বিশ্বকাপ লড়াই শুরু হচ্ছে আজ



ক্রীড়া ডেস্ক/

স্বাগতিক কাতার ও ইকুয়েডর ম্যাচ দিয়ে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’র পর্দা উঠছে আজ। কাতারের আল-খোরের আল-বাইত স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল। বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শুরু হবে ম্যাচটি। এর মাধ্যমে শুরু হবে মাসব্যাপী বিশ্বকাপের জমাট লড়াই। কাতার বিশ্বকাপে ইতালি নেই। ইউরো চ্যাম্পিয়নরা ইউরোপের বাছাইপর্ব পার হতে পারেনি। তবে ইতালির ফুটবল দল না থাকলেও বিশ্বকাপ শুরুর ম্যাচেই ইতালির প্রতিনিধিত্ব থাকছে। কাতার ইকুয়েডর ম্যাচে প্রধান রেফারির দায়িত্ব পালন করবেন ইতালির দানিয়েল অরসাতো।ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের দর্শকদের অনেকে অরসাতোকে চিনে থাকতে পারেন। ২০২০ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে পিএসজিবায়ার্ন মিউনিখ ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন তিনি।

বিশ্বকাপের ৮৮ বছরর ইতিহাসে এই প্রথম শীতকালে হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ। মধ্যপ্রাচ্যে এর আগে কখনো ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজিত হয়নি। ফিফার অঙ্গীকার ছিল ২০৩০ সালের আগে মেজর একটি টুর্নামেন্ট মধ্যপ্রাচ্যে আয়োজিত হবে। সে অনুযায়ী নানা প্রতিকূলতা আর প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করে কাতার প্রথমবারের মতো আয়োজক হয় বিশ্বকাপের। শুধু কী তাই! ১৯৩০ থেকে ২০১৮, আগের বিশ্বকাপের ২১টি আসরই আয়োজিত হয়েছিল গ্রীষ্মকালে। অর্থাৎ মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে। কিন্তু ব্যতিক্রম হচ্ছে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ আজ থেকে সারা বিশ্বের নজর থাকবে কাতারে ফুটবল যুদ্ধের দিকে।

১৯৬২ সালে চিলি বিশ্বকাপ দিয়ে শুরু হয় বিশ্বকাপের উদ্বোধনীতে থিম সংয়ের চল। সেবার পারফর্ম করেছিল চিলির ব্যান্ড লস র‌্যাম্বলার্স ও আর্জেন্টিনার গায়ক হরগে রগাস।

এবারের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকছে বৈচিত্র্য। ব্যাপকতা আর জাঁকজমকতায় কার্পণ্য রাখছে না মোটেও। সুরের মূর্ছনায় হারিয়ে যাবেন ৬০ হাজার দর্শক। শাকিরা ও কিজ ড্যানিয়েলের ব্যাপারে রহস্য থাকলেও স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি পারফর্ম করবে কোরিয়ান ব্যান্ড বিটিএস। থিম সং গাইবেন লিও বেবি। তার সঙ্গে নাচবেন মানাল, রেহমা আর নোরা ফাতেহি। থাকছে জমকালো আতশবাজির ঝলকানি।

স্বপ্নের আল বাইত স্টেডিয়ামে হবে স্বপ্নযাত্রার সূচনা। বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা। হয়তো থেমে যাবে সব ব্যস্ততা। চোখজোড়া লেপ্টে যাবে ওই টিভি সেটের সামনে। কাতার মহাযজ্ঞের শুরুটা হবে যেখানে। কৌতূহলের তুঙ্গে তাই কী থাকবে বিশ্বকাপের উদ্বোধনীতে। কাতারের ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে থাকবে বিশেষ প্রদর্শনী। বিশাল সব ইমারতের পেছনের গল্প। বিশ্বকাপের ইতিহাসও পাবে প্রাধান্য।

এরপর সুরের মূর্ছনায় হারিয়ে যাওয়ার পালা। ২২তম আসরের অফিসিয়াল থিম সং ‘দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ ইওরস টু টেক’ গাইবেন লিও বেবি। তার সঙ্গে বিশেষ পারফর্ম করবেন বলিউড হার্ডথ্রæব নোরা ফাতেহি। নোরার সঙ্গে থাকবেন মানাল ও রেহমা।

