❛কলের গাড়ি❜র পাশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মেয়র



সিএনবাংলাদেশ অনলাইন :

করোনা পরিস্থিতিতে সিলেটে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ ও সংস্কৃতিকর্মীদের যৌথ প্রয়াসে চলছে নিম্ন মধ্যবিত্তদের জন্য খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম। মুঠোফোনে কল করলেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে ❛কলের গাড়ি❜।

এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদ ড. একে আব্দুল মোমেন ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত জানান, এই উদ্যোগে যেমন হাজারো পরিবার উপকৃত হচ্ছে, তেমনি অনেকেই এই উদ্যোগের পাশে দাঁড়িয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন ও সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সম্প্রতি এই কাজের খোঁজ নিয়েছেন। এমন মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি সহযোগিতা করেছেন।

সম্মিলিত নাট্য পরিষদ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতৃবৃন্দ জানান, সিলেটের সংস্কৃতি কর্মীদের সম্মিলিত এই মানবিক উদ্যোগে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ অনেকেই পাশে দাঁড়িয়েছেন।

সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সভাপতি মিশফাক আহমেদ মিশু জানান, সাধারণ ছুটি ও লকডাউন পরিস্থিতিতে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের পাশাপাশি নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির হাজার হাজার পরিবার বিপাকে পড়েছেন। তাদের রোজগারের পথ বন্ধ; কারো কাছে হাত পাততে পারছেন না, ত্রাণের জন্য লাইনে দাঁড়ানোও সম্ভব হচ্ছে না। এমতাবস্থায় অনাহারে বা অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন অনেকে। মূলত তাদের কথা ভেবেই ❛কলের গাড়ি❜ চালু করা হয়েছে।

সমাজের সামর্থ্যবানদের এমন মানবিক উদ্যোগের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে গত ২৬ মার্চ থেকে দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে জরুরি সেবা ছাড়া সবরকম প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়। জনসমাগম বন্ধ করে মানুষকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেয় সরকার ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এমন পরিস্থিতিতে প্রথমে সিলেটের সংস্কৃতিকর্মীরা সাবান, জীবাণুনাশক স্প্রে, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ শুরু করেন সাধারণ মানুষের মাঝে।

এরপর পহেলা এপ্রিল থেকে সম্মিলিত নাট্য পরিষদের উদ্যোগে খাদ্য সহায়তার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ৩ এপ্রিল থেকে চালু হয় ❛কলের গাড়ি❜। প্রকাশ করা হয় মোবাইল ফোনের হটলাইন।

মুঠোফোনে কল করলে স্বেচ্ছাসেবকরা মোটর সাইকেল ও গাড়িতে করে বাড়ি গিয়ে খাবার পৌঁছে দিতে শুরু করেন। সকল গোপনীয়তা রক্ষা করে মূলত নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে সহমর্মিতার খাবার প্যাকেট পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

এরপর ১৮ এপ্রিল থেকে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সদস্যরা যুক্ত হন এই কর্মযজ্ঞে। যৌথ এই উদ্যোগে চলছে ❛কলের গাড়ি❜র কার্যক্রম।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের আগামী দিনগুলোতেও এই খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সম্মিলিত নাট্য পরিষদ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতৃবৃন্দ।

শেয়ার করুন!