কোয়ারেন্টাইনে যেভাবে কাটছে রোনালদোর সময়



স্পোর্টস ডেস্ক :

রোনালদোর পরিবার। ছবি: ইন্টারনেট । জুভেন্টাস সতীর্থ ড্যানিয়েল রুগানির শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া গেলে কোয়ারেন্টাইনে যান ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। রুগানির করোনা ধরা পড়ার আগে তিনি একই ড্রেসিং রুমে রোনালদো ও জুভেন্টাসের অন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে জয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। আর এরপরই করোনার অস্তিত্ব পাওয়া যায় তার শরীরে।

অবশ্য যখন রুগানির করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে তখন রোনালদো ছিলেন পর্তুগালে। ইন্টার মিলানের বিপক্ষে ম্যাচটি শেষ হওয়ার পরই মাকে দেখতে পর্তুগালে যান তিনি। আর এমন ভয়ঙ্কর তথ্য শোনার পর রোনালদো সাফ জানিয়ে দেন তিনি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ইতালিতে ফিরবেন না। যখন ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি কমে আসবে তখনই আবার ইতালির বিমান ধরবেন তিনি।

রোনালদো কোয়ারেন্টাইনে থাকলেও তার শরীরে করোনা ভাইরাসের কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। আর তাই তো কোয়ারেন্টাইনে থাকার পাশাপাশি বান্ধবী, সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এক প্রকার ছুটি কাটাচ্ছেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দি সান জানায় রোনালদো এখন তার বান্ধবী ও সন্তানদের নিয়ে অবস্থান করছেন তার নিজের শহর মেদেরাতে। এই শহরে তার রয়েছে একটি বিলাসবহুল বাড়ি। এখন এই বাড়িতেই কাটছে তার সময়। রোনালদোর বান্ধবী জর্জিনা রদ্রিগেজ সেই বাড়ির ১টি ছবি তার সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেন। সেখানে দেখা যায় তার মেয়ে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। আর জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছে সমুদ্রের সৌন্দর্য।

দি সান আরো জানিয়েছেন রোনালদো এখন যে বাড়িটিতে রয়েছেন এটি ৭ তলা বিশিষ্ট বাড়ি। আর বাড়িটির সবার উপরের তলাতেই তিনি রয়েছেন। এর বাড়িটির নিচতলায় বসবাস করেন তার ভাই। এই বাড়িটির ছাদে রয়েছে সুইমিংপুল। আর বিশ্বের অত্যাধুনিক যত সুযোগ-সুবিধা আছে তার সবই রয়েছে এটিতে। তবে রোনালদো কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার পর নিজে কোনো ছবি দেননি।

এদিকে রুগানির করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর বের হওয়ার পর মাকে আবার হাসপাতালে দেখতে যান রোনালদো। আগেরবার সাধারণভাবে মায়ের কাছে যেতে পারলেও তখন তাকে পুরো শরীরে ভাইরাস নিরোধক জ্যাকেট ও হাতে গ্লাভস পরে তার মাকে দেখতে যেতে হয়। রোনালদোর মা সপ্তাহখানে আগে ছোটখাটো স্ট্রোক করেন। আর মায়ের স্ট্রোকের খবর শুনেই নিজস্ব বিমানে করে ইতালি থেকে পর্তুগালে যান তিনি। কিন্তু তার মা খুব দ্রুতই সুস্থ হয়ে উঠেন। ফলে আবার ইন্টার মিলানের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে ইতালিতে ফেরেন তিনি।

করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি হয় চীনে। এই ভাইরাস সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে এই দেশটিতেই। আর চীনের পর করোনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় ইউরোপের দেশ ইতালি। এখানে পরিস্থিতি এতই খারাপ হয়ে যায় যে সরকারকে বাধ্য হয়ে খেলাধুলাসহ সবকিছু বন্ধ করে দিতে হয়।

শেয়ার করুন!