জৈন্তাপুরে প্রায় অর্ধশত পাহাড় কেটে সমতল !



জুনেদ আহমদ চৌধুরী :

অপরুপ সৌন্দর্যের অধিকারী পাহাড় বেষ্টিত এলাকা জৈন্তাপুরের ৫ নং-ফতেহপুর এলাকা। এই এলাকায় রয়েছে প্রায় শতখানিক পাহাড় (টিলা) রকম ভূমি। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে প্রশাসনের অনিহার কারনে এসব পাহাড় কেটে নির্বিচারে ধ্বংস করা হচ্ছে এলাকার পরিবেশ। পাহাড় কেটে লাল মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে রাস্তার কাজে আবার কখনও বিভিন্ন প্রজেক্ট’র কাজে ও প্লট বরাদ্ধে। এসকল এলাকায় প্রতিদিন রাতে কোথাও না কোথাও পাহাড় কাটার মহোৎসব লীলা তান্ডব চালায় অর্থ লোভি প্রভাবশালীরা। যদি কোন স্পেশাল বাহিনী ওই এলাকায় সরেজমিন তদন্তে যায় তাহলে দেখা মিলবে পাহাড়ের অস্থিত্ব আজ হুমকির মুখে। বিভিন্ন প্রজাতির গাছ-গাছালি কেটে কিভাবে বিনষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। যদিও পরিবেশবিদরা এনিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বন ও পরিবেশ রক্ষায় কিন্তু এতে কোন কাজের কাজ হচ্ছে না। বরং পাহাড় ও টিলার বিশাল একটি অংশ বিলীন করে দিচ্ছে ভূমিখেকো অর্থলোভীরা। পাহাড় কাটা বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে সিলেটের মাটি শ্মশান মাটিতে পরিণত হবে। বর্ষাকালে ঘটবে ভূমিধসের মতো অনেক বড় বড় দুর্ঘটনা। এরসাথে নেমে আসবে বিপর্যয় আর ভুমিকম্পের কাল নামক বিষাক্ত থাবা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উমনপুর, শিকারখাঁ, উথলারপাড়, শ্যামপুর, উপরশ্যামপুর, লামাশ্যামপুর, বাগেরখাল, সারিঘাট এই পর্য্যন্ত অন্তত অর্ধশতাধিক পাহাড় ও টিলা কেটে সমতল ভ’মিতে পরিণত করা হয়েছে। অথচ এর দায়ভার নিতে রাজি নয় উপজেলা প্রশাসন। বর্তমানেও উপরশ্যামপুর এলাকায়ও চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব।

এদিকে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর ৬(খ) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সরকারি বা আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বা দখলাধীন বা ব্যক্তি মালিকানাধীন পাহাড় ও টিলা কর্তন বা মোচন করতে পারবে না। তবে অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থে প্রয়াজনে অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে পাহাড় বা টিলা কাটা যেতে পারে। এর কোনটাই মানছেনা সিলেটের প্রশাসন তথা অর্থ লোভীরা। আইন রয়েছে অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদন্ড সহ ১০ লাখ টাকা অর্থদন্ডের বিধান। যদিও ২০১১ সালে ছয়টি উপজেলায় পাহাড় টিলা কাটা রোধে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) উচ্চ আদালতে ছয়টি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের কারন দর্শানোর ৯৭৫০/১১ একটি রিট পিটিশন মামলা দায়ের করে। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১২ সালের পহেলা মার্চ পাহাড় টিলা কাটা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে উচ্চ আদালত রায় দেন। এতে বলা হয় পরিবেশ রক্ষায় এ আইনের মাধ্যমে অপরাধ দমনে জরুরি প্রয়োজনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে পারবে। এতকিছুরপরও থামছেনা পাহাড় ও টিলা কাটা।

খুঁজ নিয়ে জানা যায়, পাহাড় ও টিলা কাটার প্রভাবশালীদের আন্ডারগ্রাউন্ডে রয়েছে বড় একটি নেটওয়ার্ক। তাদের বিরুদ্ধে কোন সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরই কতিপয় কথিত ভূইফোঁড় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ব্যবহার করে নিজেদের সাফাই দিয়ে থাকে। পাহাড় কাটার একটি অংশ হিসেবে এই অনলাইন নিউজপোর্টালগুলো ব্যবহার করে প্রভাবশালীরা। সত্যকে মিথ্যা চাউড় করিয়ে নিজেদের দাপুট আর ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে চায় এই সিন্ডিকেট গ্রুপ। তবে সচেতন মহল মনে করেন পাহাড় ও টিলা কাটার ভাইরাস দূর করতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তরকে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থা বা বিশেষ কোন বাহিনীর সহযোগীতায় এই ভাইরাস প্রতিরোধ করে সিন্ডিকেট গ্রুপদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় সময়ের সাথে সাথেই বিলীন হয়ে যাবে পরিবেশের ভারসাম্য। এবং কড়া নজরধারীতে রাখতে হবে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা পুলিশের দিকে। প্রয়োজেনে ইউএনও-অফিসার ইনচার্জের কল লিষ্ট সহ ‌‌‍সিডিআর সংগ্রহ করতে হবে। কারন তাদের ঈশারা ইংঙ্গিত ছাড়া অর্থলোভীরা এরকম পরিবেশ বিনষ্টের কর্মকান্ডে লিপ্ত হতে পারে না।

সচেতন মহল আরো মনে করেন অনতিবিলম্বে বাংলাদেশ সরকার’কে বন ও পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। পরিবেশ ধ্বংসকারীদের কঠোর হস্তে ধমন করে তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে পারলে নিপাত যাবে পাহাড় ও টিলা কাটা ভাইরাস গ্রুপ।

শেয়ার করুন!