জাতীয় কবিতা উৎসব শুরু হচ্ছে আজ



সিএনবাংলাদেশ অনলাইন :

দুই দিনব্যাপী জাতীয় কবিতা উৎসব আজ রবিবার ঢাকায় শুরু হচ্ছে। ৩৪তম উৎসবের উদ্বোধন করবেন খ্যাতিমান কবি মহাদেব সাহা। উৎসবের এবারের স্লোগান ‘মুজিব আমার স্বাধীনতার অমর কাব্যের কবি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী প্রাঙ্গণে সকাল দশটা থেকে শুরু হবে উৎসবের কার্যক্রম। কবিরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ নিবেদন শেষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, পটুয়া কামরুল হাসানের সমাধিতেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন। এর পর হাকিম চত্বরে ফিরে গাইবেন জাতীয় সঙ্গীত। উত্তোলন করা হবে জাতীয় পতাকা। গাওয়া হবে একুশের গান এবং উৎসব সঙ্গীত। বিগত বছর থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক পর্যন্ত প্রয়াত শিল্পী-সাহিত্যিকদের স্মরণে গ্রহণ করা হবে শোক প্রস্তাব। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন পরিষদ সভাপতি কবি মুহাম্মদ সামাদ। সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য দেবেন তারিক সুজাত।

আয়োজক সূত্র জানায়, এবারের উৎসবে ভাষাসংগ্রামী তিন কবিকে দেয়া হবে ‘জাতীয় কবিতা পরিষদ সম্মাননা’। তারা হলেন কবি আহমদ রফিক, গীতিকবি আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী ও কবি বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর। স্বদেশের কবিদের সঙ্গে উৎসবে অংশ নিচ্ছেন ভারত, সুইডেন, উজবেকিস্তান ও নেপালের অতিথি কবিবৃন্দ। বাংলাদেশসহ পাঁচ দেশের তিন শতাধিক কবি অংশ নিচ্ছেন এবারের উৎসবে। ঢাকার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলাসহ বিদেশের মাটিতেও অনুষ্ঠিত হবে ৩৪তম উৎসবটি। দুই দিনব্যাপী ঢাবি গ্রন্থাগার চত্বরের উৎসবে কবিদের স্বরচিত কবিতাপাঠ, নিবেদিত কবিতা, সেমিনার ও সঙ্গীত পরিবেশনার মাধ্যমে উদ্ভাসিত হবে ‘মুজিববর্ষ’।

আজ উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে সকাল সাড়ে এগারোটা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত হবে মুক্ত আলোচনা ও কবিতা পাঠ। অংশ নেবেন ভারত, উজবেকিস্তান, সুইডেন ও নেপাল থেকে আসা আমন্ত্রিত কবিরা। এর পর শুরু হবে নিবন্ধনের মাধ্যমে কবিতা পাঠের প্রথম পর্ব। দেশের নানা প্রান্ত থেকে সমাগত নবীন থেকে প্রবীণ কবিরা মেলে ধরবেন স্বরচিত কবিতাসম্ভার।
এ পর্বে সভাপতিত্ব করবেন কবি দিলারা হাফিজ। ভিন্ন ভাষার কবিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে কবিতা পাঠের দ্বিতীয় পর্ব। এ পর্বে সভাপতিত্ব করবেন আনোয়ারা সৈয়দ হক। আমন্ত্রিত কবিদের অংশগ্রহণে কবিতা পাঠের তৃতীয় পর্বে সভাপতিত্ব করবেন রুবী রহমান। নূর-উল-আলম লেনিনের সভাপতিত্বে কবিতা পাঠের চতুর্থ পর্ব হবে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায়। রাত আটটা থেকে নয়টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে আবৃত্তি পর্ব। এ পর্বের সভাপতিত্ব করবেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর।

উৎসবের সমাপনী দিন সোমবার সকাল এগারোটায় হবে ‘কবিতায় বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক সেমিনার। কামাল চৌধুরীর সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ পাঠ করবেন কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়। আলোচনায় অংশ নেবেন নাসির আহমেদ, বিশ্বজিৎ ঘোষ, আনিসুল হক, আমীরুল ইসলাম, হাসান আরিফ ও আনিসুর রহমান। বেলা সাড়ে বারোটায় হবে ‘শৃঙ্খল মুক্তির জন্য কবিতা’ শীর্ষক সেমিনার। হাবীবুল্লাহ সিরাজীর সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ পাঠ করবেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ।
আলোচনায় অংশ নেবেন মফিদুল হক, মুনীল সিরাজ, আমিনুর রহমানসহ বিদেশের আমন্ত্রিত কবিরা। পরে কাজী রোজীর সভাপতিত্বে নিবন্ধিত কবিদের নিয়ে হবে কবিতা পাঠের পঞ্চম পর্ব। কবিতা পাঠের ষষ্ঠ পর্বে সভাপতিত্ব করবেন ফারুক মাহমুদ। সপ্তম পর্বে থাকবে ছড়া পাঠ। আসলাম সানীর সভাপতিত্বে অংশ নেবেন আমন্ত্রিত ছড়াকাররা। এর পর ভাষাসংগ্রামী তিন কবিকে দেয়া হবে ‘জাতীয় কবিতা পরিষদ সম্মাননা’। দিন ভাষাসংগ্রামী কবিকে সম্মান প্রদান শেষে গত উৎসবে ঘোষিত জাতীয় কবিতা উৎসব সম্মাননা তুলে দেয়া হবে কবি মহাদেব সাহার হাতে। বিকেল সাড়ে পাঁচটায় এই সম্মাননা প্রদান করা হবে। এদিন সন্ধ্যা ছয়টায় ’২০ সালের জাতীয় কবিতা পুরস্কারজয়ী কবির নাম ঘোষণা করা হবে। এরপর অসীম সাহার সভাপতিত্বে আমন্ত্রিত কবিদের অংশগ্রহণে হবে কবিতা পাঠের অষ্টম পর্ব। আমন্ত্রিত অতিথিদের অংশগ্রহণে কবিতা পাঠের নবম পর্বে সভাপতিত্ব করবেন নির্মলেন্দু গুণ। আমন্ত্রিত শিল্পীদের সুরের আশ্রয়ে কবিতার গান পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হবে ৩৪তম জাতীয় কবিতা উৎসব। এ পর্বে সভাপতিত্ব করবেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার।

এবারের উৎসবে ভারত, সুইডেন, উজবেকিস্তান ও নেপালের অন্তত ১৫ কবি অংশগ্রহণ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সুইডেনের কবি ও সঙ্গীতশিল্পী বেঙত্্ সোদারহল এবং উজবেকিস্তানের কবি নাদিরা আবদুলাহয়েভে। ভারতের কবিদের মধ্যে রয়েছেন কলকাতার বীথি চট্টোপাধ্যায়, সেবন্তী ঘোষ, নীলাঞ্জনা বন্দ্যোপাধ্যায়, অমিত গোস্বামী, দীধিতি চক্রবর্তী ও আবৃত্তিশিল্পী সৌমিত্র মিত্র। অংশ নিচ্ছেন অসমের কবি অনুভব তুলাসি, আগরতলার রাতুল দেব বর্মণ, অর্পিতা আচার্য্য ও তমাল শেখর দে। অংশ নিচ্ছেন নেপালের কবি ড. তুলাসি দিওয়াসা।

‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে এবার নেয়া হয়েছে বছরব্যাপী উৎসব কর্মসূচী। সারাদেশে নেয়া হয়েছে ‘মুজিববর্ষ কবিতাবর্ষ’ শীর্ষক বছরব্যাপী কর্মসূচী। সেই কর্মসূচীতে ঢাকার পাশাপাশি টুঙ্গিপাড়া, মুজিবনগরসহ কয়েকটি জেলা শহরে ছড়িয়ে যাবে কবিতা উৎসব। সেই সঙ্গে দেশের বাইরে লন্ডন, ম্যানচেস্টার, কলকাতা, শান্তিনিকেতনের বাংলাদেশ ভবন ও আগরতলায় হবে উৎসবের অন্তর্ভুক্ত মুজিববর্ষের আয়োজন। এ আয়োজনে সক্রিয় অংশ নেবে কবিতা পরিষদের জেলা ও আন্তর্জাতিক শাখাগুলো।

শেয়ার করুন!