জৈন্তাপুরে ব্যাবসায়িকে ঝাড়ু দিয়ে পিটিয়ে চাঁদা আদায় করলো পুলিশ!



নিজস্ব প্রতিবেদক :

ফাইল ছবি। সিলেটের জৈন্তাপুরে রাতের আধারে ঝাড়ু দিয়ে পিটিয়ে চাঁদা আদায় করলো পুলিশ! এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে জৈন্তাপুর উপজেলার ৫নং- ফতেহপুর ইউনিয়নের হরিপুর বাজার সাদ উদ্দিনের দোকানের ভেতর শুক্রবার রাত ১০টা ৫৪ মিনিটের সময় ।

জানা গেছে, করোনা আতংকে সরকারি আইন মান্য করে শুক্রবার বিকেল ৪টার পর সাদ উদ্দিন তার ভেরাইটিজ ষ্টোর দোকানটি বন্ধ করে বাড়িতে চলে যান। অন্যান্য দিনের মতো রাত আনূমানিক ৯টার দিকে তিনি ফের এসে সাটার নামিয়ে দোকানের ভেতরে ঘুমিয়ে পড়েন। একপর্য্যায় রাত ১০টা ৫৪ মিনিটের সময় জৈন্তাপুর মডেল থানার ডিউটিরত একদল পুলিশ তার দোকানে এসে হানা দেয়। এসময় দোকানের বাইরে থেকে পুলিশ পরিচয়ে এসআই আজিজ তাকে দোকানের সাটার খুলতে ডাকা-ডাকি করেন। তখন ব্যাবসায়ী সাদ উদ্দিন ঘুম থেকে উটে দোকানের সাটার খুলে দেখেন একদল পুলিশ তার দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু কোনো কিছু বুজে উঠার আগেই এসআই আজিজ তার ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ঢুকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে বসেন। অন্যথায় থাকে মাদক মামলায় জড়িয়ে কোর্টে চালানসহ দোকান ব্যাবসা বন্ধের হুমকি দেন। পরে প্রাণ ভয়ে ওই ব্যবসায়ি তাকে নগদ ৫হাজার টাকা দিতে রাজি হলেও সে ক্ষিপ্ত হয়ে দোকানে থাকা ঝাড়ু দিয়ে এলোপাতাড়ি ভাবে সাদ’কে মারধর করতে থাকে। এসময় এসআই আজিজ দোকানের ক্যাসে হাত লাগিয়ে টাকা পয়সা চিনিয়ে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় সে উল্টো হুমকি দেয় বিষয়টি কাউকে না জানাতে। এরকম একটি ভিডিও ফুটেজ ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে সামাজিক ও যোগাযোগ মাধ্যমে। ওই ভিডিও ফুটেজ লক্ষ্যে করলে দেখা যায় দোকান ব্যবসায়িকে কিভাবে নির্যাতন চালাচ্ছে এসআই আজিজ।

এ ব্যাপারে দোকান ব্যবসায়ি সাদ উদ্দিন প্রতিবেদক’কে জানিয়েছেন, বিশ্বসহ দেশ যখন করোনাভাইরাসে আতংক সেই মুহুর্তে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ চাঁদা আদায়ে লিপ্ত। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দোকানে যদি সিসি ক্যামেরা না থাকতো তাহলে এ ঘটনা জনসম্মূখে তুলে ধরা যেতোনা। অপরএক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দোকানের ক্যাসে প্রায় ১০-১৫ হাজার টাকা ছিল। সেই টাকার মধ্যে কত টাকা চিনিয়ে নেওয়া হয়েছে তা তিনি ধার্য্য করতে পারেন নি। এসময় তিনি এর প্রতিকার চেয়ে ন্যায় বিচার পেতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন।

এ ঘটনার সত্যতা জানতে এসআই আজিজের মুঠোয়ফোনে একাধিকবার কল দিলে তার মুঠোয়ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তার মুঠোফোন নং- ০১৭১২-০৭৫৬৬০। তবে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শ্যামল বণিকের সাথে মুঠোয়ফোনে আলাপের চেষ্টা করলে তার মুঠোয়ফোন রিসিভ না হওয়ায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে দোকান ব্যাবসায়ির বড় ভাই জলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, ভিডিও ফুটেজটি সামাজিক ও যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থানা পুলিশ সেটা সড়িয়ে ফেলতে বিভিন্নভাবে হামলা মামলা’র হুমকি অব্যাহত রেখেছে । তিনি বলেন, সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজটি সংরক্ষিত করে রাখা হয়েছে কারন পুলিশ যে কোন সময় তার ও পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিসাধন করতে পারে।

শেয়ার করুন!