সরকারের মদদে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা গোপন করা হচ্ছে: রিজভী



ঢাকা :

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশনেত্রীর প্রাণনাশের উদ্দেশে প্রায় দুই বছর যাবত বিনা অপরাধে বন্দী রাখা হয়েছে। বিনা চিকিৎসায় তাকে পঙ্গু করে ফেলা হয়েছে। ৭৫ বছর বয়স্ক খালেদা জিয়ার জীবন প্রতি মুহূর্তে শঙ্কার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সরকারের মদদে তার গুরুতর অসুস্থতা গোপন করা হচ্ছে। তিনি এখন কি অবস্থায় আছেন তা কাউকে জানতে দেয়া হচ্ছে না।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারী) সকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতায় তিনি কি বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে আছেন সেটি নিয়ে দেশবাসী উৎকন্ঠিত। তার সাথে স্বজনদের দেখা সাক্ষাত করতে দেয়া হচ্ছে না। তার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের মন্ত্রী ও পাতি নেতারাও কুৎসিত ‘ডার্ক হিউমার’ করে যাচ্ছেন। পিজি হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ড তার স্বাস্থ্য সম্বন্ধে যে প্রতিবেদন দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে তার বর্তমান অবস্থায় এডভান্স চিকিৎসা দরকার। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বারবার জোরালোভাবে দাঁড়ানো এই নেত্রীকে কোনোভাবেই সহ্য করতে পারছে না সরকার ও সরকার প্রধান। এজন্য এক দুর্বিষহ মাষ্টারপ্ল্যান নিয়ে সরকার কাজ করছে। বর্তমান সরকারপ্রধান মতভিন্নতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করেন বলেই দেশনেত্রী আজ কারাগারে। দেশনেত্রীকে বন্দী রাখা দেশ-কাল ও সভ্যতার পক্ষে কলঙ্কের। সেই কলঙ্ক অক্ষুন্ন রাখার দায়িত্ব নিয়েছে ক্ষমতা দখলকারী আওয়ামী সরকার।

তিনি আরো বলেন, একজন বয়স্ক, গুরুতর অসুস্থ মহিলা হিসাবে প্রচলিত আইনে তাঁর জামিন অগ্রাধিকার মূলক ভাবেই প্রাপ্য। তাঁর প্রায় দুই বছর সাজা খাটা হয়ে গেছে। জেলখানায় যারা একাধিক বছর কারাভোগ করেন তাদের সাজার কার্যকারিতা শর্তহীনভাবে নানাবিধ বিবেচনায় স্থগিত করা হয়। প্রতিহিংসার পথ পরিহার করে অবিলম্বে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিতে হবে।

শেয়ার করুন!