ইউএসটিআর, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে



সিএনবাংলাদেশ ডেস্ক :

দক্ষিণ এবং মধ্য এশিয়া বিষয়ক শীর্ষ মার্কিন বাণিজ্য কর্মকর্তা ক্রিস্টোফার উইলসন বলেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের বাজার বেড়েছে। নিরাপদ কর্মস্থলের মতো উৎপাদিত পণ্য এবং কমপ্লায়েন্স ফ্যাক্টরের মান উন্নয়ন হওয়া এ ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে। সূত্র-বাসস।

দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) ক্রিস্টোফার উইলসন বলেছেন, মার্কিন বায়াররা স্বীকার করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বায়ারদের চাহিদামাফিক বাংলাদেশ উচ্চমানসম্পন্ন পোশাক তৈরি করছে।

তিনি বলেন, উৎপাদিত পণ্যের মান বৃদ্ধির পাশাপাশি কারখানার নিরাপত্তাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ পোশাক সরবরাহকারী দেশ বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের ওপর মার্কিন আমদানিকারকদের আস্থার কিছুটা ঘাটতি হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সে অবস্থার অনেকটাই পরিবর্তন ঘটেছে। উইলসন বলেন, চীন এবং ভিয়েতনামের পর যুক্তরাষ্ট্রে তৃতীয় সর্ববৃহৎ পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আত্মপ্রকাশ করেছে।

তিনি বলেন, ২০১৯ সালে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৬.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ অব্যাহত বৃদ্ধি পাচ্ছে। উইলসন বর্তমানে ঢাকা সফর করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে মার্কিন শুল্কহার সহায়ক হচ্ছে কিনা অথবা বাধাগ্রস্ত করছে কিনা, এমন এক প্রশ্নের জবাবে উইলসন বলেন, আমরা তৈরি পোশাক খাতে আমদানি শুল্ক আরোপ করে থাকি। তবে বাংলাদেশি পোশাকের ওপর আরোপিত শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো বাধা সৃষ্টি হচ্ছে না।

উইলসন বলেন, চীন এবং ভিয়েতনামের ওপর আরোপিত শুল্কের সমপরিমাণ শুল্কই বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপিত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতি কোনো বৈষম্য করা হচ্ছে না। বাংলাদেশে উৎপাদিত পোশাকের ৯৫ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র আমদানিকৃত তৈরি পোশাকের ওপর ১৫.৬২ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করছে।

উইলসন বলেন, মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। এতে বাজার দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশ সরকার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে কাজ করছে।

তবে তিনি বিলম্বিত কাস্টম পদ্ধতি, পুঁজি এবং মুনাফা প্রত্যাহারে নানা ঝুঁকি ঝামেলা এবং বিভিন্ন বাণিজ্য লাইসেন্স ইস্যুতে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কথাও জানান। মার্কিন এ কর্মকর্তা বলেন, বিনিয়োগের উত্তম পরিবেশ সৃষ্টি করতে এ ধরনের সমস্যাগুলো দূর করতে হবে। এ ধরনের বিষয় ব্যবসায়ী কোম্পানিগুলোর ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।

উইলসন বলেন, টিকফা সমাপনী বৈঠকে এসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। তবে বৈঠকে ডব্লিউটিও রুল সংক্রান্ত ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি (আইপিআর) প্রশ্নে ঢাকার সাম্প্রতিক পদক্ষেপের প্রশংসা করা হয়। দ্বিপক্ষীয় টিকফা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন এ কর্মকর্তা বলেন, ২০১৩ সালে এই চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্কে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অবদান রাখছে।

বাংলাদেশের একক বৃহৎ রপ্তানিকারক দেশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। একটি স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ২০০৫ সালের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডাবিøউটিও) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৯৭ শতাংশ পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করেছে।

শেয়ার করুন!