জোর গুঞ্জন আছে গাইবেন শাকিরা আর কিজ ড্যানিয়েলও। কিন্তু বিষয়টি এখন পর্যন্ত রহস্যই রেখে দিয়েছেন আয়োজকরা। তবে কোরিয়ার বিখ্যাত ব্যান্ড বিটিএসের গান তৈরি করবে ভিন্ন আবহ। যেখানে চমক বিটিএসের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য জাংকুক। যিনি অংশ হতে যাচ্ছেন এই সাউন্ডট্র্যাকের। এছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেখা যেতে পারে পপ গায়িকা দুয়া লিপা, ব্ল্যাক আইড পিস, জে বালভিন ও নাইজেরিয়ার সংগীতশিল্পী প্যাট্রিক নায়েমেকা ওকোরিকে। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনাও পাবে বিশেষ স্থান।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে প্রদর্শন করা হবে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল মাসকট লা’ইব। আরবি যার অর্থ অতি দক্ষ খেলোয়াড়। এরপর শুরু হবে আতশবাজির ঝলকানি। আর এর মধ্যেই শেষ হবে জমকালো আয়োজন।

এক যুগ আগেই বিশ্বকাপের স্বাগতিক হিসেবে নাম প্রকাশ হয়েছে কাতারের। তখন থেকেই চলছে সমালোচনা। সেই সমালোচনার ঢেউয়ে অবশ্য ফিফার রাজস্ব আয় কমছে না। গতকাল ফিফা সভাপতি তার প্রেস কনফারেন্সে এই বিশ্বকাপে তাদের লাভের কথা বলেছেন, এই বিশ্বকাপে ফিফার আয় অন্য বিশ্বকাপের চেয়ে বেশি হবে। অতিরিক্ত রাজস্বের পরিমাণ ৫-৬ মিলিয়ন বেশি।’ এটা ফিফার সদস্যভুক্ত দেশগুলোর জন্য ভালো খবর, ‘আজ ফিফা সামিট রয়েছে। সেখানে সব দেশকে আমি এটা অবহিত করব। অবশ্যই এটা সবার জন্য দারুণ খবর’ বলেছেন ফিফা সভাপতি।

বিশ্বকাপ থেকে ফিফার লভ্যাংশ সাধারণত ফুটবল কমিউনিটিতে বণ্টন করা হতো। এবার সেটা বণ্টন হবে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়াশোনায়, ‘আমরা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে শিশুদের শিক্ষার বিষয়টি জোর দিয়েছি। কিছুদিন আগে ভারতে অনেক শিশুকে পড়াশোনার জন্য কয়েক মিলিয়ন অর্থ বরাদ্দ দিয়েছি। আমাদের এই সিদ্ধান্ত নেয়ার পেছনে কাতারও সহযোগিতা করেছে। তারা আমাদের এই প্রস্তাবে সম্মত হওয়ায় আমরা এই উদ্যোগ নিতে পেরেছি।

কাতার রাজধানী দোহাতেই হবে বিশ্বকাপের সমস্ত খেলা। কাতারের রাজধানী দোহাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ৮টি স্টেডিয়ামে হবে মোট ৬৪টি ম্যাচ। এবারের বিশ্বকাপে আটটি গ্রুপে ভাগ হয়ে ৩২টি দল অংশগ্রহণ করবে। গ্রুপে থাকা চারটি দলের প্রতিটি দল তিনটি করে ম্যাচ খেলবে। তিন ম্যাচ শেষে পয়েন্ট টেবিলের সেরা দুদল শেষ ষোলোর টিকেট পাবে। যদি গ্রুপ পর্বের ম্যাচে কোনো দলের পয়েন্ট সমান হয়, গোল পার্থক্যে এগিয়ে থাকা দল যাবে পরের পর্বে। তখনো যদি গোল সমান হয় তখন যে দল বেশি গোল করবে তারাই পরের পর্বের টিকেট পাবে।

তারপরও যদি পয়েন্ট সমান, গোল পার্থক্য সমান এবং গোল করার সংখ্যাও সমান হয় তখন গ্রুপ পর্বে একে অপরের লড়াই দেখা হবে। সেখানেও যদি সবকিছু সমান হয় তাহলে যে দল কম কার্ড দেখেছে, সেই দল যাবে পরের রাউন্ডে। তাতেও যদি সমান হয় তাহলে ফিফার র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা দল যাবে শেষ ষোলোতে। এই প্রথমবারের মতো পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপে নারী রেফারিদের দেখা যাবে। বছরের পর বছর এর উল্টোটা দেখা গেছে বিশ্ব ফুটবলে। নারীদের ফুটবলে পুরুষ রেফারি ছিল। এবার পুরুষ ফিফা বিশ্বকাপে নারী রেফারিদের দেখা যাবে।

শেয়ার করুন!