জৈন্তাপুরে সংখ্যালঘুরা পালাতে গিয়েও প্রতারনার শিকার, নিঃস্ব !



নিজস্ব প্রতিবেদক :

। পর্ব-১। সিলেটের জৈন্তাপুরের অর্ধশত সংখ্যালঘু (হিন্দু) পরিবার ভূমিখেকো প্রভাবশালীদের খপ্পরে পড়ে আজ নিস্বঃ জীবণ-যাপন করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাদের এরকম লাজুক অবস্থার জন্য দায়ি কে বা কারা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে আড়ালে ? নিপীড়িত নির্যাতিত এই হিন্দু সমাজ আজ বেকায়দায়। বাপ-দাদার ভিটেমাটি ছেড়ে পালাতে গিয়েও তারা এক প্রতারকের কবলে পড়ে হারিয়েছে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা।

জানা গেছে, প্রায় আট বছর পূর্বে হেমু নমঃশূদ্রপাড়া গ্রামের সংখ্যালঘুরা নিজের গ্রাম ত্যাগ করে পালিয়ে যাওয়ার জন্য জৈন্তাপুর উপজেলার আতাউর রহমান নামক এক ব্যক্তির নিকট থেকে পাহাড়ি সীমান্ত এলাকা ঘিলারতৈল মৌজায় প্রায় ১শ’ বিঘা ভূমি ক্রয় করে। তখন এই সংখ্যালঘুরা কিছু বাপ-দাদার সম্পত্তি বিক্রয় করে রেজিষ্ট্রারী বায়না স্বরুপ ২৬ লক্ষ টাকা প্রদান করে প্রতারক আতাউর রহমানের নিকট। কিন্তু তাদের সরলতার সূযোগ নেয় আতাউর রহমান। সংখ্যালঘুদের ২-৩ বছর দৌড়ঝাঁপ করিয়ে সেই জায়গাও সমজিয়ে দিতে পারেনি প্রতারক আতাউর। পরে তাদের টাকা ফেরতের কথা জানালেও আজো সম্পন্ন টাকা ফেরত দেয়নি। এখনও পর্য্যন্ত প্রায় ৮লক্ষ টাকা প্রতারকের পকেটে আটকে রয়েছে। এ গ্রামের বেশিরভাগ সংখ্যালঘু নিম্ন আয়ের মানুষ। যদিও তারা জলকর মহাল সামিল সহ পাহাড়সম সম্পত্তির মালিক কিন্তু তাও চিনিয়ে নিচ্ছে স্থানীয় এলাকার কতিপয় ভূমিখেকো চক্র। খোজ নিলে দেখা যাবে এসব সম্পত্তির সরকারি রাজস্ব (খাজনা) জমা দিচ্ছে সংখ্যালঘুরা আর ভোগদখলে স্বার্থান্বেষী মহল ! ‘‘সিএনবাংলাদেশ ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টালে একাধিক সংবাদ প্রকাশের পর এরকম চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে একের পর এক।’’

‘‘এদিকে খবর নিয়ে জানা গেছে, ৫নং- ফতেহপুর ইউনিয়নের হেমু মাঝপাড়া ও দত্তপাড়া গ্রামের কতিপয় প্রভাবশালীরা এরকম ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িত রয়েছে। সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি ভোগদখল বাণিজ্যে চালিয়ে বর্তমানে তারা জিরো থেকে কোটিপতি হয়ে গেছে। এছাড়াও দখলে নিয়েছে অন্তত প্রায় ৪শ’ বিঘা সরকারি গোচর রকম ভূমি। তাদের উৎপাতের কারনে এই হিন্দু সমাজ গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। শুধু তাই নয় তাদের ক্ষমতা আর দাপুটের নিকঠ হার মানতে হচ্ছে নয়াগ্রাম, মাজরটুল ও জোয়াইরটুল গ্রামবাসীও। যাকে বলে দুর্বলের উপর সবলের কালবৈশাখী ঘুর্নিঝড়। লন্ডবন্ড অবস্থার মধ্যেও বেঁচে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা বিফলে যাচ্ছে এই গোষ্ঠির। এখন কানাগুছা শুরু হয়েছে রাতের আধারে যে কোন সময় দেশ ছেড়ে ভারতে পাড়ি জমাতে পাড়ে এই অসহায় গোষ্ঠি। তবে সবচেয়ে বেশি হয়রানীর শিকার হচ্ছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোক। তারা এনিয়ে প্রতিবাদ করলে উল্টো গাড়ে চেপে বসে ভূমিখেকো প্রভাবশালী শয়তান’রা।’’

 

এনিয়ে সচেতন মহল মনে করেন, কতিপয় একটি স্বার্থান্বেষি দলের নিকট দেশের জনগণ বা আইন প্রশাসন হারতে পারে না। সংখ্যালঘুদের রক্ষায় সমাজের সকল শ্রেণী পেশার লোকদের এগিয়ে আসতে হবে। দেশের মিডিয়াকেও তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে । তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এর খেশারত সবাইকে আজ না হয় কাল দিতে হবে। এসময় তারা বলেন, সরকারের উপরও যে এর প্রভাব পড়বেনা তার নিশ্চয়তা কোথায়। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোন ঘটনা যখন বেশি ভাইরাল হয়ে যায় ঠিক তখনি বাংলাদেশ সরকারের নজর কাড়ে। বিষয়টি ছোট থাকতে কিন্তু কেউ গুরুত্বারোপ করেনা তাই এরকম অনিয়ম দুর্ণীতির ক্ষেত্রে তড়িৎ গতীতে প্রশাসনের গোয়েন্দা সংস্থা তথা দুর্ণীতি দমন কমিশনকে দ্রুত এগিয়ে আসতে হবে। এবং সরকার তথা সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি আত্মসাতকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তাহলে অচিরেই সম্ভব হবে সমাজ ও দেশ থেকে অনিয়ম দুর্ণীতি দূর করা।

শেয়ার করুন!