আরো ভয়ংকর হয়ে সংক্রমিত হতে পারে করোনা



সিএনবাংলাদেশ ডেস্ক :

(কভিড-১৯) বিশ্বের মোট জনগোষ্ঠীর ৭০ শতাংশ সংক্রমিত হতে পারে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বনামধন্য ‘কম্পিউটেশনাল ও সিস্টেম ইমিউনোলজি’ (রোগ প্রতিরোধবিদ্যা গণনা ও ব্যবস্থা) বিশেষজ্ঞ ড. জ্যাকব গ্লানভিল সম্প্রতি এ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ‘ডিস্ট্রিবিউটেড বায়ো’ করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।

করোনাভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণ নিয়ে ড. জ্যাকব গ্লানভিলের আগেও অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। গত মাসে হংকংয়ের শীর্ষ জনস্বাস্থ্য মহামারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক গ্যাব্রিয়েল লিউং বলেছেন, ঠেকানো না গেলে করোনাভাইরাস বৈশ্বিক জনগোষ্ঠীর ৬০ থেকে ৮০ শতাংশকে সংক্রমিত করতে পারে। এ কারণেই তিনি এক মাস আগেই বিশ্বকে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় চীনের মতো উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেছিলেন।

এদিকে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ মহামারি বিশেষজ্ঞ ও অণুবিজ্ঞানী মার্ক লিপস্টিচও করোনাভাইরাসে বিশ্বের ৭০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সিবিএস নিউজের সঙ্গে এ মাসের শুরুতে তিনি যখন কথা বলছিলেন তখন বিশ্বে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা তিন হাজার এবং সংক্রমণ ৯০ হাজার ছাড়িয়েছে। তিনি বলেছিলেন, আগামী দিনগুলোতে যা ঘটতে যাচ্ছে তার তুলনায় ওই সংখ্যা কিছুই না।

মার্ক লিপস্টিচের মতে, ‘বিশ্বের মোট জনগোষ্ঠীর ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ এবং বয়স্করা সংক্রমিত হবে। আমরা জানি, এমন কিছু লোকের মধ্যে সংক্রমণ ঘটেছে যাদের

মধ্যে কোনো বা প্রায় কোনো ধরনের করোনা সংক্রমণের উপসর্গ নেই। এ ধরনের লোক কত আছে তা আমরা জানি না।’

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ‘ডিস্ট্রিবিউটেড বায়ো’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যাকব গ্লানভিল গত সোমবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের টিভি চ্যানেল সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বলেছেন, করোনাভাইরাসের টিকা/প্রতিষেধক আবিষ্কারে দেরি হতে পারে। এরই মধ্যে তাঁরা পরীক্ষামূলকভাবে যে টিকা প্রয়োগ করছেন সেগুলো বয়স্ক ও ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তেমন কাজ করে না।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ‘লকডাউন’, ‘কারফিউ’ চলছে। সংক্রমিত হয়ে প্রবীণরাই বেশি মারা যাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা প্রবীণদেরই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েল সরকার তাদের দেশের বয়স্ক ব্যক্তিদের তুলনামূলক কম বয়সীদের থেকে আলাদা রাখতে বলেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাফতালি বেনেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় মানুষে মানুষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো শিশু বা কম বয়সীদের থেকে বয়স্কদের কার্যত আলাদা করে ফেলা। তাঁর মতে, ‘করোনাভাইরাস মহামারির সময় সাধারণ সামাজিক দূরত্ব, টেস্টের (পরীক্ষা) চেয়েও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক উদ্যোগ হলো বয়স্কদের তরুণদের থেকে আলাদা করা।’

তিনি বলেন, বয়স্করা যখন শিশু ও তরুণদের সংস্পর্শে আসেন তখন করোনাভাইরাস প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। দাদা-দাদি বা নানা-নানি যখন তাঁদের নাতি-নাতনিদের সংস্পর্শে আসেন বা আদর করতে তাদের জড়িয়ে ধরেন তখন এই ভাইরাস শিশুদের থেকে তাঁদের শরীরে যায়। এটি বয়স্কদের জন্য খুবই মারাত্মক।

ইসরায়েলের ওই মন্ত্রী জানান, যে সব দেশে করোনাভাইরাসে প্রাণহানি ঘটছে সেখানে শিশু বা তরুণদের মৃত্যুর হার শূন্য থেকে শূন্য এক শতাংশ। অন্যদিকে ৭০ থেকে ৮০ বছর বয়সী প্রতি পাঁচজনের একজনের করোনাভাইরাসে মৃত্যুর ঝুঁকি আছেন।

নাফতালি বেনেটের মতে, বয়স্ক লোকদের দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন বা আলাদা করে রাখতে হবে। মহামারি শেষ হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আলাদা করে রাখতে পারলেই তাঁরা প্রাণে বেঁচে যাবেন। বিশ্বে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়া লোকজনের বড় অংশই তাদের সংক্রমণ হয়েছে এটা বুঝতেই পারে না।

তিনি বলেন, দাদা-দাদি, নানা-নানির দেখাশোনা করুন, যত্ন নিন। তবে দূর থেকে। ফোনে, স্কাইপে তাঁদের সঙ্গে কথা বলুন, মেসেজ পাঠান। তাঁদের খাবার পৌঁছে দিন। তাঁদের বাড়িতে-ঘরে ঢুকবেন না। তাঁদের জড়িয়ে ধরবেন না। কারণ জড়িয়ে ধরে আপনারা তাঁদের ঝুঁকিতে ফেলছেন।

নাফতালি বেনেট বলেন, বয়স্ক লোকদের আজীবন আলাদা থাকতে হবে না। আগামী কয়েক মাসে যা হতে যাচ্ছে তা হলো—অবশিষ্ট জনগোষ্ঠী প্রত্যাশা করুক বা না করুক, তারা করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হতে যাচ্ছে। বেশির ভাগই করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হবে। জানতেও পারবে না যে তারা ওই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে। তিন-চার সপ্তাহ পর তাদের শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা জন্মাবে।

তিনি বলেন, জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমণের শুরু হয় শূন্য দশমিক এক শতাংশ থেকে। এরপর তা ১ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ, ১০ শতাংশে উন্নীত হয়। এভাবে বাড়তে বাড়তে যখন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত সংক্রমিত হবে এবং তাদের শরীরে ওই ভাইরাস প্রতিরোধ ক্ষমতা জন্মাবে তখন মহামারি থামবে। তখন বয়স্ক ব্যক্তিরা বাড়ি থেকে বের হতে পারেন। এটি হতে এক মাস, দুই বা তিন মাস বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।

শেয়ার করুন!