‘সাংবাদিকদের তিরস্কারের সঙ্গে জরিমানা করা যাবে’



সিএনবাংলাদেশ অনলাইন/

সাংবাদিকদের জরিমানার বিধান রেখে ‘প্রেস কাউন্সিল সংশোধন আইন-২০২২’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সংশোধিত আইনটির খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আইনে সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থার মানোন্নয়ন, সংরক্ষণ ও অপসাংবাদিকতা দূর করতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা ইত্যাদি ক্ষুণ্ণ বা ভঙ্গের দায়ে অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে ১০ লাখ টাকা জরিমানার প্রস্তাবে সায় দেয়নি মন্ত্রিপরিষদ। জরিমানা হিসেবে সুনির্দিষ্ট পরিমাণ টাকার অঙ্ক রাখার বিষয়টি বাতিল করা হয়েছে। প্রেস কাউন্সিলই জরিমানার অঙ্ক নির্ধারণ করবে।
আগে অপরাধের জন্য সাংবাদিকদের প্রেস কাউন্সিল শুধু তিরস্কার করতে পারত। এখন সেখানে অর্থদণ্ডের বিধান যুক্ত হচ্ছে এবং এটি প্রিন্ট ও ডিজিটাল সব সংবাদমাধ্যমের জন্য বলবৎ হবে বলে জানান তিনি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অর্থদণ্ড সংশ্নিষ্ট সংস্থা বহন করবে। অর্থদণ্ডের পরিমাণ চূড়ান্ত হয়নি, আলোচনার জন্য দেওয়া হয়েছে। এটি ভেটিং (আইনি যাচাই) হয়ে আবার আসবে।
তিনি বলেন, প্রেস কাউন্সিলের সদস্য তিনজন বাড়িয়ে ১৭ করা হয়েছে। তথ্য অধিদপ্তর থেকে প্রেস কাউন্সিলের একজন প্রতিনিধি, মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয় থেকে একজন এবং সামাজিক সংগঠনের একজন নারী সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কাউন্সিলের সেক্রেটারিকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা করা হয়েছে।
খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আইনে কাউন্সিলের আদেশ সংশ্নিষ্ট পত্রিকায় প্রকাশের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে হানিকর বা প্রেস কাউন্সিলের আচরণ বিধিমালা পরিপন্থি সংবাদ, প্রতিবেদন, কার্টুন ইত্যাদি প্রকাশের দায়ে কোনো সংবাদপত্র বা সংবাদ সংস্থার বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ব্যবস্থা নিতে পারবে কাউন্সিল। সংবাদ সংস্থা বলতে প্রিন্ট ও সব ডিজিটাল মিডিয়াকে বোঝানো হয়েছে।
গত ১৪ জুন রাজশাহী সার্কিট হাউসে ‘প্রেস কাউন্সিল আইন ও আচরণবিধি এবং তথ্য অধিকার আইন অবহিতকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, সাংবাদিকরা ভুল করলে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান রেখে একটি আইন করা হচ্ছে।
তাঁর এই বক্তব্যের এক দিন পর তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, আমি জানি না প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান কী বলেছেন? তবে দেশে নতুন কোনো আইন হচ্ছে না। প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করার জন্য প্রেস কাউন্সিলই অনেক আগে, সম্ভবত পাঁচ বছর আগে প্রেস কাউন্সিল আইন সংশোধনের একটি প্রস্তাব করেছিল। সেটি এখনও প্রক্রিয়ার মধ্যে। এই প্রস্তাব কাউন্সিলের সদস্যরাই করেছেন এবং কাউন্সিলের বেশিরভাগ সদস্য সাংবাদিক। তাঁরাই প্রেস কাউন্সিলকে সংশোধনের জন্য আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছেন।

বিএফইউজের উদ্বেগ :এদিকে অর্থদণ্ডসহ প্রেস কাউন্সিল আইনে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা অংশীজনের কাছে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)। একই সঙ্গে তিরস্কার ও অর্থদণ্ডের বিধান রেখে আইনের খসড়া নীতিগত অনুমোদনে উদ্বেগ জানিয়েছে সংগঠনটি।
গতকাল এক বিবৃতিতে বিএফইউজে সভাপতি ওমর ফারুক ও মহাসচিব দীপ আজাদ এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, অর্থদণ্ড কী, কাকে করা হবে অথবা আর কোন কোন পরিবর্তন করা হয়েছে, এসব বিষয়ে সাংবাদিক সংগঠন অবগত নয়। ফলে বিএফইউজে আইনের খসড়া নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনার দাবি জানাচ্ছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া সাংবাদিকতা সংশ্নিষ্ট যে কোনো আইনের পরিবর্তন, পরিমার্জন ও সংশোধন আমরা মেনে নেব না।
বিএফইউজে বলছে, প্রেস কাউন্সিলের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সাংবাদিককে নয়; সংবাদমাধ্যমকে তিরস্কার করার বিধান রয়েছে। আইন সংশোধন করে এখন অর্থদণ্ড যুক্ত করা হচ্ছে। এটি সাংবাদিক সমাজ মেনে নেবে না।

শেয়ার করুন!