জৈন্তাপুরে করোনা’র মতো ছড়িয়ে পড়েছে সংখ্যালঘুদের ভূমি আত্মসাত!



নিজস্ব প্রতিবেদক :

।ফলোআপ। সিলেটের জৈন্তাপুরে মহামারী করোনা ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়েছে সংখ্যালঘুদের ভূমি আত্মসাত। একসময়ে জৈন্তা-গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও কানাইঘাট স্বমিলে ছিল এক রাজ্যের বসবাস। সেই জৈন্তাপুরে নেতৃত্ব দিতেন জৈন্তার রাজা। পরিশেষে সেই জৈন্তাপুরের রাজা জৈন্তাপুর ত্যাগ করে পাড়ি জমান ভারতে। মুহুর্তেই চার খন্ডিত হয়ে পড়ে জৈন্তাপুর। পরে সৃষ্টি হলো জৈন্তা, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও কানাইঘাট নামক চারটি উপজেলা। সেই রাজ্যে প্রায় অংশে সকল বাঘিদার ছিলেন হিন্দু সনাতনধর্মালম্বীরা। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই ঐতিহ্য হারিয়ে যায়। শুরু হয় হিন্দু সনাতনধর্মালম্বীদের ভূমি আত্মসাতের হিরীক। এরমধ্যে আলোর মুখ দেখে ১৭ পরগণা। সেই মোতাবেক সকল ধর্মীয় লোকেরা একত্রিত হয়ে কাঁদে কাদ মিলিয়ে চলার পথ প্রসস্থ হয়। সেখানে কোন জাতি ভেদ প্রথার ধারধারেনা কেউ। রহস্যজনক হলেও সত্য যে, ৫নং-ফতেহপুর ইউনিয়নের হেমু নমঃশূদ্রপাড়া গ্রামের বসবাসকারী হিন্দু সনাতনধর্মালম্বীদের উপর চলে অমানবিক কার্য্যকলাপ।

 

”তাদের পনাটুক, পাখিটিকি, ডেঙ্গাই হাওর, মরাকান্দি মৌজা সহ আরো আশপাশ এলাকায় থাকা ভূমিগুলো বিভিন্ন ভাবে দখলে নিতে থাকে কতিপয় প্রভাবশালী ভূমিখেকো চক্র। এসব হাওর এলাকায় তাদের রয়েছে প্রায় শত একর ভূমি। রয়েছে তাদের বেশ কয়েকটি জলকর মহাল সামিলও। যা বর্তমানে ভূমিখেকোদের পাল্লায় পড়ে তা শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। একইভাবে গোয়াইনঘাট উপজেলার আওতায় রয়েছে আরো কয়েক একর ভূমি। তাও ভোগ করছে এই প্রভাবশালী মহল। উপজেলা প্রশাসনের গাফলতি আর প্রভাবশালীদের দাপুটে সংখ্যলঘুরা নিশ্চুপ। সে কারনে ওই প্রভাবশালীরা থেকে যাচ্ছে আইনের ধরাচোয়র বাইরে। অন্যথায় তাদের উপর চলে প্রাণনাশ সহ দেশ ত্যাগের হুমকি দমকি। রাতের আধারে বাড়ি-ঘরে চলে ষ্টিম রোলার। তাদের ভয়ে কাতরাতে হয় সংখ্যালঘুদের। যা হয়তো আজো ১৭ পরগণার নজর কাড়ে নি। এমনকি নজর কাড়েনি সিলেট ৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদেরও। সিলেট প্রশাসনের লেজুর ভিত্তিক ভঙ্গুর দশার কারনে অচিরেই হারিয়ে যাচ্ছে সংখ্যালঘুদের এসব ভোগদখলীয় মৌরসী স্বত্ত সহ লীজ গ্রহণের ভূমিগুলো। যে কোন মুহুর্তে হেমু নমঃশূদ্র পাড়া গ্রামের অর্ধশত পরিবার বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালাতে পারেন। তাদের অদূর ভবিষ্যত কি তারা আজ নিজেও জানে না।”

 

”এখন তাদের শেষ ভরশা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কণ্যা শেখ হাসিনা।” তিনি এই নির্যাতিত নিপিড়িত সংখ্যালঘুদের দিকে চোখ তুলে থাকালে হয়তো প্রভাবশালীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে তারা। অন্যথায় দেশ ত্যাগই তাদের শেষ সম্বল।

এদিকে সরেজমিন খুজ নিয়ে জানা গেছে, ইতিমধ্যে হেমু নমঃশূদ্র পাড়া গ্রামের সংখ্যালঘুরা বাপ-দাদার ভিটে মাটি ত্যাগ করে অন্যত্র সড়ে যাওয়ার জন্য পাহাড় পাদদেশ সীমান্ত এলাকায় বসবাসের স্থান খুঁজছে। যে কোন সময় তারা গ্রাম ত্যাগ করতে পারে। এতে স্পষ্ট বুঝা যায় ওই গোষ্টি কতখানি নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে সময় পারি দিচ্ছে। বিন্দুমাত্র নিরাপত্তার লেসও তাদের নেই। অন্যদিকে প্রভাবশালী হায়নার দল চারদিক ঘিরে রেখেছে কখন তাদের গিলে ফেলতে পারবে। এ অবস্থায় চলছে তাদের কীর্তিকলাপ।

এ ব্যাপারে জানতে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা পারভিনের সাথে মুটোয়ফোনে কথা বলতে চাইলে তার মুটোয়ফোন রিসিভ হয় নি। একইভাবে জৈন্তাপুর মডের থানার অফিসার ইনচার্জ শ্যামল বণিকও মুটোয়ফোন রিসিভ না করায় তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

শেয়ার করুন!