জৈন্তাপুরে চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব : প্রশাসন নিরব



সরেজমিন থেকে তোলা ছবি,টিলা কাটা ।
স্টাফ রির্পোটার, সিলেট থেকে :

সিলেটের জৈন্তাপুরে নির্বিচারে চলছে পাহাড় (টিলা) কাটার মহোৎসব। এনিয়ে কোন আইনি উদ্দ্যেগ গ্রহণ করছেনা উপজেলা স্থানীয় প্রশাসন বা জেলা প্রশাসন। রহস্যজনক কারনে সিলেটের পরিবেশ অধিদপ্তরও নিরব ভুমিকা পালন করছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, জৈন্তাপুর উপজেলার ৫নং-ফতেহপুর ইউনিয়নের দলইপাড়া গ্রামের মৃত হাজী আরফান মিয়ার ছেলে আলকাছ মিয়া প্রকাশ্যে দিবালোকে পাহাড় (টিলা) কেটে পরিবেশ বিধ্বংসীমুলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে এর পূর্বেও পাহাড় (টিলা) পরিবেশ বিনষ্টের একাধিক মামলা রয়েছে। স্থানীয় এলাকায় সে প্রভাবশালী হওয়াতে সচেতন নাগরীকরা তার বিরুদ্ধে কথা বলতে নারাজ। বিগত সপ্তাহখানেক থেকে শ্যামপুর এলাকায় আব্দুর রশীদের (উপরশ্যামপুরে) একটি টিলা কাটার মহোৎসব শুরু করেছে সে। সেই টিলার মাটি দিয়ে ভরাট করছে ওই এলাকার মসজিদের পাশে নতুন ব্রিজ ডাইভেকশনের কাছে থাকা একটি প্লটে। যদিও এনিয়ে মুটোয়ফোনে স্থানীয় এলাকার একাধিক ব্যক্তি জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা পারভিন ও থানা পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছেন। কিন্তু আজো রহস্যজনক কারনে প্রশাসন নিরব।

”অভিযোগ রয়েছে নাহিদা পারভিন জৈন্তাপুরে যোগদানের পর থেকেই আইনকে তোয়াক্কা না করে তিনি অসৎ উপায় অবলম্বন করে হাতিয়ে নিচ্ছেন কাড়ি কাড়ি টাকা। এতে ভুক্তভোগীর শিকার হচ্ছেন উপজেলার অজো গায়ের সহজ-সরল লোকেরা। একই লাজুক অবস্থা জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশের কতিপয় অসাধু সদস্যের কার্য্যকলাপ। তাদের বিরুদ্ধে পাহাড়সম বিস্তর অভিযোগ থাকলেও টাকার কুমির হয়ে তারা এখন জলে বাস করছেন। আর সেই সূযোগে কতিপয় প্রভাবশালীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন টাকা কড়ি। যদিও বাংলাদেশ সরকার পরিবেশ রক্ষায় বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কিন্তু টনক নড়ছেনা জৈন্তাপুরে থাকা প্রশাসনের। নির্বিচারে পাহাড় কাটার ধ্বংস লীলা, প্রকাশ্যে কোটি কোটি টাকায় সরকারী হাটবাজার লিজে সহযোগীতা করছে তারা। এমনটি সত্যতা মিলেছে সরেজমিন। কৌশলে রাতের আধারে টিলার লাল মাটি কেটে ব্যবহার করা হচ্ছে প্লট ভরাটে। রাত ১০টার পর থেকে ভোর পর্য্যন্ত চলে টিলা কাটার উৎসব। প্রতিরাতে কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য সরেজমিনে গিয়ে বড় অংকের চাঁদা নিয়ে আসেন। সেই টাকার একটি অংশ চলে যায় উপজেলা নির্বাহীর টেবিলেও। শুধু উপরশ্যামপুর যে টিলা কাটার মহোৎসব চলছে তা নয় শিকারখাঁ, উমনপুর এলাকায়ও এর বিচরণ রয়েছে প্রচুর। এসকল টিলার মালিকদের কাছ থেকে প্রতিদিন হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা। অথচ ঘুমের ঘড়ে বাস করছে সিলেট জেলা প্রশাসন। এরকম নির্বচারে টিলা কাটা চলতে থাকলে সিলেটের অদূর ভবিষ্যত অন্ধকার । কারন এমনিতেই সিলেট ভূমিকম্পের কবলে হাতছানি দিচ্ছে। যে কোন সময় বড় ধরণের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে টিলা কাটা’র বিষয়ে আলকাছ মিয়া প্রতিবেদক’কে বলেন, আমি একা টিলা কাটছিনা আরো অনেকে কাটছে তাদের নাম ঠিকানা আমি দিবো তাদের বিরুদ্ধে কেনো প্রশাসন আইনি উদ্দ্যোগ নিচ্ছে না।

এব্যাপারে জানতে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শ্যামল বণিক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা পারভিনের মুটোয়ফোনে একাধিকবার ‘কল’ দিলে মুটোয়ফোন রিসিভ না হওয়ায় তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন!