পানিতে ডোবা ব্যক্তিকে বাঁচাতে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা



সিএনবাংলাদেশ ডেস্ক/

বন্যার সময় পানিতে ডুবে যাওয়ার ঘটনা অনেক বেড়ে যায়। শিশুরা অধিক হারে পানিতে ডুবে মারা যায়। বড়দের ক্ষেত্রেও পানিতে ডুবে মৃত্যু দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর মধ্যে অন্যতম। পানিতে ডুবে গেলে করণীয় সম্পর্কে জ্ঞান ও সচেতনতা মৃত্যুহার অনেকাংশে কমাতে পারে।

দ্রুততম সময়ের মধ্যে ডুবে যাওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে হবে। অন্যথায় পরবর্তী চিকিৎসার সুযোগ পাওয়া যাবে না।

তাৎক্ষণিক চিকিৎসা

– খুব অল্প সময় (-১ মি.) পানিতে ডুবে থাকলে সাধারণত ফুসফুস ও পাকস্থলীতে তেমন একটা পানি প্রবেশ করতে পারে না। প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে শ্বাস বন্ধ রাখার কারণে এমন হয়। এসব ক্ষেত্রে রোগী সচেতন থাকেন। দম আটকে রাখার কারণে শ্বাসকষ্ট বোধ হতে পারে। মুখে শেওলা প্রবেশের কারণে শ্বাস-প্রশ্বাস আরো বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে। পানিতে ঠাণ্ডা লাগার ফলে শ্বাসনালি সংকুচিত হয়ে দীর্ঘ সময় শ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে। দ্রুত রোগীকে শুষ্ক স্থানে নিতে হবে। নাক ও মুখের ভেতর শেওলা-ময়লা কিছু থাকলে তা পরিষ্কার করতে হবে। ভেজা জামাকাপড় পাল্টে শুষ্ক পোশাক পরাতে হবে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হোক বা না হোক দ্রুত হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পরামর্শ নিতে হবে।

– যারা তুলনামূলক দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকে, তাদের ফুসফুসে বেশি পানি প্রবেশ করে। উদ্ধারের পর দ্রুত এই পানি বের করতে হবে। শ্বাস-প্রশ্বাস চালু করার জন্য মুখ থেকে মুখে শ্বাস দেওয়া বজায় রাখতে হবে। হৃত্স্পন্দন চালু নাও থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে একসঙ্গে হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের কার্যক্ষমতা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা চালাতে হবে বিরতিহীনভাবে। এ ছাড়া নাক-মুখ পরিষ্কার করা ইত্যাদি আগের নিয়মে করতে হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে উপযুক্ত দক্ষতার সঙ্গে এসব করতে না পারলে জীবিত অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানো দুষ্কর।

ডুবে যাওয়া মানুষের জীবন বাঁচাতে সিপিআর বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা থাকা অতি জরুরি। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গে উপযুক্ত চিকিৎসা দেওয়া না হলে মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।

পরামর্শ দিয়েছেন

ডা. শাহেদ সাব্বির আহমেদ

আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার

কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রংপুর

শেয়ার করুন!