দক্ষিণ সুরমায় রাতের আধারে লন্ডন প্রবাসীর বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট



নিজস্ব প্রতিবেদক :

প্রবাসীর বাড়ি ঘর ভাঙচুর, ছবি- সিএনবাংলাদেশ। সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় রাতের আধারে লন্ডন প্রবাসীর বাড়ি ঘর ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে দুর্বৃত্ত সন্ত্রাসীরা। এনিয়ে লন্ডন প্রবাসী চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। জানা গেছে, গত মাসের ( ১৮ মার্চ ) রাতে দক্ষিণ সুরমা এলাকার লামাপাড়া গ্রামের মৃত হাজি ময়না মিয়ার দুই ছেলে লন্ডন প্রবাসী শামছুল ইসলাম ও আমিরুল ইসলামের বসতঘরে হামলা ভাঙচুর ও লুটপাটের তান্ডব চালায় দুর্বৃত্ত সন্ত্রাসীরা। এসময় একটি টিনশেড আধা পাকাঘর ঘুড়িয়ে দেয় সন্ত্রাসী বাহিনী।

‘সারা বিশ্ব ও দেশ যখন ছেয়ে গেছে মরনঘাতি করোনা ভাইরাস ঠিক সেই মুহুর্তে রাতের আধারে বাড়ি ঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের তান্ডব চালালো ভূমিখেকো চক্ররা। লন্ডন প্রবাসীরা বাড়ি ঘরে না থাকার সূবাধে তাদের মৌরসী স্বত্বের ভোগদখলীয় বসতভিটায় গড়ে তোলা টিনশেড আধা পাকাঘর ভেঙ্গে ঘুড়িয়ে দিয়ে রাস্তা তৈরী করার প্রায়াস চেষ্টা চালায় ওই সন্ত্রাসীরা। ঘটনার রাতে বাড়িতে থাকা লন্ডন প্রবাসীর চাচী সালেহা বেগম লুটপাটকারীদের বাধা নিষেধ দিতে গেলেও তার উপরে হামলে পরে তারা। তখন সালেহাকে লাঠিপেটা সহ শ্লীতাহানীর ঘটনা ঘটায়। একপর্য্যায় নারীর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরবর্তীতে ত্রিফল ( ৯৯৯ )’এ কল দিলে সাথে সাথে দক্ষিণ সুরমা থানার এসআই প্রদীপের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে। পরদিন সকালে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। জানা গেলো ঘটনাকারীদের আসল পরিচয়। সনাক্ত হলো তাদের জন্ম পরিচয়। ঘটনার মুল হোতা ছিলেন, একই গ্রামের পিতা আলতা মিয়ার ছেলে হেলাল আহমদ (৪২)। তার হুকুমে চলে বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের কারসাজি। তখন ঘরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর লুটপাট করা হয়। এতে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকার মালামাল চিনিয়ে নেওয়া হয়। হুকুমের তামিল হয়ে পিতা ছৈল মিয়ার ছেলে সেলিম মিয়া ( ৩৫) ঘরে থাকা ষ্টিলের পাঁচবান টিন চিনিয়ে নেয়। যার বাজার মূল্য পঞ্চাশ হাজার টাকা। এছাড়া ঘরে থাকা বিএসআরএম বিল্ডিং কাজের চারসূতার রড ৭ মন চিনিয়ে নেয়। যার বাজার মূল্য ১৮২০০শ’ টাকা হবে। তাদের অপর সহযোগী পিতা মৃত সিদ্দেক আলীর ছেলে গিয়াস উদ্দিন (৩৪) সালেহার গলায় থাকা একভরি একটি স্বর্ণের চেইনও চিনিয়ে নেয়। যার বাজার মূল্য ৪২০০০ হাজার টাকা। এসময় গং-আরো ৪/৫ জনসহ একত্রিত হয়ে মহিলাকে মাটিতে ফেলে লাথি সহ শরীরে থাকা কাপড় টানা হেচরা করে শ্লীতাহানীর ঘটায়। পরে জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে এ ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিতে স্থানীয় এলাকার কতিপয় প্রভাবশালীদের নিয়ে শালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। উভয়ের কাছ থেকে শলিসিগণ হাতিয়ে নেন একলক্ষ টাকা বন্ড। কিন্তু আজো এর কোন সূরাহ হয়নি। উল্টো দুর্বৃত্তরা প্রবাসীর সদস্যদের প্রাণনাশসহ খুন গুমের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে পরিবারবর্গ নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এই লন্ডন প্রবাসী।’

