নাকের ক্ষয়রোগ



অধ্যাপক ডা. এম আলমগীর চৌধুরী //

প্রতীকী ছবি । এট্রোপিক রাইনাইটিস এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়রোগ, যাতে নাকের ঝিল্লি, ঝিল্লির নিচের অংশ বা তার আশপাশের হাড় ক্ষয় হয়ে যায়। এ ক্ষয়রোগের কারণ হলো নাকের রক্তনালি এবং তার আশপাশের নালির প্রদাহ, যা রক্ত সরবরাহে বাধা দেয়। এটি একটি বিশেষ ধরনের রোগ, যা বিলম্বে নির্ণয় হয়। কারণ এটা একটা ব্যতিক্রমী রোগ এবং রোগী প্রথমে এ সমস্যা নিয়ে জেনারেল ফিজিশিয়ানের কাছে যায়। এই রোগটি সাধারণত নারীদের বেশি হয়।

কারণ:

-বংশগত

-অপুষ্টি এবং পুষ্টিহীনতা

-নাক ও সাইনাসের দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ

-রক্তনালি প্রদাহ

-হরমোনজনিত

-নাকের হাড়ের অসামঞ্জস্য

-ইমিউনোলজিকাল

উপসর্গ:

-নাক দিয়ে দুর্গন্ধ বের হয়, যা রোগী নিজে বুঝতে পারে না কিন্তু তার আশপাশের লোকজন দুর্গন্ধ পায়।

-নাক বন্ধ থাকে, যা নাকের একদিক বা দু’দিকেই হতে পারে এবং যা সবুজ, দুর্গন্ধযুক্ত রস নিঃসরণ করে।

-মাঝে মধ্যে নাক দিয়ে রক্তপাত হতে পারে।

-মাথাব্যথা, নাক ও গলা শুস্ক হয়ে যেতে পারে।

-নাকের পরীক্ষায় দেখা যায়, নাকের গহ্বর বেশ বড় এবং তাতে সবুজ আস্তরণ বা ক্রাস্ট ভর্তি।

-এ ছাড়া নাকের আশপাশের মাংসগুলো শুকিয়ে ছোট হয়ে যায়।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা

-নাক ও সাইনাসের এক্স-রে

-রক্ত পরীক্ষা: রক্তের রুটিন পরীক্ষা, ভিডিআরএল, টিপিএইচএ, রক্তের গ্লুকোজ

-এইচআইভি

-নাক ও সাইনাসের সিটি স্ক্যান, নাকের নিঃসৃত রসের কালচার ও সেনসিটিভিটি পরীক্ষা

চিকিৎসা

প্রধানত ওষুধের মাধ্যমেই চিকিৎসা করা হয়, মাঝে মধ্যে এ রোগের জন্য অপারেশনেরও প্রয়োজন হতে পারে, যদি তা ওষুধের মাধ্যমে না সারে।

ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা

-গ্লিসারিনের সঙ্গে শতকরা ২৫ ভাগ গ্লুকোজের মিশ্রণ প্রতিদিন ৪-৫ ফোঁটা করে দুই নাকের ছিদ্রে দিনে ৩-৪ বার করে দীর্ঘমেয়াদে দেওয়া হয়।

-অ্যালকালাইন দ্রবণ দিয়ে নাকের গহ্বর নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়।

-অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হতে পারে- যখন তা জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়।

রোগের পরিণতি

এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যা পুরোপুরি সারে না কিন্তু চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন বজায় রাখা যায়।

সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা হলো গ্লিসারিনে শতকরা ২৫ ভাগ গ্লুকোজের ব্যবহার সারা বছর এবং নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের অধীনে নিয়মিত চেকআপে থাকা।

শেয়ার করুন!