হাইকোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করে জৈন্তাপুরে হাটবাজার লিজ: চাঞ্চল্য !



জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি :

ছবি-সংগৃহীত। মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট ডিভিশনের হাইকোর্টের নির্দেশ উপেকৃত করে সিলেটের জৈন্তাপুরে হাট বাজার লিজ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে । এনিয়ে সিলেটে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, জৈন্তাপুর উপজেলার ৫নং-ফতেহপুর ইউনিয়নের হরিপুর হাট বাজার প্রতিবছর সরকারি লিজ দিয়ে থাকে স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু এবারও তার কোন ব্যতিক্রম ঘটেনি। অথচ মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট ডিভিশনের হাইকোর্টের স্পেশিয়াল ব্রাঞ্চে ক্ষয়ক্ষতি চেয়ে একটি রিট পিটিশিন মামলা দায়ের করেন গত বছরের সাবেক ইজারাদার আব্দুল খালিক। যার রিট পিটিশিন নং-২০৫২/২০২০। কিন্তু রহস্যজনক হলেও সত্য যে, উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন মামলা দায়ের থাকা সত্তেও জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা পারভিন সেই নির্দেশকে অমান্য করে নিজ স্বার্থ হাসিল করতে বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) হরিপুর হাট বাজারটি অর্ধকোটি টাকার উর্ধ্বে এক কতিথ ব্যক্তির নামে ইজারা দেন। তিনি হলেন, ৫নং-ফতেহপুর ইউনিয়নের হেমু হাউদপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে মাষ্টার জহির উদ্দিন। এঘটনায় স্থানীয় এলাকার জনমনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা আইনকে তোয়াক্ষা না করে এ বাজার ইজারা প্রদান করেছেন বলে গুজব রটিয়েছে গোঠা উপজেলায়। উচ্চ আদালতের রিট পিটিশন অনুসরন করে দেখা যায় যে বিগত ১১-০২-২০২০ইং-আন্ডার ডকেট নং-১৬১ চেলেঞ্জিং টেন্ডার নোটিশ ভাইড মেমো নং-০৫.৪৬.৯১৫৩.০০০.০৩.১৩৩.১৩৮(১০০) যা ২৩-০১-২০২০ইং-তারিখে ইস্যু হয় জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে। এতকিছুর পরেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিট পিটিশনের কাগজাদি টেবিল বন্দি করে রেখে বর্তমান ইজারাদারের রোসানলে পড়ে জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে হরিপুর হাটবাজার লিজ দিয়ে দেন।

রিট পিটিশনের সত্যতা নিশ্চিত করে সাবেক লিজদাতা আব্দুল খালেকের সহীত আলাপকালে তিনি প্রতিবেদক’কে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তিনি বিষয়টি অবহিত করেছেন। এবং যথাসময়ে রিট পিটিশনের সকল কাগজপত্র দাখিলও করেছেন। কিন্তু তিনি তা গোপন রেখে জেনে শুনে হরিপুর বাজার আরেকজন লোকের নামে ইজারা প্রদান করেছেন। এসময় তিনি বলেন, আইনের উর্ধ্বে কেউ নয় , বিষয়টি যেহেতু উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে সেহেতু এনিয়ে আমি কোন কথা বলতে পারব না।

এ ব্যাপারে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা পারভিনের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি প্রথমে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে তিনি বলেন উচ্চ আদালতের কিছু কাগজ সরকারি অফিস ই-মেইলে এসেছে তবে সেগুলো আমি দেখিনি। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, হ্যা সাবেক ইজারাদার আব্দুল খালেক আমার নিকঠ এসেছিল কিন্তু সেখানে আমার কিছু করার নেই। কারন আমি চাপে ছিলাম তাই ইজারা দিয়েছি। তবে কিসের চাপে ছিলেন সেই বিষয়টি তিনি খোলাসা করেন নি। এদিকে সিলেট জেলা প্রশাসক কার্য্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা রিট পিটিশিনের কাগজ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

শেয়ার করুন!