এদিকে খুজ নিয়ে জানা যায়, রাজি বাড়ী মৌজার ৩৬৮ ভিপি ৩৬৯ খতিয়ানের জে এল নং-৩৬, সিট নং-২ এ ১২৯৬ বাড়ী রকম ভূমির দাগের মোট অংশে ৮৭শতক ভূমি রয়েছে। এরমধ্যে অত্র খতিয়ানের দুই অংশ লন্ডন প্রবাসীদের আওতাভুক্ত। সেখানে দেখা যায় অত্র দাগের ম্যাপ জরিপেও বাড়ী রকম ভূমি উল্লেখ রয়েছে। অথচ ভূমিখেকো চক্ররা ক্ষমতা বলে যাতায়াতের সূবিধার্থে রাস্তা তৈরী করার নামে প্রবাসীর বসতবাড়ি ঘুরিয়ে দিয়েছে। এতে করে প্রবাসীর বাপ-দাদার বসতবাড়ি দখলে নেওয়ার পায়তারা করছে দুর্বৃত্তরা।

‘অন্যদিকে শালিস বৈঠকে কোন সূরাহা না হওয়ায় বসতবাড়ি ভাঙচুর লুটপাট ও শ্লীতাহানীর অভিযোগ এনে হেলাল আহমদ’কে প্রধান আসামি করে গং- ৮/১০জন দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে সালেহা বেগম দক্ষিণ সুরমা পুলিশ ফাঁড়িতে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) ফের দক্ষিণ সুরমা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নুরে আলম সরেজমিন তদন্ত করেছেন।’

এ ব্যাপারে জানতে নুরে আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে যথাযথ আইনানূগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে শালিসিগণের প্রধান মুরব্বি ইকবালের সহীত মুঠোফোনে কথা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমরা চেষ্টা করছি বিষয়টি সমাধানের জন্য। কিন্তু শামছুল ইসলাম প্রবাসে থাকায় সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একলক্ষ টাকা বন্ড নিতে স্থানীয় এলাকার ময়মুরব্বিরাও ছিলেন। তবে সে সময় অত্র ইউনিয়নের কোন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন না বলে জানান তিনি। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যদিও পঁচিশ হাজার টাকার উর্ধ্বে বন্ড নেওয়ার কোন আইনি বাধ্য বাধকতা নেই কিন্তু উভয়ের শান্তি শৃংখলা বজায় রাখতে এ বন্ড নেওয়া হয়েছে।

এদিকে অভিযুক্ত হেলাল আহমদ মুঠোয়ফোনে জানিয়েছেন ১৩৩৩ দাগের উপর দিয়ে রাস্তা বয়ে গেছে। সেইজন্য তারা এই বসতঘর ভাঙচুর চালিয়েছেন। কিন্তু কোন লুটপাট করেননি বলে জানান তিনি। রহস্যজনক হলেও সত্য যে, ১২৯৬ দাগে কোন রাস্তা উল্লেখ নেই। এতকিছুর পরেও এ তান্ডবলীলায় মেতে উটেছিল দুর্বৃত্ত সন্ত্রাসীরা।

অপরদিকে লন্ডন প্রবাসী শামছুল ইসলাম প্রতিবেদক’কে জানিয়েছেন ঘটনার পরবর্তী সময়ে তিনি দেশে আসেন। রহস্যজনক কারনে মাতব্বররা সেই সময় বিষয়টি সূরাহা করার জন্য তেমন কোন উদ্দ্যেগ গ্রহণ করেননি। পরিশেষে করোনা ভাইরাসের আতংকে তিনি দেশ ত্যাগী হন।

শেয়ার করুন!