সিলেট কারাগারে ‘জঙ্গি তৎপরতা’ রুখতে বিশেষ সতর্কতা



ফাইল ছবি।
বিশেষ প্রতিবেদক/

কারাগারে বসেই বাইরের জগৎ নিয়ন্ত্রণ করতে সচেষ্ট রয়েছে জঙ্গিরা। বিভিন্ন তথ্য আদান-প্রদানের জন্য বর্তমানে তারা ইলেকট্রনিক প্রযুক্তির প্রতি ঝুঁকছে। তাই সিলেট কারাগারে জঙ্গিসহ ৯১ ফাঁসির আসামি নিয়ে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

ঢাকার আদালত থেকে পুলিশের চোখে পিপার স্প্রে ছিটিয়ে দুই জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় সারা দেশে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। কারাগারগুলোতেও নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা।

সিলেটের কারাগার কর্তৃপক্ষও বিশেষ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কারারক্ষীদের দায়িত্ব পালনেও আনা হয়েছে ব্যাপক পরিবর্তন। কারাবন্দিরা যাতে কোনো গোপন বৈঠক, শলাপরামর্শ করতে না পারে সেজন্যও বাড়তি নজর রাখা হয়েছে।

কারা অধিদফতর জঙ্গিদের থাকা, খাওয়া, চলাফেরায় নজরদারি আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বাড়িয়েছে। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা জঙ্গিসহ ফাঁসির আসামিদের শিকল (ডাণ্ডাবেড়ি) পরিয়ে রাখা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, কারাগারে বসেই বাইরের জগৎ নিয়ন্ত্রণ করতে সচেষ্ট রয়েছে জঙ্গিরা। বিভিন্ন তথ্য আদান-প্রদানের জন্য বর্তমানে তারা ইলেকট্রনিক প্রযুক্তির প্রতি ঝুঁকছে। এসব প্রযুক্তি অতি সহজে বহনযোগ্য ও কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে কারাগারের ভেতরে নেওয়া যায়। ফলে জঙ্গিরা মেমোরি কার্ড, পেনড্রাইভ, ইউএসবি পোর্টসহ আধুনিক ও ক্ষুদ্রাকৃতির প্রযুক্তির যন্ত্র ব্যবহার করছে। বিভিন্ন পদ্ধতিতে ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়াতে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে এসব জঙ্গি। যেকারণে কারাগারে বন্দিদের জন্য দেওয়া খাদ্যদ্রব্য তদারকিতে আরও কঠোর নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মুহম্মদ মঞ্জুর হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে কারাগারে ২ হাজার ৬৫০ জন বন্দি রয়েছে। এরমধ্যে জঙ্গিসহ ৯১ জন ফাঁসির আসামি রাখা হয়েছে নতুন এই কারাগারের কনডেম সেলে। বিভিন্ন জেলায় মামলার হাজিরা দেওয়ার জন্য জঙ্গিদের ৩ জনকে ইতোমধ্যে এই কারাগার থেকে অন্যত্র নেওয়া হয়েছে। তবে অধিক নিরাপত্তায় এক কারাগার থেকে অন্য কারাগারে জঙ্গিদের আনা হয়ে থাকে। ঢাকার ঘটনার পর জঙ্গিদের হাজির করার ক্ষেত্রে অন্যত্র যাতায়াত সীমিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, স্পর্শকাতর মামলার আসামিদের বহনের ক্ষেত্রে সীমবদ্ধতা রয়েছে। তাছাড়া খাবার সরবরাহসহ সব বিষয়ে তল্লাশি কার্যক্রম কঠোরভাবে নজরদারি করা হচ্ছে। কারাগারের নিরাপত্তায় কারারক্ষীর সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।

শেয়ার করুন!