ফাইনালে ছোটবোন মাহিকে হারালেন বড় বোন সোমা



স্পোর্টস রিপোর্টার :

“কাট খেল। চপ খেল। একবার ডানে, একবার বায়ে খেল। টাইম নিয়ে খেল। পয়েন্ট পাও বা না পাও, কিন্তু প্রতিবারই পানি খাও। ধীরে খেল। লিডটা ধরে রাখ। ইজি খেল। মনোযোগ দিয়ে খেল … ” গতকাল মঙ্গলবার পল্টনের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত ফেডারেশন কাপ রাংকিং টেবিল টেনিসের মহিলা এককের ফাইনাল খেলা চলার সময় এমনই আরও অনেক কমান্ড দিচ্ছিলেন কোচ মোহাম্মদ আলী। যাকে দিক-নির্দেশনা দিচ্ছিলেন, তিনি তারই স্ত্রী এবং শিষ্যা … আবাহনী লিমিটেডের তারকা খেলোয়াড় সোনম সুলতানা সোনম। মজার ব্যাপার, সোনম তখন খেলছিলেন তারই আপন ছোট বোন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নওরিন সুলতানা মাহির সঙ্গে! প্রথম সেটে মাহি জিতলেও অভিজ্ঞ সোমাই চ্যাম্পিয়ন হন। মাহিকে হারান ৫-১১, ১১-৮, ৮-১১, ১১-৭, ১১-৫, ১১-৫ পয়েন্টে (৪-২ সেটে)।

চ্যাম্পিয়ন হবার পর সোমা বলেন, “ফাইনালে জিতলেও স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারিনি। কিছুদিন যাবত অসুস্থ ছিলাম। সকালেও বেশ খারাপ বোধ করছিলাম। মাথা ঘুরছিল। খুবই ক্লান্ত লাগছিল। এছাড়া এত কম সময় (চার দিন) অনুশীলন করে জীবনে এই প্রথম কোন টুর্নামেন্ট খেললাম। টিটি একটি সেনসিটিভ খেলা। এই খেলায় উত্থান-পতন থাকেই। সব মিলিয়েই অবশেষে চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছি, এটাই হচ্ছে বড় ব্যাপার।”

সোমা আরও যোগ করেন, “জেতার পেছনে কোচের অবদানই ছিল সবচেয়ে বেশি। কারণ তার নির্দেশনা মেনে না খেললেই অবশ্যই হারতাম। সেই সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতাকেও কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। এজন্যই শিরোপাটা অক্ষুণ্ন রাখতে পেরেছি।”

এসএ গেমসের পর বাবার বাড়িতে যাওয়া, নিজের ছোট ভাইয়ের (সাজ্জাদ হোসেন মোশতাক) অকাল মৃত্যু, মানসিক বিপর্যস্ততা … এগুলোও সোমার কম অনুশীলনের জন্য দায়ী। তারপরও এককে ও দ্বৈতে দ্বিমুকট জিতেছেন, এটা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

এ নিয়ে ফেডারেশন কাপে এ নিয়ে কতবার মতো চ্যাম্পিয়ন হলেন? এই প্রশ্নের জবাবে একগাল হেসে সোমার উত্তর, “অনেকবার, আসলে ঠিক মনেও নেই! “

আপন ছোট বোনের বিরুদ্ধে ফাইনালে খেলতে গিয়ে কি চাপে ছিলেন? “না। খেলার সময় এগুলো মাথায় থাকে না। মাহির বিরুদ্ধে এর আগেও গত বছর একটি রাংকিং টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলেছি। সেবার মাহিই আমাকে হারিয়েছিল। জুনিয়র হিসেবে মাহি অনেক ভাল খেলেছে। দ্রুত ওপরে উঠে আসছে। তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পারফর্ম করাটা অবশ্য চ্যালেঞ্জেরই বটে।” এবার মাহিকে হারিয়ে গত বছরের হারের প্রতিশোধ নিয়েছেন, এমনটা মোটেও মনে করেন না সোমা।

হেরে যাওয়ার পর বোন মাহিকে স্বান্তনা দিয়েছেন সোমা। বলেছেন, “মন খারাপ করো না। এখন তো তোমাদেরই সময়। আমরা আর কদিন? “

রবিবার ৩৩ বছর বয়সী সোমা তার আরেক কাজিন সাদিয়া রহমান মৌকে সঙ্গে নিয়ে মহিলা দলগত ইভেন্টের ফাইনালেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। যতদিন ফর্ম-ফিটনেস থাকবে, ততদিনই খেলতে চান দুই সন্তানের জননী সোমা।

শেয়ার করুন!