স্প্যানিশ ফুটবলে জেঁকে বসেছে করোনা



স্পোর্টস ডেস্ক :

বাস্কেটবল খেলোয়াড়দের মাঝে করোনা উপসর্গ দেখার পর থেকেই কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে পুরো রিয়াল মাদ্রিদ দলকে। দুদিন আগে ভাইরাসটিতে মারা গেছেন ২১ বছর বয়সী এক স্প্যানিশ ফুটবল কোচ। স্পেনের ফুটবলে করোনা যে জেঁকে বসেছে, তার প্রমাণে আসতে শুরু করেছে একের পর এক লা লিগা ক্লাবের খেলোয়াড়দের সংক্রমণের খবর।

লা লিগার দল ভ্যালেন্সিয়ার ৩৫ শতাংশ খেলোয়াড় ও স্টাফের করোনাভাইরাসে আক্রান্তের খবরের পর তালিকায় যোগ হয়েছে আরও দুটি ক্লাবের নাম। দেপোর্তিভো আলাভেসের ১৫ জন সংক্রমিত হয়েছেন। আর এস্পানিওলের আক্রান্ত ফুটবলারের সংখ্যা ৬ জন।

গত রোববার ভ্যালেন্সিয়ার আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার ইজিকুয়েল গ্যারের আক্রান্তের খবর ছড়িয়ে পড়ে স্প্যানিশ মিডিয়ায়। গ্যারে ছাড়াও দলটির শীর্ষ পর্যায়ের খেলোয়াড়দের মধ্যে আছেন হোসে গায়া এবং ইলাকুইয়াম মাঙ্গালা। আছেন ক্লাব ডেলিগেট পাকো কামারাসা ও মেডিকেল কর্মী হুয়ান আলিয়াগা। তারা সবাই কোভিড-১৯ ভাইরাসে সংক্রমিত বলে নিশ্চিত করেছে ভ্যালেন্সিয়া।

আলাভেসের পক্ষে নিশ্চিত করা হয়েছে আক্রান্তদের ৩ ফুটবলার মূল দলের। সব মিলিয়ে ১৫ জন টেস্টে পজিটিভ। বাকিদের মধ্যে ৭ জন কোচিং স্টাফের আর ক্লাবের অন্য স্টাফের মধ্যে সংক্রমণ মিলেছে ৫ জনের।

লা লিগা স্থগিত হওয়ার আগে গত ৭ মার্চ মাঠে লড়েছিল ভ্যালেন্সিয়া ও আলাভেস। ধারণা করা হচ্ছে সংক্রমণের ঘটনা ওইদিনই ঘটেছে।

আরেক স্প্যানিশ ক্লাব এস্পানিওলের ৬ ফুটবলার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। সংক্রমিতদের আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে।

স্পেনে, তথা ফুটবলে ঘটেছে মৃত্যুও। ফ্রান্সিসকো গার্সিয়া, মাত্র ২১ বছর বয়সে এই স্প্যানিশ ফুটবল কোচকে কেড়ে নিয়েছে করোনা। গার্সিয়া স্পেনের মালাগা অঞ্চলের অ্যাটলেটিকো পোর্টাডা আল্টা জুনিয়র দলের কোচ ছিলেন। ২০১৬ সাল থেকে ক্লাবটিতে কাজ করছিলেন।

করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে যান গার্সিয়া। যেয়ে জানতে পারেন শরীরে আগে থেকেই বাসা গেড়েছে নিউমোনিয়া। একদিকে করোনাই প্রাণঘাতী, সঙ্গে নিউমোনিয়া চরম পর্যায়ে। জোড়া ব্যাধির সংক্রমণ আর নিতে পারেনি তরুণ গার্সিয়ার শরীর।

সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৪ হাজারের বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮,২৩১ জনে। স্পেনে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১৪ হাজারের কাছে পৌঁছেছে। মারা গেছেন ৫৯৮ জন। ইউরোপে ইতালির পর স্পেনেই করোনা বেশি ভয়াবহতা ছড়িয়ে যাচ্ছে।

শেয়ার করুন!