কোম্পানীগঞ্জে বাপ-বেটা মিলে হজম করলো প্রায় আড়াইশত কোটি টাকা রাজস্ব !



নিজস্ব প্রতিবেদক :

মোহাম্মদ আলী,ছবি সংগৃহীত। বাংলাদেশ সরকারের শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের পর কারাগারে জায়গা হলো কোম্পানীগঞ্জের চিহ্নিত পাথর খেকো মোহাম্মদ আলীর। কিন্তু রহস্যজনক কারনে আজও সেই আত্মসাতকৃত টাকা সরকার উদ্ধার করতে পারে নি। বাপ-বেটা মিলে শত শত কোটি টাকা সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে সেই টাকা কড়ি। ছেলে মোহাম্মদ আলী কারাগারে থাকলেও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যে দিবালোকে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পিতা জিয়াদ আলী। তার পিতাও একজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। অভিযোগ রয়েছে থানা পুলিশকে মাসোহারা বড় অংকের চাঁদা দিয়ে এলাকায় চুষে বেড়ায় জিয়াদ আলী। তারা অবৈধ পন্থায় গড়ে তুলেছে বিলাশ বহুল বাড়ি, গাড়ি সহ অটল সহায় সম্পত্তি। স্থানীয় এলাকার সচেতন নাগরিকরা তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে নারাজ। রয়েছে তাদের একটি সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট বাহিনীও। যে কোন ধরনের সন্ত্রাসী তান্ডব লীলা চালাতেও তারা দ্বিধা বোধ করে না। এভাবেই চলে তাদের নিত্য দিনের কার্য্যকলাপ।

এদিকে খুজ নিয়ে দেখা যায়, ‘পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় থেকে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫’র অধীনে সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহ আরেফিন টিলা অবৈধভাবে কেটে প্রতিবেশ ব্যবস্থার ক্ষতি সাধন করায় ক্ষতিপুূরণ আদায়ের লক্ষ্যে একটি নির্ধারণ বিষয়ক কমিটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। এই প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে থলেড় বিড়াল।’ মেসার্স বশির এন্ড কোম্পানী নামক একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫ হেক্টর ভূমি লীজ গ্রহণ করে নির্বিচারে টিলা কেটে পাথর উত্তোলন করে পরিবেশ বির্পযয় তান্ডব চালায়। এমনকি সাবলীজও দেয় অনেক ভূমি। এতে খনিজ সম্পদ আহরনের ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণ নীতিমালা ১৯৯৭ইং- অনুসারে পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণের বাধ্যবাধকতা লঙ্গন করেছে ওই প্রভাবশালীরা। পরিশেগত ও প্রতিবেশগত এ দুই ধরণের ক্ষতি সাধিত করা হয়। তখন সরেজমিন তদন্তপূর্বক নির্ধারণ বিষয়ক কমিটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। সেই প্রতিবেদনে তারা উল্লেখ করেন মেসার্স বশির এন্ড কোম্পানী স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে মোট (দুই শত বায়ান্ন কোটি পঁচাত্তর লক্ষ নব্বই হাজার) টাকার ক্ষতি ধার্য করা হয়। এই টাকা জরিমানা অনুযায়ি রাষ্ট্রিয় পাওনা হিসেবে থেকে যায়। যা আদৌ সরকার বাহাদুর তার কাছ থেকে এই জরিমানার টাকা উদ্ধার করতে পারে নি। বরং সেই প্রতিবেদনের ফাইলটি টেবিল বন্ধি অবস্থায় পড়ে থাকে। কারন এই প্রতিবেদনটি ১১/১১/২০০৯ইং- তারিখে অনুমোদিত হয়। এতে মোঃ শহীদুল আলম, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), সিলেট ও আহ্বায়ক, ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ কমিটির নেতৃত্ব দেন। ওই প্রতিবেদনে মোট ১০ জন কর্মকর্তা দস্তগত করেন। পরবর্তীতে রহস্যজনক কারনে গায়েব করে রাখা হয় প্রতিবেদনটি। এখনও পর্য্যন্ত সরকারিভাবে তার বিরুদ্ধে তেমন কোন উদ্দ্যেগ গ্রহণ করতে পারেনি লেজুর ভিত্তিক প্রশাসন। দুর্ণীতির শীর্ষে থাকা বাপ-বেটার অবৈধ অটল সম্পত্তির খুজও নিচ্ছেনা দুর্ণীতি দমন কমিশন (দুদক) বা কোন গোয়েন্দা সংস্থাও। এরমধ্যে গচ্ছা গেল সরকারের প্রায় আড়াইশত কোটি টাকা রাজস্ব। বাপ-বেটা মিলে হজম করলো সেই টাকা!

শেয়ার করুন!