষ্ট করার নেপথ্যে যার বিশেষ অবদান রয়েছে, শিশু-কিশোরের জীবন সর্বনাশা করে তুলছেন। সেই যুবক সাজ্জাদ সর্বদা পুলিশের ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে যায়। কিশোরগ্যাং নেতৃত্বদানকারি সাজ্জাদের বেপরোয়া কার্যক্রম ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। মাদকের সম্রাট বলে কথা। উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে স্থানীয়রা। এ ব্যাপারে সাজ্জাদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন!