চট্টগ্রামে আবাসন মেলায় ৮০ লাখ টাকার মধ্যে ফ্ল্যাট চাচ্ছে মানুষ



চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :

ছবি-সংগৃহীত। জমে উঠেছে রিহাবের চট্টগ্রাম আবাসন মেলা। মেলার দ্বিতীয় দিন গতকাল শুক্রবার সকাল থেকেই আগ্রহী ক্রেতারা ভিড় করেন মেলা প্রাঙ্গণ—রেডিসন ব্লু বে বিউতে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ভিড়ও। তাঁরা মেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টলে ঘুরে ঘুরে চাহিদা অনুযায়ী ফ্ল্যাট সম্পর্কে ধারণা নেন। অনেকে আবার পছন্দ হলে সরেজমিনে সেই ফ্ল্যাট দেখতে যান।

ক্রেতাদের বেশির ভাগই ৮০ লাখ টাকার মধ্যে চট্টগ্রাম শহরে ফ্ল্যাট চাচ্ছেন। এসব ফ্ল্যাটের আকার ১ হাজার ২০০ বর্গফুট থেকে দেড় হাজার বর্গফুটের মধ্যে। মেলায় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই ক্রেতাদের সেই চাহিদা অনুযায়ী ফ্ল্যাট দিতে পারছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্যই পাওয়া গেল।

এর আগের দিন বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে চার দিনের এই মেলা। ‘স্বপ্নিল আবাসন সবুজ দেশ, লাল সবুজের বাংলাদেশ’—প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এবারের মেলায় ৫৫টি প্রতিষ্ঠানের ৭৩টি স্টল রয়েছে।

আবাসন প্রতিষ্ঠান ইকুইটি প্রোপার্টি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড আবাসন মেলায় ১০টি প্রকল্প নিয়ে এসেছে। এর মধ্যে ৫টি আবাসিক, ৪টি বাণিজ্যিক। বাকি একটি কনডোমেনিয়াম প্রকল্প। আবাসিক প্রকল্পগুলো চকবাজারের প্যারেড কর্নার, মোমিন রোড, মুরাদপুর ও পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় অবস্থিত। বাণিজ্যিক প্রকল্পগুলোর অবস্থান জিইসি মোড়, দেওয়ানহাট ও মিমি সুপার মার্কেটের পাশে। আর কনডোমেনিয়াম প্রকল্পটি আগ্রাবাদে। বিশাল জায়গার ওপর গড়ে ওঠা এই প্রকল্পের ফ্ল্যাট ৬০ কিস্তিতে কিনতে পারবেন ক্রেতারা।

ইকুইটি প্রোপার্টি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের বিক্রয় ও বিপণনপ্রধান এস এম জহিরুল আলম বলেন, বেশির ভাগ ক্রেতাই ৮০ লাখ টাকায় ফ্ল্যাট চাচ্ছেন। কেউ কেউ ১ কোটি টাকার মধ্যেও ফ্ল্যাট কিনতে চাচ্ছেন। সে অনুযায়ী ফ্ল্যাট বুকিং দিচ্ছেন তাঁরা।

ছয়টি প্রকল্প নিয়ে ক্রেতাদের সামনে হাজির হয়েছে সাফ হোল্ডিং লিমিটেড। এসব প্রকল্পের অবস্থান নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি, ২ নম্বর গেট, চকবাজার, কাপাসগোলা, বহদ্দারহাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়। এসব চলমান প্রকল্পে মোট ফ্ল্যাটের সংখ্যা ৩০০। এর মধ্যে ২ নম্বর গেট এবং বহদ্দারহাটের প্রকল্প ২টি আবাসিক কাম বাণিজ্যিক এবং চকবাজারে একটি শপিং মল উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে। এই প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকের কথা বিবেচনায় রেখে ৫০ থেকে ৭০ লাখ টাকার মধ্যে অনেকগুলো ফ্ল্যাট নিয়ে এসেছে।

প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক মো. মাসুদ আলম বলেন, বাজারে এখন মধ্যবিত্ত ক্রেতার সংখ্যা বেশি। ৫০ থেকে ৭০ লাখ টাকার মধ্যে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটেই ক্রেতার আগ্রহ বেশি।

মাসুদ আলম বলেন, মেলায় অনেকেই ফ্ল্যাটের জন্য বুকিং দিচ্ছেন। কেউ কেউ সরেজমিনে গিয়ে ফ্ল্যাট দেখে আসছেন। বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি।

মেলায় পরিবেশবান্ধব আবাসন নির্মাণের থিমকে সামনে রেখে অংশ নিয়েছে জুমাইরা হোল্ডিংস লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগ প্রকল্পেই সবুজায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে সব শ্রেণির মানুষের আবাসন চাহিদা পূরণে মেগা প্রকল্প নির্মাণ করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম সরওয়ার কামাল বলেন, বেশির ভাগ ক্রেতাই ১ হাজার ২০০ থেকে দেড় হাজার বর্গফুটের মধ্যে ফ্ল্যাট চাচ্ছেন। ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকার মধ্যে আমাদের প্রতিষ্ঠানে সেসব ফ্ল্যাট পাওয়া যাচ্ছে। মেলায় এ রকম ফ্ল্যাটের বিষয়ে বেশ সাড়া পাচ্ছি।

পছন্দের ফ্ল্যাটের খোঁজে মেলায় এসেছিলেন ব্যবসায়ী মোশতাক আহমেদ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘চকবাজার বা জিইসি এলাকায় ছোটও না আবার বেশি বড়ও না এমন ফ্ল্যাটের খোঁজে এসেছি। মাঝারি এই ফ্ল্যাটের জন্য বাজেট রেখেছি ৮০ লাখ টাকা। কয়েকটি ফ্ল্যাট পছন্দ করেছি। এর মধ্যে দুটি সরেজমিনে দেখে এসেছি। তার মধ্যে একটি কিনব।’

শেয়ার করুন!